শুভ জন্মদিন ‘ইয়র্কার মাষ্টার’ সাইফুদ্দিন

সেই ছোট্টবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল একদিন বড় ক্রিকেটার হবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথটা প্রশস্ত করতে ২০০৮ সালে হাতে তুলে নিয়েছিলেন ব্যাট-বল। তখন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বয়স মাত্র ১১। কিন্তু বাবা চাইতেন না ছেলে ক্রিকেটার হোক। তারপরও নিজের ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিয়েই বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে এখন খুঁজে পেয়েছেন সাফল্যের সিঁড়ি।

সাইফুদ্দিনের বাবা অবশ্য মারা যান ২০০৮ সালেই। নিজে পুলিশ ছিলেন বলেই হয়ত চাইতেন তার মতো মেজো ছেলেও সরকারি চাকুরী করবে। কিন্তু বনে গেলেন ক্রিকেটার। তবে কিভাবে এতোটা পথ পাড়ি দিলেন এই পেস অলরাউন্ডার??

এ ব্যাপারে তার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট শুরু করি ২০০৮ সাল থেকে। বাবা চাইতেন না যে আমি ক্রিকেটার হই। তারপরও ব্যাট-বলের নেশা কাটাতে পারিনি। এ সময় হঠাৎ করে বাবা মারা যান। অনেক হতাশ হয়ে পড়ি। এরপর আমার পরিবার, বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আবার খেলা শুরু করি।’

নিজ শহর ফেনীর ফ্রেন্ডশীপ ক্লাবে ক্রিকেটীয় জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন সাইফুদ্দিন। তার এতদূর আসার পিছনে ওই ক্লাবের অবদান অনেক। এরপর ২০০৯ সালে প্রথম বয়সভিত্তিক (অনূর্ধ্ব-১৪), ২০১০ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ভারত সফর করেন তিনি। এছাড়া ২০১১-১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ এবং ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলার সুযোগ মেলে তার।

ক্রিকেট জীবনে দুইটি লক্ষ্য ছিলো তার একটি হলো দেশের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলা আরেকটি হলো জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ ঘরের মাঠেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ হয় তার। সেখানে ব্যাট বল দুটিতেই দেখিয়েছিলেন তার পারদর্শীতা। বিশেষ করে ডেথ ওভারগুলোতে তার ইয়র্কার নজর কেড়েছিলো অনেকের। ‘দিজ ম্যান ইজ এ সিরিয়াস এক্সপোনেন্ট অফ ইয়র্কারস, তার সম্পর্কে এই কথাগুলো বলেছিলেন জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক ইয়ান বিশপ।

২০১৭ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিয়াতে অভিষেক হয় সাইফের। এখন পর্যন্ত ২০ ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে নেন ২৬২ রান। ২ টি অর্ধশতক আছে তার ছোট ক্যারিয়ারে। বল হাতে নেন ২৫ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয় ৪৫ রানে ৩ উইকেট।

২০১৭ সালের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাইফের। ১৩ ম্যাচ খেলে ১০৮ রান করেন। ৩৯ ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। অন্যদিকে বল হাতে নেন ১২ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয় ৩৩ রানে ৪ উইকেট।

বর্তমান ইনজুরিতে ৩ মাসের মত দলের বাহিরে থাকতে হচ্ছে অলরাউন্ডার সাইফকে। জাতীয় দল ভারত হলেও ইনজুরির কারণে ছিটকে যান তিনি।