সোনার পদক জিতে বাবার ঋণ শোধ করল কুস্তিগীর মেয়ে

খেলাধূলার প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ তার ছিল না। কিন্তু তার বাবা আর বড় বোনের শখ ছিল বাড়ির ছোট মেয়েটি একদিন ক্রীড়াঙ্গণ দাপিয়ে বেড়াবে।

বাবা ও দিদির অনুপ্রেরণাতেই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য পেয়েছেন সোনাজয়ী কুস্তিগির নভোজ্যোত কৌর। মেয়েকে এই সাফল্যের সিঁড়িতে তুলতে গিয়ে চাষী বাবা ঋণে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছেন। এবার সেই সোনার পদক বেচে বাবার ১৩ লাখ টাকা ঋণের বড় অংশ শোধ করলেন ২৮ বছর বয়সী নভোজ্যোত কৌর।
গল্পটা অনেকটা গীতা ফোগাত ও ববিতা ফোগাতের মতোই। যাদের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছিল আমির খান অভিনীত দুনিয়া কাঁপানো বলিউড মুভি ‘দঙ্গল’। গীতা-ববিতার বাবা মহাবীর ফোগাত যেভাবে ওদের তিল তিল করে তৈরি করেছিলেন, ঠিক সেই ভাবে পাড়া-পড়শিদের কোনোরকম আপত্তিতে কান না দিয়ে পাঞ্জাবের বাগারিয়া গ্রামের চাষী সুখচ্যায়েন সিং দুই মেয়ে- নভোজিত ও নভোজ্যোতকে কুস্তিগির গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ১৩ লাখ টাকা দেনার দায় চেপে বসে তার উপর।

২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ জেতার পরেই কোমরে চোট পেয়ে প্রায় দুই বছর কুস্তির বাইরে চলে গিয়েছিলেন নভোজ্যোত। ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি তিনি।

সেই সময় দিদির অনুপ্রেরণাই ফের কুস্তির লড়াইয়ে নামতে একপ্রকার বাধ্য হন তিনি। ছোট মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে পুরো খরচটাই করেছিলেন বাবা সুখচ্যায়েন সিং। মাত্র ৪ একর জমিতে চাষ করে সেই খরচ জোগাতে বিরাট অঙ্কের অর্থ ধার করতে হয় দরিদ্র কৃষককে। তবে সেই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কখনই মেয়েদের বুঝতে দেননি বাবা সুখচ্যায়েন।
কিরঘিস্থানের রাজধানী বিসকেকে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৫ কেজি ফ্রি-স্টাইল বিভাগে জাপানের মিয়া ইমাইকে হারিয়ে সোনা জেতেন নভোজ্যোত কৌর। আন্তর্জাতিক স্তরে মেয়ের এমন সাফল্যে তাই উচ্ছ্বসিত বাবা বলেন, ‘ সারা দেশকে ও গর্বিত করেছে। এবার আমি চাই অলিম্পিকে সোনা জিতুক। ‘

নভোজ্যোত ও তাই চান। তিনি চান ভবিষ্যতে আরও সোনার পদক জিতে দেশকে সম্মান এনে দেওয়ার পাশাপাশি বাবার পুরো ঋণ শোধ করে দেবেন।