গোল না দেয়ায় রেফারিকে যা বলেছিলেন মেসি

বল গোল লাইন অতিক্রম করার পরও চোখ এড়িয়ে যায় রেফারির। রেফারি বাতিল করে দিয়েছেন লিওনেল মেসির নিশ্চিত গোল। গত রোববার রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মেসি তথা বার্সেলোনার সেই গোল বাতিলের বিষয় নিয়ে স্পেনে এখন তোলপাড়। জোরালো দাবি উঠেছে লা লিগায় প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করার। সেই আলোচনার পাশাপাশি মাঠে রেফারিদের সঙ্গে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের কথোপকথনের বিষয়টিও।

গোল হয়েছে, দেখেই উল্লাসে মেতে উঠেন মেসিসহ বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা। কিন্তু তাদের সেই উল্লাস থেমে যায় রেফারির লম্বা বাঁশিতে। রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দিতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা। বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে কেউ কেউ শুরু করে দেন গালাগালিও।

রেফারির ব্যবহারিত মাইক্রোফোনের সুবাদে রেফারিদের সঙ্গে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময়ের সবই এখন প্রকাশ্য। লুইস সুয়ারেজ তো রেফারি ইগনাসিও ইগলেসিয়াসকে ‘কাপুরুষ’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

রেফারি-সহকারী রেফারির সঙ্গে এক চোট হয়ে যায় মেসিরও। না, মেসি সতীর্থ সুয়ারেজের মতো চাচাছোলা ভাষায় রেফারিদের আক্রমণ করেননি। তিনি শুধু চোখে আঙুল দিয়ে রেফারিকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন ভুলটা!

গোল বাতিল করার পর মেসি এগিয়ে যান রেফারি ইগনাসিও ইগলেসিয়াসের দিকে। ততক্ষণে সহকারী রেফারি এনরিক রামোসও ছুটে এসেছেণ সেখানে। তো রেফারি ও সহকারী রেফারিকে উদ্দেশ্য করে মেসি বলেন, ‘আপনার ভুল। আপনাদের ভিডিওটা দেখা উচিত।’

জবাবে সহকারী রেফারি রামোস বলেন, ‘এটা পরিস্কার নয়।’ সহকারীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেফারি ইগলেসিয়াস বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই। তবে এটা গোল নয়।’ এরপরই কিছুটা উত্তেজিত হয়ে উঠেন মেসি।

নিজের চোখের দিকে হাত নিয়ে মেসি ইশারায় রেফারিদের বুঝিয়ে দেন, তারা ভুল দেখেছেন। পরে গোল লাইনের কাছে গিয়ে হাতের ইশারায় মেসি এটাও বুঝিয়ে দেন, ‘গোল লাইন এখানে। আর বল ছিল এখানে।’

পাল্টা জবাবে রেফারি ইগলেসিয়াস আগের কথার পুনরাবৃত্তি করেই বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত নই। আমরা ভেতরের দিক থেকে দেখেছি।’

ম্যাচ শেষে বাতিল ওই গোল নিয়ে মেসি ও বার্সেলোনার আফসোসটা আরও বড় হয়ে উঠার কারণ, বার্সেলোনা ম্যাচটা জিততে পারেননি। পুরতে হয়েছে ১-১ গোলের ড্র হতাশায়।