ম্যাচ না জিতলেও বাংলাদেশের মানুষের মন জিতেছেন নাইম

টি টুয়েন্টির এই যুগে সে লক্ষ্য অসম্ভব না হলেও টি-টুয়েন্টিতে দুর্বল বাংলাদেশের কাছে তা মোটেও সাহজ ছিল না। একদিকে ভারতের ঘরের মাঠ, তারওপর সিরিজ জয়ের একটি প্রচ্ছন্ন চাপ। শুরুতেই বোঝা গেল, এই দুই চাপে স্বস্তিতে নেই টাইগাররা। দুই বলে দুই সতীর্থকে চোখের সামনে বিদায় নিতে দেখলেন তরুণ ওপেনার নাইম এক অনবদ্য ইনিংসের মাধ্যমে ম্যাচ না জেতাতে পারলেও বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করে
নিয়েছেন।

দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন দিশেহারা তখনই ভারতের বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে নাগপুরের ওই বিদর্ভ স্টেডিয়ামের হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকের মুখে কুলুপ এঁটে দিলেন। মাথায় তুলে দিলেন হাত। তার প্রতিটি বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিই যেন তাদের চোখ কাঁটা হয়ে বিধছিল। পক্ষান্তরে বাঁধভাঙা উল্লাসের উপলক্ষ হয়ে আসছিল লাল-সবুজের গ্যালারিতে।

দুই টপ অর্ডারকে হারিয়ে তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে ইনিংস মেরামতের কাজ সারলেন নাইম। এরপর ব্যাট ছোটালেন লক্ষ্যের দিকে। সে কী আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং মাত্রই আন্তর্জাকি ক্রিকেটে পা রাখা এই তরুণের! ক্রিজের ওপাশে থাকা মোহাম্মদ মিঠুরকে সঙ্গে নিয়ে দাপুটে ব্যাটে ছোটালেন রান রথ। তাতে ক্যারিয়ারের অভিষেক ফিফটি এল ৩৪ বলে। যেখানে চারের মার ছিল ৭টি, সঙ্গে একটি ছয়ের মার। স্ট্রাইক রেট ১৫৫.৮৮। শেষ পর্যন্ত ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলে ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ফিরলেন নাইম। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ১২৬।

এরপরের গল্পটি শুধুই ডোমিঙ্গ শিষ্যদের আসা-যাওয়ার। আফিফ ০, মাহমুদউল্লাহ ৮, শফিউল ইসলাম ৪ আর মোস্তাফিজের ব্যাট থেকে এসেছে ১ রান। ১৯.২ ওভারে ১৪৪ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ৩০ রানের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল ভারত।

এদিকে নাইম একা যে রান করেছেন, বাংলাদেশের বাকি ১০ ব্যাটসম্যানে মিলেও তা করতে পারেনি। নাইম যতক্ষণ ব্যাটিংয়ে ছিলেন, ব্যাটিং যাদুতে পুরো মাঠেই মুগ্ধতার এক আবেশ ছড়িয়ে রেখেছিলেন। এমনকি ধারাভাষ্যকারদের মুখেও ছিল নাইম বন্দনা। ক্রিকেটীয় নিয়মে ভারত ম্যাচ জিতলেও মানুষের ভালবাসা জিতে নিয়েছে নাইম।