ভারতে তাসকিনের পাঁচ উইকেট; টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩১২ রান

Photo: collected

ড. থিম্মাপিয়া মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ড. ডে ওয়াই পাতিল ক্রিকেট একাডেমিকে ৩৩১ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ৩০৬ রানেই গুটিয়ে যায় বিসিবি একাদশ। দ্বিতীয় ইনিংসের বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে পাতিল একাডেমি। জিততে হলে শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩১২ রান।

চতুর্থ ও শেষ দিনে ৮ উইকেটে ২৭১ রানে ব্যাটিং শুরু করে পাতিল একাডেমি। ৪০ রাা যোগ করতেই অলআউট হয় তার। নিজের পঞ্চম উইকেট শিকার করেন তাসকিন। আর দ্বিতীয় উইকেট নেন নাইম হাসান।

তৃতীয় দিনে ২৫ রানে রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে বিসিবি একাদশ। তাসকিন ও শহিদুল ইসলামের আগুনঝরা বোলিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৫ রানেই ৩ উইকেটে হারিয়েছে ড. পাতিল ক্রিকেট একাডেমি। পরবর্তী ৮৩ রানের দারুন জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন অধিনায়ক নওশেদ শেখ ও সরফরাজ খান। তাদের এই ভাঙেন নাইম হাসান।

কিছুক্ষণ পরেই আবারো আঘাত হানেন তাসকিন। আমান খান ফিরে যান ১২ রান করে। আবারো সায়রাজ পাতিলকে নিয়ে ৮৪ রানে বড় জুটি গড়েন অধিনায়ক। তুলে নেন দারুন শতক। তাকে ব্যক্তিগত ১০৮ রানে ফেরান তাইজুল ইসলাম। পরবর্তী ইকবাল আব্দুল্লাহর ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেট হেরে ২৭১ রানে দিন শেষ করেছে তারা। তাদের লিড হয়েছে ২৯৬ রান।

এর আগে দ্বিতীয় দিনে জবাব দিতে ওপেনিংয়ে নেমে বিসিবি একাদশকে দারুন সুচনা এনে দেন দুই ওপেনার জহুরুক হক ও সাদমান ইসলাম। দুজনে গড়েন ৯৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। দারুন জুটির পর ব্যক্তিগত ৪৯ রানে আউট হন সাদমান ইসলাম। পরবর্তী দলীয় ১১৩ রানে আরেক ওপেনার জহুরুলও ফিরে যান ব্যক্তিগত ৪৯ রানে। ১৮ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক মমিনুল। ১১৪ রানে পড়ে তৃতীয় উইকেট।

পরবর্তী ভালো জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান। তবে সেটি বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি। ৭৬ রানের জুটির পর ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে ফিরর যান শান্ত। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ছোট জুটি গড়েন আরিফুল হক। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ফিরে যান ১৫ রান করে। একদিক আগলে রেখে অর্ধশতক তুলে নেন নুরুল হাসান সোহান। সাইফ হাসানকে নিয়ে আর কোন বিপদ ছাড়াই ৫ উইকেট হেরে ২৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বিসিবি একাদশ।

তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমেই সাইফের উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। পরবর্তী একদিক আগলে রাখা সোহানও ফিরে যান ৮৭ রান করে। দ্রুতই উইকেট হেরে ৩০৬ রানেই গুটিয়ে যায় তারা।

অন্যদিকে প্রথম দিনো মিনি রঞ্জি খ্যাত টুর্নামেন্টে ভারতের ড. দে ওয়াই পাতিল ক্রিকেট একাডেমিকে একাই গুড়িয়ে দিলেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম টেস্টের এক ইনিংসে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। আজ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিলেন ৬ উইকেটে। ফলে ৩৩১ রানে গুটিয়ে যায় ড. দে পাতিল ক্রিকেট একাডেমিকে। ড. দে পাতিল ক্রিকেট একাডেমির হয়ে সর্বোচ্চ ১২৮ রান করেন আশয় সারদেশাই

আগের দিনের ৮ উইকেটে করা ৩০০ রানের সাথে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন আরও ৩১ রান যোগ করতেই থেমেছে দলটির ইনিংস। প্রতিপক্ষ শিবিরের বাকি দুটি উইকেটও নিজের ঝুলিতে জমা করেছেন ২৭ বছর বয়সী তাইজুল।

সেঞ্চুরি হাঁকানো আশয় সারদেশাইকে ব্যক্তিগত ১২৮ রানে থামিয়ে আজ প্রথম সাফল্যর মুখ দেখেন তাইজুল। এরপর আকিব কুরাইশীকে ফিরিয়ে ইতি টেনেছেন প্রতিপক্ষের ইনিংসের। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১০২.৫ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে প্রথম ইনিংসে ৩৩১ রান যোগ করতে সক্ষম হয় ড. ডিওয়াই পাতিল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি।

ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিতে তাইজুল হাত ঘুরিয়েছেন ৩৩.৫ ওভার! যেখান থেকে ৭ মেডেন আদায়ের বিপরীতে খরচ করেছেন ১৪৪ রান। তার সফলতার বিপরীতে সফরকারী দলের পক্ষে দুটি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তাছাড়া পেসার শহিদুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের প্রাপ্তিতে মিলেছে একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ড. ডিওয়াই পাতিল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি (প্রথম ইনিংস) ৩৩১/১০(১০২. ৫ ওভার) সারদেশাই ১২৮, শুভম
তাইজুল ১৪৪/৬, তাসকিন ৪৭/২।

বিসিবি একাদশ (প্রথম ইনিংস) ৩০৬/(৮৮. ওভার) সোহান ৮৭, জহুরুল ৪৯, সাদমান ৪৯,।
মুকেশ চৌধুরী ৬৫/২

ড.ডিওয়াই পাতিল একাডেমি(২য় ইনিংস) ৩১১/১০ (৭১.৩ ওভার) নওশেদ শেখ ১০৮, ইকবাল আব্দুল্লাহ ৭০।

তাসকিন ৯১/৫, নাইম হাসান ৬৬/২ মমিনুল ৯/১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here