শেষের শুরু হয়তো এখনই!

ইনজুরি জর্জরিত মেসির শেষ দেখা শুরু করেছেন অনেকে। সেই ছোটবেলা থেকে ফুটনল নিয়ে এগিয়ে চলা ছেলেটিকে একদিন তো থামতেই হবে। সেই থামারই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে ক্ষুদে জাদুকরের একের পর এক ইনজুরি!

লিওনেল মেসির ফুটবলীয় প্রতিভা নিয়ে কারো মনে কোনরকম দ্বিধাবোধ থাকতে পারে না। নিঃসন্দেহে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি। অন্য যেকোন ফুটবল তারকার থেকে যোজন যোজন দূরত্বে এগিয়ে মেসি। তার সাথে থাকার সামর্থ্য আছে শুধুমাত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।

১৯৮৭ সালের ২৪শে জুন, আর্জেন্টিনার রোজারিওর ছোট্ট একটি গ্রামে জন্ম হয় এক ফুটফুটে শিশুর। বাবা-মায়ের নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হয় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিত্তিনি।

৭ বছর বয়সে তার দাদীর হাত ধরে আর্জেন্টাইন ক্লাব নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেন মেসি। সেখানেই তার ফুটবল বিদ্যার হাতেখড়ি হয়।

আর্জেন্টিনায় থাকাকালীন সময়েই মেসির একটি দুরারোগ্য ব্যাধি ধরা পড়ে, যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় তার বেড়ে ওঠা। তার বয়সী অন্য সকল ছেলেমেয়ের থেকে কম লম্বা হতে থাকেন মেসি। ডাক্তারি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় হয়তো ঠিক হবেন মেসি, বেড়ে উঠবেন স্বাভাবিকভাবে কিন্ত সে জন্য যে চিকিৎসা করতে হবে তার জন্য ব্যয় হবে অনেক মোটা অংকের অর্থ!

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা মেসির পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। কিন্তু সেই বাচ্চাটি দমে যাওয়ার পাত্র ছিলো না। বেড়ে ওঠা নিজের হাতে না থাকলেও খেলা দিয়েই সকলের মন জয় করতে থাকে ওই ছোট্ট ছেলেটি।

এরই মধ্যে আর্জেন্টিনায় থাকা স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাবের স্কাউটদের কাছে খবর আসে একটি বাচ্চা সম্পর্কে। লোকমুখে সেই ছেলের অনেক প্রশংসা শুনে স্বচক্ষে সেই বাচ্চাটিকে দেখতে যায় স্কাউটদের প্রতিনিধীরা।

খেলা দেখে এতটাই মুগ্ধ হন তারা, যে তখনই একটি ন্যাপকিনের মধ্যেই সেই ছেলেটির সাথে চুক্তি সম্পন্ন করে বার্সা। এবং চিকিৎসারও সব দায়িত্ব তারা নিজেদের কাঁধেই নিয়ে নেন।

মেসিকে উড়িয়ে আনা হয় স্পেনে। পরিবার ছেড়ে ছোট্ট ছেলেটি থাকা শুরু করে স্যার ইয়োহান ক্রুইফের নিজ হাতে গড়ে তোলা লা মাসিয়ায়। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবলার হয়ে ওঠার শুরু হয় মেসির।

এরপরে যা ঘটেছে সে তথ্য সবারই জানা। বার্সেলোনার হয়ে এমন কোন পুরস্কার নেই যেটা জেতেননি মেসি। দলীয় বা ব্যক্তিগত সকল পুরস্কারেই সবার উপরে চলে আসেন মেসি।

লা লীগা, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ, কোপা দেল রে, হুয়ান গাম্পার ট্রফি; এমন কোন শিরোপা নেই যেটা জেতেননি মেসি। একাধারে গোল করেছেন আবার করিয়েছেনও সমানতালে।

সেই মেসিই এখন যেন শেষের দিনে চলে এসেছেন। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। যদিও ফিরলেন ফিরেই আবার ইনজুরির মুখোমুখি হতে হলো তাকে।

মেসির এই অতি ইনজুরিপ্রবণতায় যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে শেষের পথে ক্ষুদে জাদুকর।

পরিশেষে একটি কথায় বলতে চায়, ভালো থাকুক মেসি; ভালো থাকুক ফুটবল। যতদিন সম্ভব উপভোগ করুন এই ক্ষুদে জাদুকরের খেলা কেননা আগামী কয়েকদিন পরই আর মাঠে দেখতে পারবেন এই ছোট্ট শরীরের সুপার হিরোকে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here