লড়াই করেও ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলনা বাংলাদেশ

91

ভলিতুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জমিয়েও ভলিবলের শিরোপা হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন ভলিবলের ফাইনালে তুর্কদের কাছে ৩-১ সেটে টাইটেল খোয়ায় আলি পোর পোরজির শিষ্যরা।

মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রথম সেটে এক সময় ২২-২২ হয়ে যায় পয়েন্ট। সেখান থেকে তুর্করা এক পয়েন্ট ঘরে তোলার পর বাংলাদেশও এক পয়েন্ট নিয়ে ২৩-২৩ করে। পরে ২৪-২৪ এবং শেষ পর্যন্ত ২৫-২৪ ও ২৬-২৪ করে সেটই ঘরে তোলে লাল-সবুজরা।

দ্বিতীয় সেটে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পরে ধীরে ধীরে খেলায় ফিরতে থাকে স্বাগতিকরা। বেশিরভাগ সময়ই অবশ্য অতিথিরাই পয়েন্টে এগিয়ে থেকেছে। সেখান থেকে এক সময় পয়েন্ট ১৫-১৫ করে ফেলে বাংলাদেশ।

এই সেটও পরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগোতে থাকে। শেষপর্যন্ত অবশ্য ২৫-২০ পয়েন্টে সেট জিতে নেয় তুর্করা। ফেরায় ১-১ সেটের সমতা।

তৃতীয় সেটে শুরুতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। অতিথিদের থেকে পাল্টা জবাবও আসতে থাকে। তুর্কমেনিস্তান এগিয়েও যায় দ্রুতই। ব্যবধান বাড়তে থাকে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। সুযোগ পেলেই পয়েন্ট তুলে নিচ্ছিল বাংলাদেশও।

চাপটা ধরে রেখে অবশ্য ব্যবধান অনেক বাড়িয়ে চলে তুর্কমেনিস্তান। ২০-১৫ পয়েন্ট করে ফেলে তারা। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ধরে রেখে বাংলাদেশ ২১-২৪ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো যায়নি। ২৫-২১ পয়েন্টে সেট জিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অতিথিরা।

খেলা গড়ায় চতুর্থ সেটে। শুরুতেই পয়েন্ট তুলে নেয় বাংলাদেশ। লিডটা ধরে রেখেই এগোতে থাকে। কিন্তু ৯ পয়েন্টে যেয়ে সমান পয়েন্ট ঘরে তুলে ফেলে অতিথিরা। এরপর আবারও হাড্ডহাড্ডি লড়াইয়ে রোমাঞ্চ ছড়ায় কিছুক্ষণ।

সেটের মাঝামাঝি এসে নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। ২৫-১৭ পয়েন্টে সেট হেরে শেষঅবধি শিরোপাই খোয়ায়। ৩-১ সেটে জিতে উল্লাসে মাতে তুর্করা।

টুর্নামেন্টে আগে ‘এ’ গ্রুপ থেকে নেপালকে ৩-১ সেটে, মালদ্বীপকে ৩-০ সেটে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই সেমির টিকিট পায় বাংলাদেশ। সেখানে কিরগিজস্তানের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ম্যাচে ৩-২ সেটে জিতে ফাইনালে আসে স্বাগতিকরা।

অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপের সেরা তুর্কমেনিস্তান। সেমিতে নেপালকে ৩-০ সরাসরি সেটে হারানো দলটি এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট ছিল। খেলোয়াড়দের উচ্চতা এবং কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল তুর্করাই। স্বাগতিক কোচ সেটি মেনে নিয়েও লড়াই জিততে চেয়েছিলেন। হল না!