কথা দিয়েছিলেন মুশি;এমন ম্যাচ তিনি অবশ্যই জেতাবেন

না! না! নাহ্! ভারতের বিপক্ষে এবার আর তীরে এসে জয় বাংলার রণতরী ডুবে যেতে দেননি মুশফিক-রিয়াদরা। গেল বছর নিদাহাস ট্রফি কিংবা ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলার রণতরী ডুবে গেছিলো একেবারে তীরে এসেই। দু’টি ম্যাচেই মুশফিক-রিয়াদ ছিলেন মাঠে। তবে এই ভায়রা জুটির কাছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের স্মৃতি যেন একটু বেশিই তাড়িয়ে বেড়ায়৷ কেননা সেদিন তাদের দু’জনের হাত গলেই পড়ে গেছিলো বাংলার স্বপ্ন। এবার আর সেই একই দুঃসহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেননি মুশফিক-রিয়াদ। তবে এমন ম্যাচ যে মুশফিক জেতাবেন সেই কথা কিন্তু তিনি দিয়েছিলেন আরো অন্তত তিন বছর আগে।

২০১৬ সালে সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একটা পর্য়ায়ে পরিস্থিতি এমন যে,৩ বলে দরকার ২ রান। আগের দুই বলে হার্দিক পান্ডিয়াকে সীমানা ছাড়া করে ম্যাচ নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন মুশফিক।এরপরই বাঁধে বিপত্তি। অকল্পনীয়ভাবে মুশফিক,রিয়াদের দু’জনই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে অতি বিলাসী শর্ট খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন যথাক্রমে ধাওয়ান ও জাদেজার হাতে। হাতের মুঠোয় আনা ম্যাচ ভারতের হাতে তুলে দিয়ে পুরো টিমই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। আর তা সবচেয়ে বেশি গ্রাস করে মুশফিককে। হতাশার চাদরে মুখ লুকানো মুশফিক সেদিনই পণ করেন, আবারও এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তিনি সেই ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়বেন। মিডিয়ার সামনেও জোর গলায় বলেন সেসব কথা।

মুশফিক তার দেয়া কথা রেখেছেন। পেন্ডুলামের মতো দুলছে ভারত-বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি। ১২ বলে চাই ২২। বাংলার কোটি ভক্তের মাথায় হাত,মস্তিষ্কের নিউরনে ততক্ষণে আলতো টোকা দিতে শুরু করেছে সেই পুরোনো স্মৃতি,জেগে উঠছে গভীর ক্ষত। তবে মুখে প্রবল বিশ্বাস,ভরসা; মুশফিক নিশ্চয়ই কথা রাখবেন। অবশ্যই কিছু একটা করবেন তিনি।

হ্যাঁ। মুশফিক কথা রেখেছেন। কিছু একটাও করে দেখিয়েছেন। কিছু একটা বললে বোধ হয় ভুল হবে,একেবারে বীরদর্পে ভারতকে পেছনে ফেলে
জয় বাংলার রণতীর নোঙর করেছেন জয়ের বন্দরে। ভারতীয় পেসার খলিলের বলে টানা চার বাউন্ডারিতে শঙ্কার মেঘ আড়াল করে দিয়েছেন মুশি,অভিষিক্ত দুবেরকে ছক্কা পিটিয়ে রিয়াদ পুঁতে দিয়েছেন জয়ের পাকাপোক্ত নিশান । বাংলার জয় ৭ উইকেটে; সেটা আবার ওই ৩ বলে ২ রান করতে না পারা ৩ বল হাতে রেখে।