বাংলাদেশিদের অপমান করে গণপিটুনি খেয়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা

ডানপাশের ছবিটি প্রতীকি এবং প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত। বামের ছবিটি ইমরান খানের পাকিস্তান দলের এবং ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

দেখতে দেখতে বিজয়ের ৪৮তম বছরে পা দিলো লাল-সবুজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। গতকাল ১৬ই ডিসেম্বর ছিলো বিজয় দিবস। বিজয় দিবসের দিনটি পেরিয়ে গেলেও বিজয়ের মাস এখনো চলছে। এরই সু্বাদে আজকে ক্রিকেটাঙ্গনে পাকিস্তানিদের বাংলাদেশিদের সঙ্গে করা অভদ্রতা সম্পর্কে কিছু কথা বলবো।

পাকিস্তানের সর্বশেষ নির্বাচনে জয় লাভ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক ইমরান খান। যাকে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর নেতাদের একজন হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। আমি এখন যে ঘটনাটা বলবো, সেটা তাকে ঘিরেই।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৯ বছর পর ১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে খেলতে এসেছিলো পাকিস্তানের জাতীয় দল। সেখানে ছিলেন ইমরান-রমিজের মতো নামকরা ক্রিকেটাররাও। অতিথি পরায়ণ জাতি বাংলাদেশিরা সেসময় তাদের বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে আয়োজনের কমতি রাখেনি। ফুলের তোড়া নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন অনেকেই। ইমরান খানরা এগিয়ে আসলে তাঁরা তাদের সেসব ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু ইমরান খান সেগুলো গ্রহণ করার বদলে মাটিতে ফেলে বাংলাদেশিদের দেখানো সম্মানকেই পদতলিত করেন।

শুধু কি তাই? সেদিন বাংলাদেশিরা তাকে সালাম দিলে তিনি তাদের চরম অপমান করেন এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশিদের হিন্দু বলে আখ্যা দিয়ে নমস্কার করেন। এসবের জের ধরে তীব্র ক্ষোভের এক পর্যায়ে চট্টগ্রামে দর্শকরা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের গণপিটুনি দিয়ে ম্যাচটি পন্ড করে দেন ।

এরপরও নানা সময় রমিজ-ইমরানরা বাংলাদেশকে নানাভাবে অবজ্ঞা করেন। ২০১৫ সালে পাকিস্তান যে সিরিজে বাংলা ওয়াশের লজ্জা পায়, সে সিরিজের আগে টানা ১৬ বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় শূন্য ছিলো বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানকে তুলে ধরে রসিকতা করে পাকিস্তানিরা প্রথমে ম্যাচের আগে টসই করতে চায়নি । তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের সাথে খেলার আগে আবার কিসের টস!

সবশেষ আরেকটা কথা বলে শেষ করতে চাই, খোদ পাকিস্তানের এক সাংবাদিকই এবছর ইমরান খানকে বলেছিলেন তার দল যেন আল্লাহর ওয়াস্তে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের মতো উন্নত করে দেন। বুঝতেই পারছেন বাংলাদেশের মর্যাদা কতটুকু। দেশটি তাদের কোমলমতি শিশুদের শিখাচ্ছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ভাই-ভাই ছিলো । হিন্দুরা (ভারত) তাদের ষড়যন্ত্র করে আলাদা করেছে । একইসঙ্গে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ বা বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের ঘটনাও তারা বরবারই অস্বীকার করে আসছে। আবার ইমরান খানকে সম্প্রতি যখন ১৯৭১ এর ঘটনার জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়, তিনি তখনও অবজ্ঞার সুরে বলেছিলেন, ‘কেন আমরা ক্ষমা চাইবো?’

দেশটি বাংলাদেশকে কখনোই সম্মান দেয়নি । ১৯৪৭ থেকে আজ অবধি তারা শুধু বাংলাদেশের অমঙ্গলই কামনা করেছে ।