রিয়ালকে ভালই শিক্ষা দিল তৃতীয় সারির ফুয়েনলাব্রাডার

ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো ফুয়েনলাব্রাডার মুখোমুখি হতে হয়, রিয়াল মাদ্রিদের কোচরা নিশ্চয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির দল নামানোর সাহস করবেন না! মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দৈত্য রিয়ালকে যে শিক্ষাটা দিয়েছে পুঁচকে ফুয়েনলাব্রাডা, সত্যিকার অর্থেই তা অনেক দিন মনে থাকার কথা রিয়ালের। প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়েছিল। মঙ্গলবার নিজেদের ঘরের মাঠে কোপা দেল ডে’র শেষ ৩২ রাউন্ডের দ্বিতীয় লেগে তাই রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান নামিয়ে দিয়েছিলেন স্কোয়াডের সব তরুণ খেলোয়াড়দের।

‘পুঁচকে ফুয়েনলাব্রাডা এমন কি আর করতে পারবে’ এমন ভাব নিয়ে জিদান যে একাদশটি নামিয়ে ছিলেন, সেটা তার অধীনে রিয়ালের সবচেয়ে তরুণ একাদশ। একাদশের খেলোয়াড়দের গড় বয়স মাত্র ২১ বছর ১৫৬ দিন! সব সিনিয়র খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে তরুণদের বাজিয়ে দেখার এই পরীক্ষায় প্রায় ধরাই খেতে বসেছিলেন রিয়াল কোচ।

না, রিয়ালকে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়নি। বার্নাব্যুতে পুঁচকে ফুয়েনলাব্রাডার সঙ্গে ড্র করেছে ২-২ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলের অগ্রগামিতা নিয়ে রিয়াল উঠেও গেছে শেষ ষোলতে। কিন্তু অখ্যাত ফুয়েনলাব্রাডা বেশ বড় একটা ঝাঁকুনিই দিয়েছে জিদানের বিশ্বসেরা রিয়ালকে।

ঝাঁকুনিটা কত বড় জিদান সেটা টের পেতেন যদি দীর্ঘ দিন পর মাঠে ফিরেই এভাবে জ্বলে না উঠতেন গ্যারেথ বেল। চোটের কারণে দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে বেলকে। রিয়াল কোচ পরীক্ষামূলকভাবে সেই বেলকেই নামিয়ে দিয়েছিলেন দ্বিতীয়ার্থে। দল তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে। রিয়াল সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে ম্যাচের ২৫ মিনিটে ফুয়েনলাব্রাডাকে এগিয়ে দেন লুইস মিলা। গোল খাওয়ার পরই যেন ঘুম ভাঙ্গে রিয়ালের। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পরেোশধ করতে পারছিল না কিছুতেই।

অবশেষে রিয়াল গোলের দেখা পায় ৬২ মিনিটে। রিয়ালকে সমতায় ফেরান বোরিয়া মেয়োরাল। ৭০ মিনিটে এই মেয়োরালই রিয়ালকে এনে দেন ২-১ গোলের লিড। ৮৯ মিনিটে ফুয়েনলাব্রাডাকে সমতায় ফেরান পোর্তিলা।

স্কোরকার্ড বলছে, রিয়ালের এই ড্রয়ের নায়ক মেয়োরাল। দলের দুটি গোলই করছেন তিনি। কিন্তু তাকে ছাপিয়ে সত্যিকার নায়ক আসলে বেল। মেয়োরালকে দুটি গোলই বানিয়ে দিয়েছেন ওয়েলস উইঙ্গাপর। তার চেয়েও বড় কথা, দ্বিতীয়ার্থে বেল বদলি হিসেবে নামার পরই উজ্জীবিত হয়ে উঠে রিয়াল।

ম্যাচ শেষে জিদান ছিলেন বেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। রিয়াল কোচ প্রশংসায় ভাসিয়েছেন প্রতিপক্ষ ফুয়েনলাব্রাডাকেও। পুঁচকে ফুয়েনলাব্রাডার সঙ্গে ড্র, অনেকেই বাঁকা কথা বলছেন। কিন্তু রিয়াল কোচ বললেন, ম্যাচের ফল বা দলেল খেলায় মোটেই বিরক্ত নন তিনি।

জিদান বরং খুশি, ‘আমি বিরক্ত নই। আমরা বরং এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। খেলোয়াড়দের জন্য কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কারণ, মাঠের সব খেলোয়াড়ই ছিল তরুণ। আমি খুশি যে, আমরা পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়েছি। আর আমাদের প্রতিপক্ষও অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। কৃতিত্ব তাদের দিতেই হবে।’