ইতিহাসের পাতায় ২০০৯- টাইগারদের ক্যারিবিয়ান “বাংলাওয়াশ”

ইতিহাসের পাতায় ✍️ 

২০০৯ সালের আজকের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজের ৩য় ম্যাচে ৭ বল হাতে রেখে তিন উইকেটে ম্যাচ জিতে ক্যারিবিয়ানদের বাংলাওয়াশ করে টাইগার্সরা।

প্রথম বারের মতো ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় তাও আবার হোয়াইটওয়াশ তাও তাঁদের মাটিতে, অসাধারণ এক অনুভূতি ছিল।

তরুণ ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান এর অসামান্য পারফরম্যান্স এবং টেস্টে অভিষেকের পর ওডিআইতেও নিজের অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে দলের জয়ে ভূমিকা রাখা মাহমুদউল্লাহ্ রিয়াদ এ দু’জন নিশ্চয়ই কখনও এই সিরিজ ভুলবেন না। 


টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দুই টাইগার ওপেন পেসার মাহবুব ও নাজমুলের কল্যাণে ১০ রানে দুই উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা।

তারপর ফ্লেচার-ডাওলীন এর ৭৬ রানের জুটির ইতি টানেন আব্দুর রাজ্জাক, ফ্লেচার ৪২ বলে ৩টি ছয় ও ৮টি চারে ৫২ রানে আউট হন রাজ্জাকের বলে।

তারপর বলার মতো কোন জুটি না বেঁধে আরও দুই উইকেটের পতনের পর অধিনায়ক ফ্লয়েড রিফার ও ড্যারেন স্যামি ৬৪ রানের জুটি বাঁধেন এবং এই জুটিরও সমাপ্তি করেন রাজ্জাক।

রিফার ৭৯ বলে ১টি ছয় ও ৩টি চারে ৪০ রান এবং স্যামি ৩৩ বলে ২টি ছয় ও ৫টি চারে ৪০ রানে আউট হলে ছোট ছোট জুটিতে ভর করে ৪৮তম ওভারে ২৪৮ রানে গুটিয়ে যায় তাঁরা।

টাইগার বোলারদের মধ্যে মাহবুব, রাজ্জাক ও রিয়াদ ২টি করে এবং নাজমুল ও নাঈম ১টি করে উইকেট শিকার করেন কিন্তু সাকিব থাকেন উইকেটলেস।

উইকেট শিকার না করলেও সবচেয়ে কম খরচের বোলার ছিলেন তিনি, ৯.৪ ওভারে ২টি মেইডেনে খরচ করেন ২৮ রান।

২৪৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা করেন দুই টাইগার ওপেনার তামিম ও জুনায়েদ।

৫৪ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গে তামিমের ২৭ বলে ১টি ছয় ও ৫টি চারে ৩০ রানে আউটের পর এবং তারপর জুনায়েদ একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে বাকিদের আসা যাওয়া দেখেছিলেন এবং ৫৮ বলে ৬টি চারে ফিফটি পূর্ণ করেন।

জুনায়েদ সিদ্দিকী আউট হলে টাইগার্সদের স্কোর হয় ১৩৩/৫ এবং ব্যাট হাতে নামেন মাহমুদউল্লাহ্ রিয়াদ।

মুশফিকের সঙ্গে বরাবর ৫০ রানের জুটি গড়েন রিয়াদ এবং মুশফিক ৪টি চারে ৪২ বলে ৩১ রানে আউট হলে ক্রিজে আসেন নাঈম।

নাঈম এর সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি বাঁধেন রিয়াদ এবং নাঈম আউট হন ১টি ছয় ও ২টি চারে ২২ বলে ২৬ রান করে।

তারপর আর কোন উইকেট না হারিয়ে ৪৯তম ওভারের ৫ম বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন রিয়াদ এবং অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে।


ব্যাট ও বল হাতে দলের জয়ে ভূমিকা রাখার পুরষ্কার হিসেবে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতে নেন মাহমুদউল্লাহ্ রিয়াদ এবং সিরিজ সেরার পুরষ্কার জিতে নেন সাকিব আল হাসান।

? সিরিজ জয়ের ফলাফলসমূহ

১ম ম্যাচে ৫২ রানে জয়, ২য় ম্যাচে ৩ উইকেটে জয় (৬ বল হাতে রেখে) এবং ৩য় ম্যাচে ৩ উইকেটে (৭ বল হাতে রেখে) জয়।