শুভ জন্মদিন বিশ্ব ক্রিকেটের লড়াকু যোদ্ধা ‘ডেভিড ওয়ার্নার’

শুভ জন্মদিন বিশ্ব ক্রিকেটে হার না মানা অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ‘ডেভিড অ্যান্ড্রু ওয়ার্নার’। ১৯৮৬ সালের আজকের এই দিনে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটনে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। আজ ৩৩ বছরে পদার্পন করলেন তিনি।

নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের সিডনির উত্তরাংশের উপকণ্ঠে প্যাডিংটন এলাকায় ডেভিড ওয়ার্নার জন্মগ্রহণ করেন। ১৩ বছর বয়সে বল শূন্যে মারার অভ্যাসের কারণ কোচ তাকে ডানহাতে ব্যাটিং করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এক মৌসুম পর তার মা শিলা ওয়ার্নার তাকে পুণরায় একই অবস্থানে নিয়ে যান। সিডনি কোস্টাল ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে বামহাতে ব্যাটিং করে তিনি অনূর্ধ্ব-১৬ দলের রান সংগ্রহের রেকর্ড ভঙ্গ করেন। ১৫ বছর বয়সে ইস্টার্ন সাবার্ব ক্লাবের পক্ষে প্রথম গ্রেড ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করেন ও রাজ্য দলের পক্ষে চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি মাত্রাভিল পাবলিক স্কুল ও র‌্যান্ডউইক বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন।

আক্রমণাত্মক বামহাতি ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত ওয়ার্নার। পাশাপাশি দৌঁড়িয়ে ফিল্ডিং করেন। মাঝেমাঝে স্পিন বোলারের ভূমিকাও অবতীর্ণ হন তিনি। অফ-স্পিন বোলিংয়ের সাথে লেগ স্পিন বোলিংয়ের যোগসূত্র রক্ষা করেন। ১৭০ সেন্টিমিটারের দীর্ঘদেহী শরীরে শক্তিশালী হাতের ব্যাটিংয়ে বলকে শূন্যে উঠাতে পারেন অবলীলাক্রমে। ২০০৯ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে শন টেইটের বলকে অ্যাডিলেড ওভালের ছাদে পাঠান। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেও তিনি একই বোলারকে মোকাবেলা করে সফলকাম হন।

তাসমানিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১৬৫* রান করে একদিনের সর্বোচ্চ রান করেন ব্লুজের খেলোয়াড় হিসেবে। পরবর্তীতে ৫৪ বলে ৯৭ রান করে অল্পের জন্য অস্ট্রেলীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার এ সাফল্যের প্রেক্ষিতে জানুয়ারি, ২০০৯ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার টুয়েন্টি২০ দলে অন্তর্ভুক্ত হন।

১১ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে কোন ধরনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলেই অভিষিক্ত হন। টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতক করেন ৪৩ বল ৮৯ রান যাতে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কার মার ছিল। ওয়ার্নার ক্রিস গেইলের শতকের চেয়ে মাত্র ১১ রান দূরে ছিলেন। অভিষেকে তার ৮৯ রান ছিল টুযেন্টি২০ আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও পঞ্চম সমতাসূচক সর্বোচ্চ স্কোর। 

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে টি২০-তে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ২৯ বলে ৬৭ রান করেন। তার ৫০ রান আসে মাত্র ১৮ বলে। এরফলে তিনি তার নিজস্ব ১৯ বলের রেকর্ড ভঙ্গ করেন ও যুবরাজ সিংয়ের পর দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতক করেন।

ট্রান্স-তাসমান ট্রফির ১ম টেস্টে শেন ওয়াটসনের আঘাতপ্রাপ্তিজনিত অনুপস্থিতিতে টেস্ট অভিষেক ঘটে ওয়ার্নারের। ১ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার এই অভিষেক। প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র ৩ রান করেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র চার বলে অপরাজিত ১২* রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। পুল শটের মাধ্যমে জয়সূচক রানটি করেন তিনি।

এরপর আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ওয়ার্নারকে। শুধু মাতিয়েই গেছেন দেশ-বিদেশের ক্রিকেট ভক্তদের। তবে ক্যারিয়ারের রয়েছে কিছু কলঙ্কের দাগও। ২০১৮ সালে বল বিকৃতির দায়ে এক বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি।

তবে এর মধ্যেও নিজের অবস্হান ধরেই রেখেছেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা শেষের পরই এবছর যোগ দেন দলে। আর নিজের জন্মদিনে আজ হাঁকিয়েছেন দীর্ঘ ১০ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

এখন পর্যন্ত ৭৯ খেলে করেছেন ৬৪৫৮ রান। রয়েছে ২১ টি সেঞ্চুরি ও ৩০ টি অর্ধশতক। ওয়ানডেতে ১১৬ ম্যাচে করেছেন ৪৯৯০ রান। ১৭ টি শতকের সাথে আছে ২০ টি ফিফটি। টি-টোয়েন্টিতে ১২৬ ম্যাচে করেছেন ৪৭০৬ রান। ১ টি সেঞ্চুরির সাথে করেছেন ১৩ টি হাফ সেঞ্চুরি।

তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া, ক্রিকবাজ ও ক্রিকইনফো।