সুযোগ পেলে আফিফরাও ঝড় তুলতে পারেন

একাদশে নিয়মিত খেলেন পাঁচ বিদেশি, ওপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগও তাঁদের বেশি। স্থানীয়দের চেয়ে ভালো স্লগ করতে পারবেন, বড় স্কোর এনে দেবেন—এ ভাবনায় হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে বিদেশি ব্যাটসম্যানদের গুরুত্ব একটু বেশি। তাই তো মুশফিকুর রহিমকে ব্যাটিং করতে হয় লোয়ার মিডল অর্ডারে! দল ব্যাটিং বিপর্যয়ে না পড়লে মোসাদ্দেক হোসেনকে নামতেই হয় না!

কিন্তু ওপরে সুযোগ পেলে স্থানীয় খেলোয়াড়েরাও যে ঝড় তুলতে পারেন, সেটি পরশু চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে করে দেখিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা! শুধু মাশরাফি কেন, একটু আগে নামতে পারলে যে দুর্দান্ত ইনিংস খেলতে পারেন, সেটি ২১ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে আরিফুল হক দেখিয়েছেন। অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন খুলনা টাইটানসের এই ব্যাটসম্যান।
রংপুর রাইডার্সের নাহিদুল ইসলামের কথায় ধরুন। গত বিপিএলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ২ ম্যাচ, ব্যাটিং করেছিলেন মাত্র একটিতে। এবার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলেছেন ২৪ নভেম্বর চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে। ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালামে নয়; সেদিন রংপুর জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল নাহিদের ৫৮ রানের দারুণ এক ইনিংসে ভর করে।
১৪ নভেম্বর মিরপুরে খুলনার বিপক্ষে ঢাকা যে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটা জিতেছিল, সেটি জহুরুল ইসলামের অপরাজিত ৪৫ রানের সৌজন্যেই। যদিও কাইরন পোলার্ডের ২৪ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল ঢাকার জয়ে। তবে জহুরুল যদি শেষ করে না আসতেন, ঢাকার জেতা কঠিনই ছিল।
নাহিদুল-আরিফুল কিংবা জহুরুলদের এই ইনিংসগুলো থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, বিদেশিদের ভিড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ভরসা রাখতে পারে স্থানীয়দের ওপরও। সুযোগ পেলে তাঁরা যে দুর্দান্ত খেলেন, সর্বশেষ উদাহরণ আফিফ হোসেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান যে তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন, প্রতিটিতেই ওপরে নেমেছেন। আজ রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলে যেন বার্তা দিলেন—আস্থা রাখুন স্থানীয়দের ওপর!