শুভ জন্মদিন ‘ফিলিপ হিউজ’

“শুভ জন্মদিন হিউজি, লিটল ম্যাইট”

ক্রিকেটের শুরু হয়েছিল বাড়ির পিছনে বাবা ও বড় ভাইয়ের সাথে ক্রিকেট দিয়ে । আগে ব্যাটিং কড়া নিয়ে হতো খুনসুটি। আউট হলেও তাকে আবার ব্যাটিং এ পাঠাতে হত না হয় মায়ের কাছে ভাইয়ের নামে দিতেন বিচার। বলছিলাম একজন ছোট্ট বালকের কথা । যে বড় হয়েও তার দলের সতীর্থদের কাছে পরিচিত ছিল “কিড” হিসাবে । সে অল্প সময়ে জন্য পৃথিবীতে এসে সবচেয়ে বেশি ভালবাসা পেয়ে পরপারের যাত্রী হয়েছেন। তিনি “ফিলপ হিউজ” । আজ ৩০ শে নভেম্বর, ১৯৮৮ সালের এই দিনে ম্যাকভিলের কলা চাষী বাবা গ্রেগ ও ইতালিয়ান মা ভার্জেনিয়ার কোল আলোকিত করে জন্ম নেন ফিলপ হিউজ ।

• পুরো নাম ফিলিপ জুয়েল হিউজ। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস এর ম্যাকভিলে জন্ম নেয় তিনি। ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা তার ছোট বেলা থেকেই। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নিউ সাউথ ওয়েলস প্রাইমারি স্কুল টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন হিউজ। ক্লাব ক্রিকেটে তার হাতেখড়ি হয় ১২ বছর বয়সেই ম্যাকভিলের ক্লাব “আরএসএল ক্রিকেট ক্লাবে”।

২০০৪ সালে সালে খেলেন অঞ্চল ভিত্তিক অনুর্দ্ধ-১৫। বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভর হয়ে ১৭ বছর বয়সে পারি জমান সিডনীতে।
২০০৭ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস এর হয়ে ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করেন তিনি। মাইকেল ক্লার্কের পর তিনিই ছিলেন সেই দলের কনিষ্ঠ অভিষিক্ত সদস্য । ফাস্ট ক্লাসে অভিষেকের বছর হিউজের পারফর্মেন্স ছিল নজরকারা। সাত ম্যাচে ৬২.১১ গড়ে , ১ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিতে করেন ৫৫৯ রান। ১৯ বছর বয়সে সর্ব কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শেফিল শিল্ডের ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন তিনি।
ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটে ১১৯ ম্যাচে ৪৬.৫১ গড়ে করেন ৯০২৩ রান। যাতে আছে ২৬ টি সেঞ্চুরি , ৪৬ টি ফিফটি এবং সর্বোচ্চ রান-২৪৩* ।বয়সে কনিষ্ঠ হলেও ক্রিকেটীয় জ্ঞান ছিল সমৃদ্ধ। অনেকে বলতেন তার টেকনিক সাঙ্গাকারা এবং দ্রাবিড়ের মত ।

• তার ঘরোয়া লীগ গুলোর সাফল্য অজি বোর্ড কর্মকর্তাদের নজরে আসে।২০০৯ সালে মেথু হেইডেনের পরিবর্তে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পায় হিউজ। ২৬ শে ফেব্রুয়ারি জোহানেসবার্গে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ডেব্যু হয় । ডেইল স্টেইনের বলে ডাক মারেন ১ম ইনিংসে কিন্তু ২য় ইনিংসে ৭৫ রান করেন তিনি। পরের ম্যাচেই করেন নিজের ১ম টেস্ট সেঞ্চুরি ১১৫(১৫১), ২য় ইনিংসে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৬০(৩২৩)। সেই বছরই খেলেন জীবনের প্রথম “দ্যা এশেজ সিরিজ”। শর্ট বলে দুর্বলতা তাকে অনেক ভুগিয়েছিল সেবার।
তিনি প্রায় সবসময় দলে জায়গা পেতেন দলের কেউ ইঞ্জুরিতে পরলে। যেমন- ২০১০ পাকিস্তান সিরিজে রিকি পয়েন্টিং , নিউজিল্যান্ড সিরিজে শ্যেন ওয়াটসন , ২০১০-১১ এসেজে সাইমন কাটিজ এর পরিবর্তে।
ধারাবাহিক রান সংগ্রহের দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় তার জীবনদশায় মাত্র ২৬ টি টেস্ট খেলেন তিনি। ৩২.৬৫ গড়ে রান করেন ১৫৩৫ , ৩ টি শতক ও ৭ টি অর্ধ-শতক।
• ২০১৩ তে মাইক হাসির অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই দলে ডাক পায় হিউজ। ২০১৩ সালে নিজ মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজে তার অভিষেক হয়। অভিষেক ওডিআইতেই করেন সেঞ্চুরি ১১২(১২৯)। অজিদের হয়ে অভিষেকেই সেঞ্চুরির রেকর্ড তারই দখলে। সেই সিরিজের ৪র্থ ওডিআইতে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৮*। হিউজ মোট ২৫ টি ওডিআই খেলেছেন। ৭৫.০৯ স্ট্রাইক রেটে তুলেন ৮২৬ রান যার মাঝে আছে ২ টি শতক ও ৪ টি অর্ধ শতক। জীবনের শেষ ওয়ানডে খেলেন পাকিস্তানের সাথে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল ছাড়াও খেলেছেন নিউ সাউথ ওয়েলস, মিডেলসেক্স, হেম্পশায়ার, সিডনী থান্ডার, অয়াস্টারশায়ার, এডিলেড স্ট্রাইকারস,মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর হয়ে।
জাতীয় দলের হয়ে ১ টি মাত্র টি-২০ খেলার সৌভাগ্য হয় তার।
২৫শে নভেম্বরস, ২০১৪ ! সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম সাউথ ওয়েলসের শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচে শন অ্যাবোট এর বাউন্সারটি সরাসরি তার ঘারে আঘাত আনে । হাসপাতলে নেয়ার পর ২৭ শে অক্টোবর তিনি কোটি ক্রিকেট ভক্তকে কাদিয়ে পরপারে পারি জমান। সেই ম্যাচে তার ৬৩* রান স্মৃতির পাতায় ধারন করে রেখেছে ক্রিকেটভক্তরা ।
আজ তার ২৮ তম জন্ম দিন এই দিনে তার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।
যেখানেই থাকো ভালো থাকো লিটল মেইট।

লেখক : হার্ড ডিস্ক অমিত।