সাকিব আল হাসানের আবিষ্কারক : মাগুরার সাদ্দাম হোসেন গোর্কি

সেই ছোট্ট ফয়সালের আজকের সাকিব আল হাসান হয়ে ওঠার পেছনে সব থেকে বড় অবদান যার তিনি হলেন মাগুরা জেলার স্বনামধন্য কোচ জনাব সাদ্দাম হোসেন গোর্কি।

মাগুরা জেলার ক্রিকেটের উন্নয়নে একেবারে শুরু থেকেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাদ্দাম হোসেন। তার শিষ্যদের কাছে তিনি গোর্কি নামেই সমধিক পরিচিত। আজকের সাকিব আল হাসানের আবিষ্কারক বলা চলে এই ক্রিকেট গুরুকে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সাকিবের মধ্যে ভবিষ্যতের মহাতারকার ছবি দেখেছিলেন।

১৯৯৯ সালের কোন একসময়। মাগুরা জেলার আলোকদিয়া স্কুল মাঠে স্থানীয়দের আয়োজনে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়। সেখানেই সাকিবের দল ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব অর্জন করে। ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য মাগুরা থেকে সাদ্দাম হোসেন গোর্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। স্থানীয় মহলে তিনি আগে থেকেই ক্রীড়া মনস্ক একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ফাইনালেই প্রথম সাকিবকে বল করতে দেখেন গোর্কি। সাকিবকে দেখে তিনি রীতিমত অবাক হয়ে যান। এতটুকু একটা বাচ্চার এত ভালো গেম রিডিং ক্ষমতা তাকে আরও বেশি বিমোহিত করে। ওই ম্যাচে ৪ টি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জেতেন সাকিব। তখনই পুরস্কার বিতরণীর সময়ে সাকিবকে মাগুরা গিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলেন গোর্কি।

সাকিবও কথা মতো তার পরের দিনই চলে যায় স্থানীয় নোমানী ময়দানে। সেখান থেকেই গুরু গোর্কির অধীনে তার তালিম শুরু হয়।

সেই শুরু আর ফিরে তাকাতে হয়নি সাকিবকে। আজ সাদ্দাম হোসেন গোর্কির সেই বাচ্চা সাকিব পুরো বিশ্বের ক্রিকেট নিজহাতে শাসন করছেন।

বেঁচে থাকুক গোর্কির মতো এমন গুরু। যাদের হাত ধরে আবিষ্কৃত হবে আরও ডজনখানেক সাকিব। বাংলাদেশ জিতবে স্বপ্নের বিশ্বকাপ।