দাদাদের কাছে প্রশ্ন রাখি,“আপনারা কি নামতেন আমাদের মাঠে?”

রাত পোহলেই দিল্লির অরুণ জেটলি মাঠে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনের অনুশীলনে টাইগারদের বড় বাঁধা যে ছিলো দিল্লির বায়ুদূষণ; তা নতুন করে না বললেও চলবে। তবুও বিসিসিআই (বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) গোঁ ধরে বসে আছে;ম্যাচটি দিল্লিতেই হবে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) সহনীয় মাত্র ৫০-১০০ এর মধ্যে। সেখানে দিল্লির বাতাসের একিউআইয়ের মান ৩০১-৪০০ এর মধ্য। যা অতিরিক্ত মাত্রায় বায়ু দূষণের নির্দেশনা দেয়। বায়ুদূষণের কারনে দিল্লির স্কুল-কলেজ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার।

দিল্লি এমনিতেইই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। তার উপর কিছুদিন আগে দীপাবলিতে  আতশবাজির ব্যবহার বাতাসের দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। এছাড়া শহরের কাছাকাছি গ্রামগুলোতে ফসল কাটার পর আগুন দিয়ে পেড়ানোয় সেই অতিরিক্ত ধোঁয়াও যুক্ত হয়েছে বাতাসে। এত এত ধোঁয়ায় দিল্লির অবস্থা এখন এমনই যে- দূর থেকে ধোঁয়া দেখলে শীতের নরম কুয়াশা ভেবে ভুল করে বসবে যে কেউ।

বাতাসের এমন করুণ দশায় মুখে মাস্ক লাগিয়ে অনুশীলন করেছে টাইগাররা। তবে দিল্লির এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন এইবারই প্রথম না। বছর দু’য়ের আগে ভারতের বিপক্ষে মাস্ক লাগিয়ে খেলতে নেমেছিলো সফরকারী শ্রীলঙ্কা। সেবার মাঠেই বমি করেন লঙ্কান পেসার সুরাঙ্গা লাকমল। জেদ করে বিরাট কোহলি সে ম্যাচে তাড়াতাড়ি ইনিংস ঘোষণা করে নিজেরা বোলিং করে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তবে ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামিও দু’ওভার বল করেই বমি করে ফেলেন।

এখন কথা হচ্ছে, ভারতে এত এত মাঠ থাকতেও কেন এমন ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা লাগবে? বিদেশি দল বাংলাদেশে আসলে কোন সুবিধাটা তারা নেয়া বাকি রাখে? তবে আমাদের বেলায় এমন কেন? বাংলাদেশ বলেই কি অযাচিতভাবে  চাপিয়ে দেয়া! অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডকে কি এমন পরিস্থিতিতে মাঠে নামাতে পারতো ভারতীয়রা! কিংবা উল্টো চিত্রটাই কল্পনা করুন একবার। দিল্লির মতো যদি ঢাকা এমন বায়ুদূষণে সয়লাব হতো; তবে দাদাদের কাছে প্রশ্ন রাখি,“আপনারা কি নামতেন আমাদের মাঠে?”