শুভ জন্মদিন ফুটবল জাদুকর মেসি

কেউ বলে এলিয়েন, কারো মতে ফুটবলের জাদুকর, আবার কারোর ভাবনায় ভিনগ্রহের ফুটবলার। পায়ের জাদুতে পুরো ফুটবল বিশ্বকেই মাতিয়ে রাখা সেই লিওনেল আন্দ্রেস মেসির আজ ৩২তম জন্মদিন।

দিনটা ছিলো ১৯৮৭ সালের ২৪শে জুন বুধবার। আর্জেন্টিনার রোজারিওর ছোট্ট একটি গ্রামে জন্মগ্রহন করে ছোট্ট ফুটফুটে এক শিশু। তার নাম রাখা হয় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

প্রথম জন্মদিনে লিওনেল মেসি।

মেসির বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন। আর মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি ছিলেন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং গৃহিণী।

মেসির পরিবারের আদি নিবাস ইতালির আকোনা শহরে। চার ভাই-বোনের মধ্যে মেসির বড় দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সল।

পরিবারের সাথে মেসি।

বাবার হাত ধরেই মূলত ফুটবলের হাতেখড়ি মেসির। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন।

এরপর ১৯৯৫ সালে তিনি রোজারিও ভিত্তিক ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলা শুরু করেন।

নিজের প্রথম ক্লাব নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজের সতীর্থদের সাথে মেসি।

রোজারিওতে থাকাকালীনই মেসির একটি দুরারোগ্য ব্যাধি ধরা পড়ে। হরমোনজনিত সমস্যার কারনে তার শারীরিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে তার উন্নত চিকিৎসার দরকার ছিলো যা তার পরিবারের পক্ষে ব্যয় করা ছিলো রীতিমত অসম্ভব।

তখনই ভাগ্যের বদৌলতে বার্সেলোনার স্কাউটদের নজরে পড়েন এই ছোট্ট বাচ্চাটি। তার খেলায় মুগ্ধ হয়ে তাকে দলে ভেড়াতে চায় বার্সা ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তার অসুস্থতাজনিত সকল খরচও বহন করতে রাজি হয় বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান মেসি। যোগ দেন বার্সেলোনার আঁতুরঘর খ্যাত লা মাসিয়ায়। সেখানেই তার চিকিৎসার পাশাপাশি ফুটবলেরও তালিম শুরু হয়।

লা মাসিয়ায় থাকাকালীন সতীর্থদের সাথে ফুটবল জাদুকর মেসি।

যুব দল পেরিয়ে ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নাম লেখান বার্সেলোনার সিনিয়র দলে। তারপর টানা ১৫টি বছর ধরে পুরো ফুটবল বিশ্বকেই মাতিয়ে রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

আর্জেন্টিনার হয়ে এখনো তেমন কোন শিরোপা না জিতলেও দুইবার হয়েছেন কোপা আমেরিকা রানারআপ, ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও থেমেছেন ফাইনালে গিয়েই। ফুটবল বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতার রেকর্ডও রয়েছে তার। সবিমিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ১৩২ ম্যাচ খেলে ৬৮টি গোল ও ৩৮টি এসিস্ট করেছেন মেসি।

তবে বার্সেলোনার হয়ে সাফল্যের শেষ নেই লিওনেল মেসির। ৬৩৮ গোল নিয়ে বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। দলীয় সাফল্যেও ক্লাবের অন্যতম সেরা এই আর্জেন্টাইন। ১০ বার লালিগা চ্যাম্পিয়ন, ৪ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন, ৬ বার কোপা দেল রে চ্যাম্পিয়ন, ৭ বার স্প্যানিশ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন, ৩ বার ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ও ৩ বার উয়েফা সুপার কাপ জিতেছেন জিতেছেন মেসি।

এছাড়া ব্যক্তিগত সাফল্যে ৫ বার ব্যালন ডি’অর, ৫ বার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট, ৩ উয়েফা বেস্ট প্লেয়ার ও ১৭ বার বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন মেসি।

ব্যালন ডি অর’সহ লিওনেল মেসি।

২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার জিতেছেন ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। ২০১৫ সালে এই পুরস্কারটা জিতেছেন পঞ্চমবারের মতো। একের পর এক রেকর্ড গড়ে আর মাইলফলক পাড়ি দিয়ে হয়ে উঠেছেন এসময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তার অসাধারণ দক্ষতার কারণে কেউ কেউ তাকে ভিনগ্রহের মানুষ হিসেবেও অভিহিত করেন।

এতসব সাফল্যের মাঝে আরও একটি খেলায় সফল হন মেসি। তার বাল্যকালের বান্ধবী এনতেনোল্লা রোকুজ্জোকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন। বর্তমানে ৩ ছেলে নিয়ে সুখের সংসার মেসির।

স্ত্রী এবং তিন ছেলের সাথে মেসি।

আজ ৩২ বছরে পা দিলেন মেসি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওই বুটজোড়া তুলে রাখার সময় ও এগোচ্ছে। কোটি-কোটি ফুটবল সমর্থক সেই দিনটা আসুক তা চাইবে না।কিন্তু আর কয়েক বছর পরেই দেখা যাবে না ওনার ক্ষিপ্র গতি,নিখুঁত পাস,নিখুঁত ফ্রি-কিক, অসাধারণ আর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং গুলো।

আগামি দিনগুলো ভাল কাটুক, না পাওয়া জিনিস টা হোক পাওয়া,পূরণ হোক কোটি-কোটি মেসি ভক্তের প্রত্যাশা।

বেঁচে থাকুক মেসি হাজার বছর। তার ফুটবল শৈলীতে মুগ্ধ করে রাখুক গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের।

জন্মদিনে লিওনেল মেসির জন্য আমাদের স্পোর্টসজোন ২৪ পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here