ডার্বিতে অ্যাতলেতিকোকে হারিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়তে রিয়াল

লা লিগায় গত চারটি মাদ্রিদ ডার্বি হয়েছিল ড্র। এই মৌসুমে আগের দেখায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলশূন্য ড্রয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে রুখে দেয় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবার নিজ মাঠে তারা হেরে গেলো নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে।

শনিবার ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানোতে অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। এনিয়ে টানা ৭ ম্যাচ অজেয় থাকলো সান্তিয়াগো সোলারির দল।

এই জয়ে ২৩ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাতলেতিকোকে টপকে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠলো রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনার (৫০) সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখন ৫ পয়েন্টের। নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক পয়েন্ট পেছনে থেকে তিনে অ্যাতলেতিকো (৪৪)।

নগরপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম শট নিয়েছিল অ্যাতলেতিকো। ১০ মিনিটে থোমাস লেমার বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন। কিন্তু রিয়াল ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে গোলবারের পাশ দিয়ে শট নিতে বাধ্য হন তিনি।

রিয়াল লক্ষ্যে নেওয়া প্রথম শটে গোল উচ্ছ্বাস করে। ১৬ মিনিটে টোনি ক্রুসের কর্নার থেকে সের্হিয়ো রামোসের ফ্লিকে বেশ ফাঁকা জায়গায় বল পান কাসেমিরো। ছয় গজ দূর থেকে নেওয়া তার ওভারহেড কিক ঠেকাতে পারেননি অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক জ্যান ওবলাক।

চার মিনিট পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে পারতো রিয়াল। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের চোখ ধাঁধানো ক্রস লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন লুকাস ভাসকেস, বক্সের মধ্যে থেকে তার ভলি ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। ২৫ মিনিটে আন্তোয়ান গ্রিজমানের দুর্দান্ত গোলে সমতা ফেরায় অ্যাতলেতিকো। মাঝমাঠ থেকে আনহেল কোরেয়ার চতুর পাসে একাই বল টেনে নিয়ে রিয়ালের বক্সে ঢুকে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। যদিও কোরেয়া বল নেওয়ার আগে ভিনিসিয়াসকে ফাউল করেছেন কিনা দেখতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তা নেন। শেষ পর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

৩১ মিনিটে কর্নার থেকে ব্যাকপোস্টে দাঁড়ানো গ্রিজমানের হাঁটুতে বল লেগে ক্রসবারের উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। চার মিনিট পর রিয়ালের সুযোগ নষ্ট করেন ওবলাক। বক্সের প্রান্ত থেকে ক্রুসকে রুখে দেন তিনি। বিরতিতে যাওয়ার চার মিনিট আগে পেনাল্টি আদায় করেন ভিনিসিয়াস। ১৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বাঁদিক দিয়ে বক্সে ঢোকার একেবারে আগ মুহূর্তে গিমেনেসের ফাউলের শিকার হন। ভিএআর ব্যবহারে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়া ওবলাককে ফাঁকি দিয়ে ব্যবধান বাড়ান রামোস।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় অ্যাতলেতিকোর। ৫১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে আলভারো মোরাতার পাস কাজে লাগাতে পারেননি গ্রিয়েজমান। বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ডের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। তিন মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক ক্রসে কোর্তোয়ার মাথার উপর দিয়ে জালে বল জড়ান মোরাতা। কিন্তু তার গোল উদযাপন ভেস্তে যায় অফসাইডের সিদ্ধান্তে। ভিএআর-ও একই সিদ্ধান্ত জানায়। ৬১ মিনিটে গিমেনেসের শট চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন কোর্তোয়া।

অ্যাতলেতিকোর ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা শেষ হয়ে যায় গ্যারেথ বেলের গোলে। ভিনিসিয়াসের বদলি হয়ে ৫৭ মিনিটে মাঠে নামেন তিনি। আর ৭৪ মিনিটে তৃতীয় গোলে রিয়ালকে স্বস্তিতে ফেরান ওয়েলস তারকা। লুকা মদরিচের বাড়িয়ে দেওয়া বলে বক্সের ভেতর থেকে সহজে স্বাগতিক গোলরক্ষককে ব্যর্থ করেন তিনি।

শেষ ১০ মিনিট অ্যাতলেতিকো একজন কম নিয়ে খেলেছে। ৮০ মিনিটে ক্রুসকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন থোমাস পার্টে। খেলা শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে ক্রসবারের উপর দিয়ে বল যাওয়ায় জোড়া গোল করতে পারেননি বেল। রিয়ালের জার্সিতে এটি ছিল তার শততম গোল।