দুই দশকে ওয়ানডে ক্রিকেটে এসেছে আমূল পরিবর্তন

ক্রিকেট, ভদ্রলোকের এই খেলায় সময়ের পরিবর্তনে পালটে গেছে অনেক কিছু। রঙিন পোশাকের ক্রিকেট আবির্ভাব হওয়ার পর রঙ বদলেছে অনেকবার৷ ইংল্যান্ডে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয় ১৯৯৯ সালে। তখন প্রতি ইনিংস বল ব্যবহার করা হতো একটি। ছিলো ১৫ ওভারের ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন। আর প্রতিটি ম্যাচের রিজার্ভ ডে ছিলো। ঠিক দুই দশক পর আবারো ইংলিশদের মাঠিতে হচ্ছে। কিন্তু বদলে গেছে অনেক ক্রিকেটীয় নিয়মকানুন।

বর্তমানে ইনিংস প্রতি ব্যবহৃত হচ্ছে দুইটি কোকাবুরা বল। তিন ধরনের ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন রয়েছে। এছাড়া আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হলে সুযোগ রয়েছে চ্যালেঞ্জ করার। নিয়মকানুনের পরিবর্তন প্রভাব ফেলে মাঠের ক্রিকেটে। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটের পরিবর্তনের একমাত্র প্রভাবক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। তাই তো ১৯৯৯ সালের ক্রিকেটের সঙ্গে ২০১৯ সালের ক্রিকেটের বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়।


প্রথমে ব্যাটিং নাকি পরে: ওয়ানডে ক্রিকেটে আগে করাকে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করা হতো গত শতকের শেষ দশকে। চাপমুক্ত ভাবে ব্যাট করা ছাড়াও উইকেট ও আউটফিল্ডের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতো। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে তা কাজে আসতো। কিন্তু বর্তমানে প্রতিপক্ষের রান তাড়া করাকে সুবিধাজনক মনে করে অনেক দল। এর ফলে বিশাল বিশাল রানের পাহাড়ও অনায়াসে টপকে যায় পরে ব্যাটিং করা দলগুলো। পরিসংখ্যান বলছে ১৯৯৬ সালের পর থেকে দিনের খেলায় টস জয়ী অধিনায়করা যতবার আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার চেয়ে বেশি নিয়েছে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত। আবার দিবা-রাত্রি ম্যাচের চিত্রটা উল্টো।

ওয়ানডে বিশেষজ্ঞ: এখানে ওয়ানডে বিশেষজ্ঞ বলতে বোঝায় যারা টেস্টের তুলনায় একদিনের ম্যাচ বেশি খেলে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড বাদে প্রতিটি দলে বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারের শতকরা হার বেড়েছে। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলে হুট করে বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

বেড়েছে চার-ছক্কার হার: আধুনিক ক্রিকেটে প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে রান রেট। এর পেছনে মুল কারণ হলো চার ও ছক্কার হার বৃদ্ধি। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল, এই চার বছরে ওয়ানডে ম্যাচে প্রতি আটটি বাউন্ডারির বিপরীতে ওভারবাউন্ডারি হতে একটি। কিন্তু বর্তমানে পাঁচটি চারের বিপরীতে মারা হচ্ছে একটি ছক্কা। এছাড়া ম্যাচপ্রতি গড়ে চার মরা হয়েছিল ৩৫টি। বর্তমানে সে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০। আর এখন প্রায় প্রতিম্যাচে গড়ে আটটি করে ছক্কা হয়।

স্পিনারদের হাতে নতুন বল: আগে কালভাদ্রে স্পিনারদের হাতে তুলে দেওয়া হতো নতুন বল। কিন্তু বর্তমানে বেড়েছে সেই প্রবণতা। ২০০৩ থেকে ২০০৭ বিশ্বকাপের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম ১০ ওভারে গড়ে ১.৬ বল করতো স্পিনাররা। বাকি ৫৮.৪টি বল করতেন পেসাররা। কিন্তু বর্তমানে প্রথম ১০ ওভারে গড়ে ১৪টি বল করে স্পিনাররা। সঙ্গে ইনিংস প্রথম ওভার স্পিনারদের দিয়ে করা অনেক দল।

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান: গত শতকের শেষ দশকে শুধু উইকেটরক্ষকের প্রচলন ছিলো। উইকেটর পেছনে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারলেই যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু বর্তমান সময়ে শুধু উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া কষ্টসাধ্য। বর্তমানে একজন উইকেটরক্ষকে দলের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়া জুরুরি।

সেরা ব্যাটসম্যানই সেরা হিটার: দু’দশক আগে সেরা ব্যাটসম্যানের কাজ ছিলো দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে দলের জন্য একটি সুন্দর সূচনা ও শক্ত ভিত দেওয়া। যার উপর দাঁড়িয়ে সেরা হিটাররা শেষ দিকে বিগ-হিটিংয়ের মাধ্যমে বাড়িয়ে দিতে রানের গতি। কিন্তু বর্তমানে এই দুই দায়িত্ব পালন করতে হয় সেরা ব্যাটসম্যানকে। এখন ইনিংসের ভিত গড়ার সঙ্গে সঙ্গে রানের গতিও বাড়াতে হয় তাকে।