সুজনের কী হয়েছে তা ডাক্তাররাই জানেন না!

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন গত শনিবার (২৯ জুলাই) রাতে নিজ বাসায় হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর সাথে সাথেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে রবিবার (৩০ জুলাই) সকালে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ (৩১ জুলাই) রাত ১১টায় তাকে নেয়া হচ্ছে সিঙ্গাপুরের গ্রিনিগলস হাসপাতালে। তিনি সুস্থ, তবে শঙ্কা কাটেনি বলেই সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে বোর্ড।

তবে সুজনের ঠিক কি হয়েছে এই ব্যাপারে বলতে পারছে না সুজনের ডাক্তার বা পরিবারের কেউই। এমনকি বিসিবিও দুশ্চিন্তায় আছে এই বিষয়ে। বিসিবির সর্বোচ্চ অভিভাবক নাজমুল হাসান পাপন মিডিয়াকে জানান,

“সত্যি কথা বলতে এই মুহূর্তে কেউ কিছু বলছে না। যাকেই জিজ্ঞেস করছি কেউ নির্দিষ্ট করে উত্তর দিতে পারছে না। তবে তার ছেলে ও স্ত্রীর সাথে কথা হয়নি। ওর ভাইবোনদের দেখেছি কিন্তু তারা কিছুই বলছে না। তাই এটা বলা খুব কঠিন।

আমি জানি না। ডাক্তাররাও কিছুই বলে নাই কেন এই অবস্থা হলো। আমার ধারণা সবার আগে তার সুস্থ হওয়া দরকার। সে সুস্থ হলে তার কাছ থেকেই জানতে পারবো।”

একইদিনে তার অসুস্থতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। একইসাথে খালেদ মাহমুদ সুজন দু’তিন দিনের মধ্যেই সুস্থ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,

“গতকাল যখন ও (সুজন) এখানে আসলো তখন অচেতন ছিলো। এবং কোনোরকম নড়াচড়া ছিল না বলে সাথে সাথে আইসিউইতে রাখা হয়েছিলো। আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম। তাই গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিক সিদ্ধান্ত নেয় যে তাকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হবে।”

এই প্রসঙ্গে আরো জানান, “সেই অনুযায়ী আমরা সব ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এমআরআই টেস্ট বাকি ছিল, আজকে সকালে করেছে। ওর এমআরআই করে ডাক্তার তেমন কিছু পাননি। তবে সংকটমুক্ত নয়। আগের চেয়ে ভালো।

যেহেতু আগের চেয়ে ভালো তাই আমরা ঠিক করেছি আজ রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস দু’তিন দিনের মধ্যে সুজন একদম সুস্থ হয়ে যাবে।”

এদিকে সুজনকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার একাই ছেড়ে দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তার সঙ্গে যাচ্ছেন বিসিবির একজন চিকিৎসক। আর পরিবারের পক্ষ থেকে যাচ্ছেন সুজনের বড় ভাই। পাপন জানিয়েছেন,

“ওর সাথে আপাতত বিসিবি থেকে একজন ডাক্তার যাচ্ছে। আর তার পরিবারের কারোই ভিসা নেই যে আজকেই চলে যেতে পারবে। দুই তিনদিন হয়তো লাগবে ভিসা করতে। তার বড় ভাই আছে যার আমেরিকান পাসপোর্ট তাই ভিসা লাগবে না। সেজন্য সাথে উনি যাচ্ছে।”