স্টোকসের পর ‘বেয়ারস্টোর ঢুস’ ইংলিশ ক্রিকেটারদের উপর কঠিন ‘কারফিউ জারি’

শেষ পর্যন্ত ‘কারফিউ’ই জারি করে দেওয়া হলো ইংলিশ ক্রিকেটারদের ওপর। অস্ট্রেলীয় ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফট আর ইংলিশ উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টোর মধ্যে ঢুস-কাণ্ডের জেরে দলীয় শৃঙ্খলা রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কারফিউ বলতে মধ্যরাতের পর কোনো ইংলিশ ক্রিকেটার হোটেলের বাইরে থাকতে পারবেন না। সিদ্ধান্তটা এসেছে টিম ডিরেক্টর ও সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রসের কাছে।

ব্রিস্টলে বেন স্টোকসকে দিয়ে শুরু। অ্যাশেজে খেলতে অস্ট্রেলিয়াতে এসেই আরেক কাণ্ড। পার্থের এক পানশালায় ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ‘ঢুস’ মেরে বসলেন জনি বেয়ারস্টো। ব্যাপারটা যে তেমন বড় কিছু নয়, সেটা তো ব্যানক্রফটই জানিয়েছেন। মজা করেই ‘ঢুস’টা দিয়েছিলেন বেয়ারস্টো। কিন্তু বিতর্ক বলে কথা! তবে স্ট্রাউস স্টোকস-বেয়ারস্টোর দুটি ঘটনাকেই ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখতে চান, ‘ইংলিশ দলের এই ক্রিকেটাররা কেউ গুন্ডা বা মাস্তান নয়। বরং সকলেই সৎ ও পরিশ্রমী। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে এদের ত্যাগের শেষ নেই। জীবনের সুখ-আনন্দ-উচ্ছলতার অনেক কিছুই বিসর্জন দিয়েছে তারা। আমরা দলের প্রকৃত চিত্রটাই সকলের সামনে তুলে ধরতে চাই। আমার মনে হয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে সারল্যের ব্যাপারটা প্রবল। ওদের আরও চালাক হতে হবে।’

লম্বা সিরিজে এমনিতেই খেলোয়াড়দের মধ্যে বিরক্তি দানা বাঁধে। সে হিসেবে ‘কারফিউ’-জাতীয় কিছু বড় ধাক্কাই তাঁদের জন্য। তবে ব্রিসবেনে প্রথম টেস্টে হারের পর এসব নিয়ে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না ইংলিশ ম্যানেজমেন্ট।

ঢুস-কাণ্ডের পেছনে হিংসাত্মক কোনো কারণ দেখেননি নাটকের আরেক চরিত্র ব্যানক্রফট। তিনি এটাকে ‘অদ্ভুত’ বললেও এর পেছনে ঘৃণা বা আঘাত করার কোনো চেষ্টা দেখেননি। তাই বলে ব্যাপারটি কিন্তু ঠিকই মাখায় রেখেছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা। স্বাগতিকদের আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার, যিনি স্লেজিংয়ে সিদ্ধহস্ত, খেলার মাঠেই এ নিয়ে বেয়ারস্টোকে উত্ত্যক্ত করেছেন। সে কারণে হোক বা না হোক, ব্রিসবেন টেস্টে কিন্তু সফল হতে পারেননি বেয়ারস্টো। সেদিক থেকে স্লেজিং কৌশলে ওয়ার্নারদের সফলই বলতে হচ্ছে।

ইংলিশদের কোচ ট্রেভর বেইলিস এসব ঘটনায় জড়িত খেলোয়াড়দের ‘মাথামোটা’ বলেছিলেন। এই ঘটনায় তাঁর খেলোয়াড়েরা অস্ট্রেলীয়দের হাতে ‘অস্ত্র’ তুলে দিয়েছে বলেও ধারণা তাঁর। তবে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার জেসন গিলেস্পির মতে, এটি স্মিথদের বড় মনস্তাত্ত্বিক জয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে নিজের ব্লগে তিনি লিখেছেন, ‘মাত্রা ছাড়ানো উচিত নয়। কিন্তু আপনি যদি এর (স্লেজিং) মাধ্যমে টেস্টে একজন ব্যাটসম্যানের শতভাগ মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন, তবে সেটা জয়ের সমান। কারণ, টেস্টে তাঁর প্রধান কাজ মনোযোগী হয়ে ব্যাটিং করা।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।