পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ভিসা না দেয়ায় ভারতে সব খেলা বন্ধ করলো অলিম্পিক

1976

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ওই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পাকিস্তানকে বয়কটের রাস্তায় হেঁটেছে ভারত। কূটনীতির বেড়া ডিঙিয়ে সেই বয়কট ক্রীড়া, সংস্কৃতি সহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছিল।ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ভারত। কয়েক দিন ধরে ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার জন্য জোড় দাবি জানিয়েছে ভারত। এবার উল্টো নিষিদ্ধ হলো ভারত।

নয়াদিল্লির শুটিং বিশ্বকাপে দুই পাকিস্তানি শুটারকে ভিসা না দেওয়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তোপের মুখে পড়ল ভারত। এর প্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে আগামী দিনে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করার কথা জানাল তারা।

আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি অনুমোদিত কোনও প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারবে না ভারত। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাকেও ভারতে প্রতিযোগিতা না করার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। অলিম্পিক কমিটির বক্তব্য, প্রতিযোগীদের ভিসা না দেওয়ার ঘটনা ‘অলিম্পিক চার্টার’-এর বিরোধী। রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়ে কোনও আয়োজক দেশ কাউকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া থেকে আটকাতে পারে না।

অলিম্পিক কমিটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা পুরো বিষয়টি জানার পর শেষ চেষ্টা করেছিলাম। ভারত সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। কিন্তু পাকিস্তানি প্রতিযোগীদের ভারতে হতে চলা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করাতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়েই অলিম্পিক এগজিকিউটিভ বোর্ড ভারত সরকার এবং ভারতের জাতীয় অলিম্পিক সংস্থার সঙ্গে সব রকমের আলোচনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দিনে ভারত অলিম্পিক কমিটি অনুমোদিত যে সমস্ত প্রতিযোগিতার আবেদন করেছিল বা করবে বলে ভেবেছে, বাতিল করা হল সেই সমস্ত কিছুই।’

প্রতিযোগীদের জন্য কোনও রাজনৈতিক বাধা থাকবে না, এই লিখিত প্রতিশ্রুতি দেবার পরই ভারতকে প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে দেওয়ার কথা ভাবা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থা।

আগামী দিনে অলিম্পিক সংস্থা অনুমোদিত বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পরিকল্পনা করছিল ভারত। ২০২৬ সালে যুব অলিম্পিকস, ২০৩০ সালে এশিয়ান গেমস এবং ২০৩২ সালে অলিম্পিকস করার কথা ভেবেছিল নয়াদিল্লি। অলিম্পিক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে নিশ্চিত ভাবেই সেই প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘সিআরপিএফ’ এর ৪৪ জন সদস্য নিহত হন।এ নিয়ে ভারতের সন্দেহের তীর পাকিস্তানের দিকে।আর তা নিয়ে উত্তেজনা এখন চরমে।