একসাথে মেসি-রোনালদোর সাক্ষাৎকার নিয়ে বাংলাদেশি উপস্থাপিকার বিরল রেকর্ড

টানা তৃতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে ফের আলোচনায় বাংলাদেশি কন্যা রেসমিন চৌধুরী।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্ম নেয়া এই সাংবাদিক প্রথমবারের মতো লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাক্ষাৎকার নিয়ে রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেসমিন। এর আগে ২০১৭ সালে সর্ব প্রথম ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার ভুমিকায় দেখা যায় এই সাংবাদিককে।

মেসি ও রোনালদোর সাথে রেসমিন চৌধুরী।

১৯৭৭ সালে জন্ম নেয়া রেসমিন ২০০২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে অর্নাস করেন বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০৩ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ট্রেনিং অব জার্নালিস্ট থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। হারলো কলেজ থেকে নিউজপেপার জার্নালিজম বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সও করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন রয়টার্স টিভির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মাদাগাস্কার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, গ্রিস, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ ও নাইজিরিয়ার বিভিন্ন সংবাদ পত্রের সঙ্গে কাজ করেন।

২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে যোগ দেন রেসমিন। তার আগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির অনলাইন বিভাগের নিউজ, স্পোর্টস ও বিনোদন বিভাগে কাজ করেন। পাশাপাশি বিবিসি লন্ডন ও ব্লুমবার্গ টিভিতেও উইকেন্ড রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতে থাকেন তিনি।

২০০৮ সালে সেপ্টেম্বর থেকে দুই মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদ টিভিতে প্রেজেন্টার ও রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন রেসমিন। পরের বছর রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়ালে যোগ দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রেসমিনই প্রথম সাংবাদিক যিনি পর্তুগিজ মহারাজের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন।

মাদ্রিদের দলটিতে যোগ দেয়ার পর করিম বেনজামার সঙ্গে সম্পূর্ণ ফ্রেঞ্চ ভাষায় সাক্ষাতকার নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ২০১০ সাল থেকে বিবিসি স্পোর্টস, বিটি স্পোর্টস ও ইয়াহু স্পোর্টসের হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্পোর্টস ইভেন্টগুলো কাভার করে আসছেন। ২০১২ লন্ডন অলেম্পিক, ২০১৬ সামার প্যারালিম্পিকস, ২০১৭ অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ, ২০১৮ উইমবেল্ডন, ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ এর মধ্যে অন্যতম। একই বছর ফিফার দ্য বেস্ট অনুষ্ঠানের গ্রিন কার্পেট আয়োজনের উপস্থাপক ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ থেকে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্রয়ের উপস্থাপনা করেছেন।