টানা চার জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মাশরাফির আবাহনী

photo: collected

রুবেল হোসেনের তোপের পর মোসাদ্দেক হোসেনের স্পিনে নাকানিচুবানি খেল শাইনপুকুর। এরমধ্যে দাঁড়িয়েও আফিফ হোসেন আর তৌহিদ হৃদয় চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে বড় পূঁজি আসেনি, মামুলি রান তাড়ায় তাই ওয়াসিম জাফরের ব্যাটে অনায়াসে জিতেছে আবাহনী।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে আবাহনীর হয়ে এদিন নেমেছিলেন নিউজিল্যান্ড সফর করে আসা সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুনরা। মাশরাফি মর্তুজা, রুবেল হোসেন তো ছিলেনই। দুদলের শক্তির তারতম্য দেখা গেছে ম্যাচেও। শাইনপুকুরের দেওয়া ২০৪ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে আবাহনী।

চার ম্যাচের সবগুলোতেই জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আবাহনীর এদিনের জয়ের নায়ক ভারতীয় ওয়াসীম জাফর। এই ওপেনার সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন।

২০৪ রান তাড়ায় সৌম্য সরকারকে নিয়ে ভালো শুরু আনেন ওয়াসিম। ধীরলয়ে ব্যাট করে দুজনে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। ১৮তম ওভারে দলের ৬২ রানে বিদায় নেন সৌম্য। অনেকটা স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাট করে ৫৭ বলে ৩৩ রান করে শুভাগত বলে বোল্ড হন সৌম্য।

ওয়ানডাউনে নেমে নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন চনমনে। ওয়াসিমের সঙ্গে তার জুটিও জমে যায়। ৮৫ রান জুটিয়ে ম্যাচের আধিপত্য আবাহনীর কাছে এনে বিদায় নেন শান্ত। ৫২ বলে ৪২ রান করা শান্ত ফেরার পর অবশ্য শরিফুলের তোপে পথ হারাতে বসেছিল আবাহনী। ১৭৪ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে কিছুটা অপ্রস্তুতও হয়ে পড়েছিল তারা।

তবে সাব্বির রহমান আর মুনিম শাহরিয়ার সেই শঙ্কা উবে দিয়েছেন দায়িত্বশীলতা দেখিয়ে।

সকালে টস জিতে শাইনপুকুরকে ব্যাট করতে দিয়ে চেপে ধরেন আবাহনী। মাশরাফি উইকেট না পেলেও ৫ ওভার দেন মাত্র ১৪ রান। অন্য দিকে ৮ ওভারে ২৮ রান দিয়ে রুবেলে ফেলেন ২ উইকেট। বাকিটা সেরে নেন নাজমুল ইসলাম অপু আর মোসাদ্দেক হোসেন, বেধে রাখার কাজটা করেন সানজামুল ইসলামও।

আফিফের ৪৮ আর তৌহিদের ৩৯ রান করে কেবল বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন। শাইনপুকুর পায়নি লড়াইয়ের পূঁজি, শক্তিশালী আবাহনীকে তাই দেওয়া হয়নি শক্ত চ্যালেঞ্জ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ৫০ ওভারে ২০৩/৯ (সাদমান ১৬, সাব্বির ১০, উপুল ০, তৌহিদ ৩৯, আফিফ ৪৮, শুভাগত ১২, ধীমান ২২, শুভ ২৪*, দেলোয়ার ২, টিপু ৫, শরিফুল ৭*; মাশরাফি ০/১৪, রুবেল ২/২৮, সৌম্য ০/২৭, নাজমুল ২/৪১, সানজামুল ১/৪২, মোসাদ্দেক ৩/৪১, শান্ত ০/১)

আবাহনী লিমিটেড: ৪৮.৩ ওভারে ২০৬/৫ (ওয়াসিম ৭৬, সৌম্য ৩৩, শান্ত ৪২, মিঠুন ১৫, মোসাদ্দেক ২, সাব্বির ১৩*, মুনিম ২১* ; দেলোয়ার ০/২৬, শুভাগত ১/২৭, টিপু ০/৩৪, শরিফুল ৩/৪৪, শুভ ০/৪৭, আফিফ ০/১৭, সাব্বির ০/৯)

ফল: আবাহনী লিমিটেড ৫ উইকেটে জয়ী।