আফগানিস্তানের কাছে হারের পর উত্তাল ফেসবুক

ছবি : সংগৃহীত।

গত সোমবার, আফগানদের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সুবাদে স্মার্টফোন বা পিসির স্ক্রিনে স্ক্রিনে একটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে । যেখানে অসুস্থতার দরুণ কোমায় চলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে । একই সঙ্গে এক কোণায় লাল অক্ষরে হ্যাশট্যাগের সঙ্গে বিসিবিকে বয়কট করার কথাও দেখা যাচ্ছে ঐ ছবিতে। হয়তো বা বাংলাদেশি কোনো পাগল ভক্তেরই কাজ হবে এটা । তবে এমন কাজ যে তিনি হতাশার কারণেই করছেন, সেটাও কিন্তু অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যাচ্ছে ৷

আসলে গত কয়েকবছরে এমন বাংলাদেশকে কখনো দেখা যায়নি। ঘরের মাঠেই বছর দুয়েকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারানোর স্মৃতিই তো এখনো তরতাজা। অথচ এই বাংলাদেশেরই এমন করুণ পরিস্থিতি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। আসলে পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের হয়ে কথা বলছে না। সাদা পোশাকের সম্মানজনক এ ফর্ম্যাটে বাংলাদেশের পদচারণার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও খুব কম ম্যাচেই জয়ের দেখা মিলেছে ।

চট্টগ্রাম টেস্টে ইতিহাস গড়া আফগানিস্তানের যেখানে ২টি টেস্ট জয় তুলতে মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় জয় তুলে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৬০টি ম্যাচের । এসব কারণ মিলিয়ে টাইগারদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে এরকম অনেক মন্তব্য। যেমন, কেউ কেউ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের থেকে টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নেওয়া উচিত আইসিসির। আবার একই সুরে তাল মিলিয়ে অনেকে লিখছেন, ‘বাংলাদেশেরও জিম্বাবুয়ের মতো স্বেচ্ছায় টেস্ট খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত। ‘ কেউ কেউ আবার ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ।

অনেকে আবার লিখেছেন, ‘বৃষ্টিই যেখানে ৭০-৭৫ ওভার বাংলাদেশের হয়ে খেলে দিয়েছে, সেখানেও ১৮ টা ওভার খেলা চালিয়ে যেতে পারলো না বাংলাদেশ!’ এরকম আরো শতশত স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন ভক্তরা।

ক্রিকেট ভিত্তিক ফেইসবুক গ্রুপ, ক্রিকেসেল সুমন নামের একজন পোস্ট করে লিখেন, ‘ সত্যি কথা বলতে কি বিসিবি সব সময় জাতীয় দল নিয়ে পরে থাকার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন যা ভবিষ্যতে ও অভ্যাহত থাকবে। শিউর থাকেন ঘরোয়া ক্রিকেটের আমুল পরিবর্তন না আসলে ১৯ কেনো আগামী ৮৯ বছরেও এর ব্যতিক্রম হবে না! আমাদের আফসোস আর আফসোস ১৯ বছর ধরে টেস্টের উন্নতিটা কেনো চোখে পরছে না ?আচ্ছা এর নেপথ্যে কারন কি? সেই প্রশ্ন কি কখনো সামনে আসছে, আসলেও সেটার পরিকল্পনা ছিলো কি?এসবের সমাধানটাই বা আসলে কি? এসব দৃশ্যমান বিষয়গুলো কি চোখে সরিষার তৈল মেখে দেখিয়ে দিতে হবে ক্রিকেট বোর্ডেকে?
.
আমি আদৌও পর্যন্ত দেখলাম না এদেশের দায়িত্ববান কোন সাংবাদিক এই ঘরোয়া লীগের প্রশ্নটা পাপনের সামনে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে! সব প্রশ্ন এক বস্তাপঁচা প্রিমিয়ার লীগ বিপিএল আর হ য ব র ল জাতীয় দল নিয়ে!!!! আমাদের স্কুল ক্রিকেট লীগ চালু আছে কি ? জেলা পর্যায়ে, বিভাগীয় পর্যায়ে, ১ম ২য় ৩য় লীগগুলোর নাজেহাল অবস্থা চোখে পরে কি? এই গুরুত্বপূর্ণ লীগগুলো সচল আছে কি ? এসবের মান ঠিক তো? মাঠ ঠিক আছে তো? ওভারঅল ক্রিকেট অবকাঠামো চলার মত কি? ডিপিএল, বিপিএল, এনসিএল, বিসিএল এসব ভাইটাল লীগ গুলোর আম্পায়ারিং মান ঠিক আছে কি? ঢাকা লীগে পয়েন্ট বিক্রি বন্ধ হয়েছে কি? কত নানা যানা অজানা প্রশ্নে জর্জরিত এদেশের ক্রিকেট !!
.
এতো বাজে পরিকল্পনা আর বাজে ক্রিকেট কাঠামো নিয়ে কখনই ক্রিকেট আগাতে পারেনা কখনোই না , এতোদিন যা পেয়ে আসছি তা নেহাৎ ক্ষনিকের সুখের সৃতি হয়ে থাকবে, দুর্দিনের ইতিহাস লেখা হবে এখন থেকে যা অভ্যাহত থাকবে ভবিষ্যতে ও, এ থেকে বেড়িয়ে আশা কতটা কঠিন তা ইতিমধ্যে আচ করতে পারছে এদেশের প্রতিটি খেলা প্রিয় মানুষ! হতাশার ভেরা জালে আমরা হতবাক আমরা নির্বাক!
.
সাব্বাশ বিসিবি সাব্বাশ, আমরা আবেগ ঢেলে খেলা দেখি আর তোমরা দেখাও তামাশা! আর কতকাল দেখাবে আমাদের এদেশের ক্রিকেটের নীল ছবি! আমরা এসব দেখে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বিরক্ত। হুশ কি ফিরবে আদৌও বেহুশদের? নাকি চলতেই থাকবে পীরের কারসাজি! সাথে মুরিদ দের নীলা খেলা। বড় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে প্রশ্নগুলো থেকেই যায় 😥
.
লেখা: ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here