৭ বলের ওভার করে যা বললেন রাব্বী

রংপুর রাইডার্সের কাছে ৪ উইকেটের হার নিশ্চিত হওয়ার পর নাসির হোসেন ও সাব্বির রহমান বেশ ক্ষেপে গেলেন। আম্পায়ারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে সাব্বির রহমান এর আগে জরিমানা গুনেছেন। নাসির হোসেনকে জরিমানা না করলেও সতর্ক করা হয়েছিল। দুজনেরই নামের পাশে যোগ হয়েছে ডিমেরিট পয়েন্ট।

কিন্তু দুজনই আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান লিটুর উপর ক্ষিপ্ত! কারণ দুটো। প্রথমত শেষ ওভারের প্রথম বলে ‘ক্রিটিকাল’একটা ওয়াইড বল কল করেন মাহফুজুর রহমান। দ্বিতীয়ত, টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ১৬তম ওভারে ৭ বল করেন কামরুল ইসলাম রাব্বী! এটাও কি করে সম্ভব?

শেষ ওভারে ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। প্রথম বলটি ওয়াইড কল করেন আম্পায়ার। বোলার টিম ব্রেসনেন এবং অধিনায়ক নাসির হোসেন অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। ম্যাচ শেষে নাবিল সামাদ বলেন,‘শেষ ওভারের প্রথম বলে একটা ক্রিটিক্যাল ওয়াইড দেওয়া হয়েছিল।’

১৬তম ওভারের প্রথম বলে চার হজম করেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বী। পরের বলে বোপারা নেন ১ রান। তৃতীয় বলে সামিউল্লাহ সেনয়ারি ১ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। পরের বলে বোপারা নেন আরও ১ রান। পঞ্চম বলে মাশরাফির ব্যাট থেকে আসে ১ রান এবং ষষ্ঠ বলে বোপারার নেন ২ রান।

ওভার শেষ ওভার কথা সেখানেই। কিন্তু রাব্বীকে দিয়ে আবারও বল করান আম্পায়ার। ‘শেষ’ বলে বোপারা স্কোরবোর্ডে যোগ করে আরও ১ রান।

৭ বলে ওভার করা নিয়ে রাব্বী বলেন,‘আমার ওভার হয়ে গিয়েছিল। আমি সব সময় বল কাউন্ট করে বল করি। আম্পায়ারকে বল দিয়ে বললাম, ‘স্যার ওভার’। উনি চেক করে জানালেন, ‘আরও এক বল বাকি।’উনি বলায় আমি আরও এক বল করলাম।’

‘কিন্তু আমরা টিমমেট সবাই বলছিল যে সাত বল হয়েছে। তারপর আমি গিয়ে বলি, স্যার আমি আপনাকে বারবার বললাম যে ওভার হয়েছে। চেক করেন। আমি আর আমার অধিনায়ক তাকে বারবার বললাম। কিন্তু কিছু হলো না। পরের ওভার করার সময় বললাম যে, পাঁচ বল করি। কারণ সময়ের একটা বিষয় থাকে। বেশি সময় নিয়ে নিলে আবার আমাদের জরিমানার একটা বিষয়ও থাকে।’

অনফিল্ড আম্পায়ার মাহফুজুর রহমানের উপর কোনো ক্ষোভ নেই কামরুলের। কারণ স্কোরার ও তৃতীয় আম্পায়ারকে দিয়ে চেক করানোর পরও তারা বলেছে, এক বল বাকি! বিপিএলে এতো সব প্রযুক্তি তারপরও অফিসিয়ালদের এতো বড় ভুল!
ম্যাচ শেষে সিলেট সিক্সার্স কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ রেফারির কাছে লিখিতভাবে ওভারটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ফ্রাঞ্চাইজি নিজেদের কাজ করলেও ক্রিকেটাররা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। নাবিল সামাদ বলেছেন,‘আজ আমাদের জেতা উচিত ছিল। ক্রিকেটে হতেই পারে। সবারই মন একটু খারাপ ছিল। অভিযোগ করলে তো আমরা জিতে যাব না। আমরা আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি বিসিবিকে জানিয়েছি।’