আক্ষেপ, হাহাকারের বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম

২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। নির্মাণ কাজে সময় লেগেছিল আট মাসের মত। ২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তদকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করেছিল।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আগে আইসিসি যুব বিশ্বকাপ এবং জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ “এ” দলের মধ্যকার ৪ দিনের একটি এবং একদিনের একটি করে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু এই স্টেডিয়ামের। আর ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পায় বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম।

আন্তর্জাতিক তকমা লাগার পর গেল ১৩ বছরে সেখানে আয়োজন হয়েছে মাত্র একটি টেস্ট আর পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ।

২০০৬ সালের পর থেকে আর একটি বল ও গড়ায় নি দেশের চতুর্থ এই টেস্ট ভেন্যুতে। ১৮ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে প্রেসবক্স, গ্যালারি প্যাভিলিয়ন গ্যালারি,ভিআইপি গ্যালারি সহ বাকি সবকিছুই রয়েছে। নেই কেবল আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনও মাঠে টানা পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হলে সে স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা হারায়। সেই অর্থে, ২০০৬ সালের পর থেকে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মর্যাদা হারিয়েছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। ২০০৬ সালে শুরু ২০০৬ সালেই শেষ। ২০০৬ সালের পাঁচ ডিসেম্বর শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৬ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

২০০৬ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই উপমহাদেশের ক্রিকেট পরাশক্তি শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল হাবিবুল বাসারের বাংলাদেশ।

আর ২০০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখটি কি এত সহজে ভোলা যায়? ৯৬ এর বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়। মাশরাফি-সৈয়দ রাসেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২১২ রান করে শ্রীলঙ্কা।

২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহম্মদ আশরাফুল আর আফতাব আহমেদের ব্যাটে ভর করে জয়ের বন্দরে নোঙর করেছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে আফতাবের ২১ বলে ৩২ রানের ইনিংসটি যারা দেখেছেন তারা যেন স্বপ্নেই বুদ ছিলেন। সে ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ও হয়েছিলেন আফতাব।

স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করা সেই শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের কথা হইত ভুলতে বসেছে অনেকে। কারণ গত ১৩ বছরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচের মুখ দেখে নি উত্তরবঙ্গের এই একমাত্র স্টেডিয়ামটি।

এর পরের যে তিন ম্যাচ হয়েছে এই মাঠে তার সবকটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। কেনিয়ার বিপক্ষে একটি বাকি দুটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অর্থাৎ ৫ টি ওয়ানডে ম্যাচের চারটিতেই লাল সবুজের জয়। তবে একই বছরের মার্চে একমাত্র টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আয়োজিত ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যানঃ

কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের ৩০০ পেরোনো দলীয় ইনিংস। বাংলাদেশ ৩০১/৭। ওই মাঠের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। দ্বিতীয়বারের মত ১০০+ রানে জয় এটি। সেই ম্যাচেই রঙিন পোশাকে শাহাদাত রাজিবের অভিষেক।

• শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলীয় সর্বনিম্ন ১১৮ রানের ইনিংসটি ও বাংলাদেশের।

• ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৬ রানের ইনিংস সনাথ জয়সুরিয়ার।

• সেরা বোলিং ফিগার ৫/৩৩ আব্দুর রাজ্জাকের
• সর্বোচ্চ ৮ উইকেট আছে মোহাম্মদ রফিকের।

• সর্বোচ্চ ২১০ রান শাহরিয়ার নাফিসের।

• সেরা অলরাউন্ড পারফরমার মাশরাফি বিন মোর্তজা ব্যাট হাতে ১৭০ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৭ উইকেট।

একামাত্র টেস্টের পরিসংখ্যানঃ

• সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস শ্রীলঙ্কা ৩১৬/১০
• সর্বনিম্ন দলীয় ইনিংস বাংলাদেশ ২০১/১০
• ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস উপল থারাঙ্গা ১৬৫ রান
• সেরা বোলিং ফিগার ৭৯/৫ মুত্তিয়া মুরালিধরন।

এক বছরে পাঁচ ওয়ানডে আর এক টেস্ট ম্যাচ দিয়ে যবনিকাপাত ঘটেছে এই স্টেডিয়ামের। অল্প কটি ম্যাচেই অর্জনের পাল্লা বেশ ভারী। অথচ আজ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে “ডি” গ্রেডের স্টেডিয়ামে নেমে এসেছে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম।

উল্লেখ্য, এটি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ সহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ টি জেলার একমাত্র আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। যা পূর্বে বগুড়া বিভাগীয় স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল।

লিখেছেন: আরমান হোসেন পার্থ।