‘মানকাডিং কি’ ও ক্রিকেট ইতিহাসে এমন আউটের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে…

Photo: sportszone24

গতকাল আইপিএলে পাঞ্জাব অধিনায়ক রবিচন্দ্র আশ্বিন বল করতে গিয়ে থেমে রাজস্থান ব্যাটসম্যান জস বটলারকে রান আউট করেন আর তারপর থেকেই ক্রিকেট বিশ্ব নানা আলোচনা ও সমলোচনা দেখছে। আলোচনার মূলে এই মানকাডিং আউট।

মানকাডিং আউট কি…?
আইসিসি নিয়মের ৪২.১৫ ধারা অনুযায়ী কোনো বোলার যদি বোলিং শুরু করার আগে বা বল ডেলিভারি দেওয়ার আগে দেখতে পায় যে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যান ক্রিজ ছেড়ে বাইরে চলে গেছে তাহলে ওই বোলার বল ডেলিভারি না করেই নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে আউট করার জন্য স্ট্যাম্প ভেঙে দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে ওই ডেলিভারিটি ওই ওভারের কোন বল হিসেবে গণ্য হবে না এবং বোলার যদি আউট করতে ব্যর্থ হয় তবে সেটা ডেড বল হিসেবে গণ্য হবে।

কিংবদন্তী ভারতীয় বোলার ভিনা মানকাদের নামে নামকরণ করা হয়, ‘মানকডিং’ রান আউটের একটি পদ্ধতি যেখানে একটি বোলার কোনও স্ট্রাইকারকে বোলিংয়ের আগেই বোলিংয়ে আঘাত করে আউট করে।

‘মানকডিং’ শব্দটি আবিষ্কারক বলা হয় অস্ট্রেলিয়ান প্রেসকে। ১৯৪৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরকালে, ভারতীয় স্পিনার ভিনো মানকাড অস্ট্রেলিয়ান বিল ব্রাউনকে এভাবে আউট করেছিলেন, একবার না দুই দুই বার আর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ডন ব্র্যাডম্যান মানকাডকে সমর্থন করেছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ান প্রেস তাকে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য দারুণ ভাবে সমালোচনক করেন। তারপর থেকে এই আউট মানকাডিং নামে পরিচিত।

আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে এই ম্যানকাডিংয়ের ঘটনা ঘটেছে আটবার। তারমধ্যে টেস্টে চারবার ও ওয়ানডেতে চারবার। প্রথমবার এই আউটের শিকার হন বিল ব্রাউন ও ৮ম বার এই ম্যানকাডিংয়ের শিকার হয় বাটলার

২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। বোলিং করছিলেন রফিক , নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে ইনজামামুল হককে সাপোর্ট দেওয়া ব্যাটসম্যান ওমর গুল ক্রিজ ছেড়ে বের হয়ে যান। মানকাড় আউট করার সুযোগ পেয়েও তা করেন নি রফিক। আর সে ম্যাচ বাংলাদেশ হারে এক উইকেটে। মোহাম্মদ রফিক যদি সেদিন আউট করতেন তাহলে সে ম্যাচে হয়ত আমরাই জয় লাভ করতাম।

১৯৪৭ সালে প্রথমবারের মত এই আউটের শিকার হন অস্ট্রেলিয়ার বিল ব্রাউন। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভিনু মানকড় দুইবার বিল ব্রাউনকে এভাবে আউট করেন। সেখান থেকে তার নাম অনুসারে নামকরণ হয় ‘ম্যানকাডিং’ বা “মানকাড় আউট”।

২০১৪ সালে শ্রীলংকা ইংল্যান্ডের ম্যাচে শ্রীলংকার সচিত্রা সেনানায়েকে বাটলারকে এভাবেই আউট করেন।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দরকার শেষ ওভারে ৩ রান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর দরকার এক উইকেট। এমন সময় বোলার কিমো পল বল করতে এসে দেখেন ব্যাটসম্যান রিচার্ড নগারাভা ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন। এমন সুযোগে তিনি ডেলিভারি না করে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন, ক্রিকেট এর নিয়ম অনুসারে রান-আউট। ম্যাচ হেরে বসে জিম্বাবুয়ে।

১৯৮৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তান বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। ডু অর ডাই ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ বলে দুই রান প্রয়োজন পাকিস্তানের। বল করছিলেন আমাদের বর্তমান জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ ওয়ালস। এমন সময় ব্যাটিং এর নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যান সেলিম জাফর বোলার বল ডেলিভারি দেওয়ার আগে অনেক খানি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু বোলার ওয়ালস মানকাড় আউট না করে তাকে ক্রিজে আসার সুযোগ দেন। পরে শেষ বলটি থেকে আবদুল কাদের দুই রান নিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন। আর বিদায় নেয় আগের দুই বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

গতকাল আইপিএল এর ম্যাচে আশ্বিনও ঠিক সেই নিয়মে বাটলারকে আউট করেন। তবে এটা ক্রিকেটের সৌন্দর্য নয়। আইসিসির উচিৎ এই নিয়ম বাদ দেয়া।

আর যাইহোক যেহেতু এটা এখন পর্যন্ত আইসিসির নিয়মের আওতায় আছে সুতরাং আউট দিবেই।

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো নয়, অশ্বিনের ২০১২ সালের কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজের সময় একই পদ্ধতি ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কার লাহিরু থিরিমেনকে আউট করে। এমনকি থিরিমান্নের আগেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে অধিনায়ক বীরেন্দার শেবাগ আপিল প্রত্যাহার করেন এবং আম্পায়াররা এটিকে নট আউট বল ঘোষণা করেন।