এবার সৌম্য-তাসকিনদের সমালোচনায় নান্নু

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে হতাশাজনক হারের উপহার দিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। ১০ ম্যাচ খেলে মাত্র ২ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে রয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। মিসবাহ উল হকের নেতৃত্বে বাজে শুরুর পর।লুক রঞ্চির কাঁধে অধিনায়কত্ব তুলে দিলেও ভাগ্য ফেরেনি চিটাগংয়ের। চলতি আসরের মতো, এতোটা দৈন্য পারফরম্যান্সে চিটাগংকে আর একবারই দেখা গিয়েছিল। সেটি ছিল ২০১৫ সালে। বিপিএলের তৃতীয় আসরে। গ্রুপ পর্বের ১০ ম্যাচের মাত্র ২ জয়ে টেবিলের একেবারে তলানিতে থাকায় সেবারও শেষ চার খেলা হয়নি দলটির।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জাঁকজমকপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের প্রথম দুই আসরেই দুর্দান্ত খেলেছিল চিটাগং। ২০১২ সালে প্রথম আসরে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বরিশাল বার্নার্সের চেয়ে হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে উঠেছিলো সেমি ফাইনালে। তবে, নিয়মের মারপ্যাঁচে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যায় সে সময়ের চিটাগং কিংস।

দ্বিতীয় আসরে মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দলটি ফাইনাল খেলেছিল। আর ২০১৬ সালে বিপিএলের চতুর্থ আসরে ১২ ম্যাচে ছয় জয়ে ছিল টেবিলের তিন নম্বরে। সেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স এখন ধূসর অতীত চিটাগংয়ের। হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে দলটি।

এমন পারফরমেন্সের পর ভাইকিংসদের মেন্টর মিনহাজুল আবেদীন নান্নু কড়া সমালোচনা করেছেন দলের ক্রিকেটারদের। দলের হতাশাজনক পারফরমেন্সের জয় দায়ী করেছেন দলের দেশি প্লেয়ারদের বাজে পারফরম্যান্সকে।

তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের দেশি প্লেয়াররা ভালো পারফর্ম করতে পারছে না। এটাই আমাদের জন্য ভাইটাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজয় দুটি ইনিংস ভালো খেললেও সৌম্যর মতো আইকন প্লেয়ারের কোনো পারফরম্যান্সই নেই। শুভাশীষেরও নেই। তাসকিন উইকেট নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু রান অনেক বেশি দিয়ে ফেলছে। সানজামুল দুটি ম্যাচ ভালো খেললেও বাকি ম্যাচগুলো ভালো খেলেনি। সব মিলিয়ে পারফরম্যান্স জিরো।’

তবে দলের বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেছেন নান্নু। তিনি মনে করেন দেশি খেলোয়াড়রা একটু ভালো করলেই চিত্রটা অন্যরকম হতে পারতো। চিটাগং ভাইকিংস বিপিএলের চলতি আসরে পাওয়ার-প্লের সঠিক ব্যবহার করতে পারেনি বলেও জনিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে নান্নু বলেন, ‘বিদেশি প্লেয়ারদের সাথে দেশিদের কম্বিনেশনে যদি দল ভালো না খেলে তাহলে রেজাল্ট পাওয়টা মুশকিল। ব্যাটিংয়ে বিদেশিরাই সব সময় রান করে দিচ্ছে। বিপিএলে একমাত্র চিটাগং ভাইকিংস পাওয়ার প্লে’র সঠিক ব্যবহার করতে পেরেছে। এভারেজ দেখবেন ১৭০ এর ওপরে রান। যেহেতু দেশি প্লেয়ারদের ওপরে দলটি নির্ভরশীল সেই হিসেবে লোকাল বোলাররা কিছুই করতে পারেনি। ওরা একটু ভালো করলে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।’

দেশি খেলোয়াড়দের বাজে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাইকিংস ফ্র্যাঞ্চাইজির নিম্ন বাজেটকেও টুর্নামেন্টে দলের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক এই নির্বাচক, ‘চিটাগং ভাইকিংস একটি লো বাজেটের দল। প্রথম থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বড় বাজেটের দল করবে না। লো প্রোফাইলের দল হলে টিম ব্যালেন্স কঠিন হয়ে যায়।’