শুভ জন্মদিন ‘সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি’

ডিসেম্বর, ২০০৬ ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে চলছে রঞ্জি ট্রফি। কর্ণাটকের ১ম ইনিংসের ৪৪৬ রান তারা করতে নেমে ১৪ রানে ৪ উইকেট নেই দিল্লির। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে আসল দিল্লির উদীয়মান নক্ষত্র, সেরা ব্যাটসম্যানের বাবা মারা গেছেন।

সতীর্থরা ভাবলেন যার বাবা মারা গেল সে কীভাবে তার বাবার শেষকৃত্যের কাজ না করে আসবে না মানে সে খেলতে পারবে না। কিন্তু সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ড্রেসিং রুমের দিকে। সেই ছেলেটি যার বাবা মারা গেছে সকালে সে প্যাড পরে মাঠে নামছে। শুধু নামেই নি ২৮১ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৩৮ বলে ৯০ রান করে দিল্লিকে ফলো-অন থেকে রক্ষা করে।

বাবার শেষকৃত্যের কাজ করে এসেই মাঠে নামে দলের হাল ধরতে যা ক্রিকেটবিশ্বে বিরল। বাবার মৃত্যুর দিনটি আজও বহন করে বেড়াচ্ছে ছেলেটি। জার্সির পিছনে “১৮” লিখাটি নিয়ে বিশ্ব মাতাচ্ছে ছেলেটি । সেই ১৮ বছরের তগবগে যুবকটি আর কেউ ছিল না, সে “বিরাট কোহলি” বর্তমান ভারত দলের কাপ্তান, যাকে শচিন টেন্ডুল্কারের উত্তসরি বলা হয়।

আজ ৫ই নভেম্বর এই ড্যাশিং , স্টাইলিশ , রান মেশিনের জন্মদিন। ১৯৮৮ সালের ৫ই নভেম্বর দিল্লিতে প্রেম কোহলি ও সরোজ কোহলির ঘরে জন্ম হয় বিরাট কোহলির। তার জন্ম পাঞ্জাবি পরিবারে। তার ক্রিকেটার হয়ে উঠার পিছনে তার বাবার ভূমিকা অনেক।

মাত্র ৩ বছর বয়সে তার হাতে ব্যাট তুলে দেন বাবা প্রেম কোহলি। তাই বাবার মৃত্যুর পর ক্রিকেটার হওয়ার প্রনান্ত চেষ্টা করে যায় বিরাট। আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, বাবার প্রতি ভালবাসা, জিদ ইত্যাদি এর সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে আজকের এই বিরাট কোহলি। রঞ্জি ট্রফিতে থাকা অবস্তায় তার বাবার মৃত্যুই তার এই বিরাট হয়ে উঠার পিছনে মূল শক্তি।

শোককে শক্তিতে পরিনত করে বাবার মৃত্যু দিবস “১৮” কে জার্সিতে জরিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে চলা। ২০০৮ এর অনুর্ধ-১৯ তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেই সুবাদে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয় বিরাট।

২০০৮ সালে ১৮ আগস্ট শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হয়। ২০১১ বিশ্বকাপে ছিলেন ভারতের বিশ্বকাপ দলে। সেই বছরের জুন মাসে টেস্ট অভিষেক হয় কোহলির। এখন ওয়ানডেতে তার রান সাড়ে ১১ হাজারের উপরে। সেঞ্চুরি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩টি। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংসটনে টেস্টে অভিষেক হয় তার। সাদা পোশাকে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ২৬টি।

২০১১ থেকে ২০১৩ সালের সিয়েট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার, ২০১২ সালে আইসিসি ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার, ২০১৩ সালে অর্জুন পুরস্কার, ২০১৭ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার, ২০১৬ সালে উইজডেন লিডিং ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার,

২০১৭ সালে আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার, আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট একাদশের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কোহলি। ধ্যান জ্ঞান যার সব ক্রিকেটে, তার পারফরম্যান্সটা তো ধারাবাহিক হবে সেটাই স্বাভাবিক। সুন্দর হোক তোমার আগামী ক্রিকেট সুপার স্টার।

শুভ জন্মদিন বিরাট কোহলি। (লেখাটি সংগ্রহিত)