অপমানের দাঁতভাঙা জবাব দিল বাংলাদেশ

কয়েকদিন আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার একটি প্রতিবেদন পড়ে কিছুটা খারাপ লেগেছিল। সেখানে লেখা ছিল ভারতের বিপক্ষে জয়ের চিন্তা নয় বরং হারের ব্যবধান নিয়েই চিন্তা করছে সবাই। আজ ম্যাচের শুরুতেই ওপেনার ও অধিনায়ক রোহিত শর্মার বিদায়ের পর আমার মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ এবার জিতেই দেখাবে। কিছুক্ষণ পর পড়তে বসার সময় আমার স্যার বললেন বাংলাদেশ আজকে অন্তত তিন-চারটা রেকর্ড গড়বে!

স্যারের অনুমান ভুল হয়নি। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের ইতিহাসে ১০০০ তম ম্যাচে অবশেষে বাংলাদেশের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। নাইম-সৌম্য-মুশফিকের ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ভারতীয় মিডিয়ার অহংকারের পতনের রাত ছিল আজ। প্রত্যেক সিরিজের আগেই নিজেদের প্রচারণার জন্য প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করে বিজ্ঞাপন বের করাটা দেশটির মিডিয়ার রেওয়াজে পরিণত হয়েছে৷ সেই অপমানের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার রাতটি ছিল আজ।

স্টার স্পোর্টসের এবারের বিজ্ঞাপনে তারা একটি বলকে বাংলাদেশের প্রতীকি হিসেবে ব্যবহার করে যে বিজ্ঞাপনটি বানিয়েছিল তার মূলকথা ছিল এই – সিরিজের আগেই নাকি বাংলাদেশ লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে এবং প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশ কি করবে এই প্রশ্নও করা হয় ঐ বিজ্ঞাপনে।

আজ রাতে ভারতীয় মিডিয়া সেই প্রশ্নের উত্তর হাতেনাতেই পেয়ে গেল। সাইলেন্ট কিলার খ্যাত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ছক্কায় জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশের উৎযাপনও ছিল সাইলেন্টলি। দলের প্রধান বেশ কয়েকটি অস্ত্র ছাড়াই জয় পাওয়া বাংলাদেশের এই রূপ কিন্তু বিশ্বকে আরেকটি জিনিসও জানিয়ে দিচ্ছে – বাংলাদেশ এখন শক্তিমত্তার পাশাপাশি মানসিকভাবেও পরিণত একটি দল।