কিভাবে এলো ডাকওয়ার্থ-লুইস বা ডিএল মেথড

আবহাওয়া জনিত কারণ অর্থাৎ বৃষ্টি কিংবা কুয়াশার জন্য খেলা থেমে গেলে কিংবা অন্য কোন কারণে খেলা বন্ধ হলে ডার্কওয়ার্থ-লুইস বা ডিএল মেথডের শরণাপন্ন হয় আইসিসি। তবে, ডিএল মেথড ই প্রথম নয় এর আগে এই সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হতো ‘মোস্ট প্রোডাক্টিভ ওভার মেথড ‘।

পূর্বের মোস্ট প্রোডাক্টিভ ওভার মেথড এবং তার পূর্বে ‘৯০ এর দশকের আগে ছিল এভারেজ রান রেট মেথড। এই মেথড গুলোর কোনটাই বৈজ্ঞানিক ছিল না। ফলে প্রত্যেকটি ফলাফলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ইংলিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ এবং টনি লুইস একটি পদ্ধতির আবিষ্কার করেন যা “ডাকওয়ার্থ-লুইস” বা ডিএল মেথড নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক এবং বিতর্ক মুক্ত।

ডিএল মেথড আবিষ্কার এমনি এমনি হয়নি। রয়েছে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা এবং একটি দেশের স্বপ্নের অপমৃত্যু! ঘটনাটি ঘটে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। সেসময় মোস্ট প্রোডাক্টিভ ওভার রেট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। বৃষ্টি আসার আগে, দ. আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ১৩ বলে ২২ রান! বৃষ্টির পর, ব্যাটিং এ নেমে আফ্রিকার জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়ায় ১ বলে ২১ রান! স্বপ্ন ভঙ্গ হয় আফ্রিকার। এর সাথে সাথে বিতর্কিত হতে থাকে মোস্ট প্রোডাক্টিভ ওভার রেট পদ্ধতি।

আফ্রিকার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল সেদিন

মোস্ট প্রোডাক্টিভ ওভার রেট পদ্ধতি অনুযায়ী যত ওভার খেলা বন্ধ থাকবে তত রান কমিয়ে নতুন টার্গেট নির্ধারিত হবে। ২ ওভার খেলা বন্ধ থাকায় দুই রান কমানো হয় যা তাড়া করা অসম্ভব! এই ম্যাচের পর বৈজ্ঞানিকভাবে এর সমাধান আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। ডাকওয়ার্থ বলেন,
এই ম্যাচের পর আমি রেডিওতে শুনতে পাই ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স বলছেন, যেকোনো জায়গা থেকে, যে কেউ যারা শুনতে পাচ্ছেন তাদের উচিত এই সমস্যা সমাধানে সঠিক পদ্ধতি নিয়ে এগিয়ে আসা। আমি বুঝতে পারি এটা একটা গাণিতিক সমস্যা এবং এর সমাধান গাণিতিকভাবে করতে হবে”।

ডিএল মেথড সেই ম্যাচে অনুসৃত হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। আফ্রিকা জিততে পারতো, ড্র করতে পারতো কিংবা শেষ বল পর্যন্ত লড়ে যেতে পারতো!

ডিএল মেথডের আবিষ্কারক পরিসংখ্যানবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ এবং লুইস

ডাকওয়ার্থ এবং লুইসের পদ্ধতি পরবর্তীতে সর্বজন স্বীকৃত এবং সময়োপযোগী হয়ে ওঠে যা আজও বর্তমান। ডিএল মেথড এর প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারিতে ইংল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। সেই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ডিএল মেথডে ৭ রানের জয় পায়। আইসিসি আনুষ্ঠানিক ভাবে বৃষ্টি আইনের ফলাফল নির্ধারণে এই পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করে ১৯৯৯ সাল থেকে।