৩ ঘন্টার ব্যাবধানে সিলেটকে নামিয়ে আবারো পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে রাজশাহী

দিনের প্রথম ম্যাচ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে। ম্যাচ শেষেই সিলেটের জয়ে এক ধাপ নেমে ৬ চলে গেলো রাজশাহী। আর তাতেই যেন উদ্যমতা বেড়ে গেল কিংসদের। খেলতে নেমে এবারের আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ রান করে ভাইকিংসদের ৭ রানে হারিয়ে আবারো পাঁচে উঠে এসেছে মিরাজরা।

রাজশাহীর জয়ের অন্যতম নায়ক মোস্তাফিজ। ম্যাচের ১৭তম ওভারেই টেনডসকাটকে ২ছক্কা হাকিয়ে ভাইকিংসদের যখন জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সিকান্দার রাজা। তখন পরের ওভারে বোলিংয়ে আসলেন ফিজ দিলেন ৬ রান। আর শেষ ওভারে যখন প্রয়োজন ১৩ রান প্রথম বলেই রাজাকে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে বোল্ড করলেন ফিজ। তাতেই যেন জয় নিশ্চিত হয় রাজশাহীর। আর ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হোন মোস্তাফিজ।

রাজশাহীন দেওয়া ১৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরতে ওপেনার ডেলপোর্ট ফিরে গেলেও ঝড়ো সুচনা এনে দেন ওপেনার শেহজাদ। ২২ বলে খেলেন ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংস। ফিফটি তুলে নেন আরেক ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী। কিন্তু তাদের ফিরে যাওয়ার পর রাজা জয়ের স্বপ্ন দেখালেও ফিজের কাছে ধরাশায়ী হয়ে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ভাইকিংসদের। আর ১০ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সিলেটকে নামিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে এসেছে রাজশাহী।

ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু হয় রাজশাহীর। প্রথম জুটিতে জনসন চার্লস ও সৌম্য সরকার ৫০ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন। এরপর ব্যক্তিগত ২৬ রানে সৌম্যকে ফেরান খালেদ আহমেদ। তার বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে লরি ইভান্সের সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়েন চার্লস। তবে সেই জুটিও ভেঙে দেন খালেদ। তার করা বলে দলীয় ১২০ রানে ফেরেন ইভান্স। ফেরার আগে ২৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

এরপর রায়ান টেন ডেসকাটেকে সঙ্গে করে এগুতে থাকেন চার্লস। ব্যাট হাতে অর্ধশতক তুলে নেন রাজশাহীর এই ওপেনার। তবে দলীয় ১৪৮ রানে তাকে এলবিতে ফেরার আবু জায়েদ রাহী। ফেরার আগে ৪৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন চার্লস।

তবে শেষ দিকে ব্যাটে ঝড় তোলেন ডাচ ব্যাটসম্যান টেন ডেসকাটে। কিন্তু আবু জায়েদ রাহীর করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে রানআউট হয়ে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ফেরার আগে ১২ বলে ৪ ছক্কায় ২৭ রান করেন তিনি। এরপর ব্যাটে ঝড় তোলেন ক্রিস্টিয়ান জঙ্কার। শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে থামান ডেলপোর্ট। তার বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জঙ্কার। আর ফজলে মাহমুদ ১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

চিটাগংয়ের খালেদ আহমেদ সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন। এছাড়াও ডেলপোর্ট ও আবু জায়েদ ১টি উইকেট নেন।