পাইলটের সাক্ষাতকার- বাংলাদেশের ক্রিকেট ভাবনা

জাতীয় দলে তো অনেক দিন হয়ে গেল খেলা ছেড়েছেন। মাস্টার্স ক্রিকেটের সঙ্গে কীভাবে আছেন?

জাতীয় দল তো অনেক আগেই শেষ করেছি, ২০০৭ সালের দিকে। বছর তিনেক আগে ঢাকা লিগও শেষ খেলেছি। মাঠ পছন্দ করি, মাঠের মায়াতেই আছি। ৭টা একাডেমি আছে আমাদের, ক্লেমন স্পোর্টসের। সেগুলো চালাই। ইনডোর ইভেন্টস করার চেষ্টা করি। প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংককে কোচিং করিয়েছি, বিপিএলে কুমিল্লায় ছিলাম। বাকি সময়গুলো ক্লেমন স্পোর্টসের হয়ে কাজ করি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দিকগুলো আমাকে টানে। এই মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভাল যেমন দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে, রাজশাহীতে পাইলট প্রজেক্টটা কিন্তু আমরাই করেছিলাম। সেখানে প্রায় ২০০ ক্রিকেটার ছিল। তখন মনে হলো, কেন সব ক্রিকেটারকে নিয়ে করবো না। অনেক ক্রিকেটার আছে, যারা জেলা পর্যায়েই খেলা শেষ করেছে। তাদের স্বপ্নগুলো চাপা ছিল। এরকম উপলক্ষ্য হয়তো আমাদের জন্য ফান, কিন্তু অনেকের জন্যই অনেক বড় ব্যাপার। তারা জীবনটা শেষ করেছে ক্রিকেট দিয়ে, হয়তো স্বচ্ছল না।

ক্রীড়া সংগঠনের ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন?

আর সংগঠন চালানো পেশা হতে পারে না। তার অন্য চাকরি থাকবে, ব্যবসা থাকবে। এটা করবে সামাজিক দায়িত্ব থেকে। আমাদের বেশিরভাগ জেলা বা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা হয়ে পড়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রধান ভূমিকা নিতে হবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে। আগে যেমন ছিল,অনেক সংগঠক নিজের বাসার টাকা এনে দিতেন। বিনিয়োগ করতেন। নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। এখন এগুলো ব্যবসায়িক কেন্দ্র হয়ে গেছে। বেশীরভাগ জেলা সংস্থাগুলোতে দেখবেন জুয়া চলছে। বিশাল টাকা ইনকাম হচ্ছে, কিন্তু লিগ হয় না। প্লেয়াররা বসে থাকে, একটা লিগ হতে কতো টাকা লাগে। ধরেন একটা ছেলে লিগ খেলে কিছু টাকা পেয়েছে, সে তো তখন আরও বেশি চেষ্টা করবে, আরও ভাল করতে। কারণ তখন বেশি পারিশ্রমিক পাবে। কিন্তু টাকা না পেলে তো খেলা ছেড়ে দেবে। পারিশ্রমিক না পেলে কিন্তু মেসিও খেলা ছেড়ে দিবে। লিগ হবে না, এটা খুবই দুঃখজনক। এটা তো আমাদের প্লেয়ারদের দায়িত্ব না। এটা সংগঠনগুলোর দায়িত্ব।

তৃণমূল পর্যায়ে বোর্ডের দায় আসলে কতটুকু?

আমাদের বোর্ডে অনেক কাজ করার জায়গা আছে। স্পোর্টসে তো ক্রিকেট বোর্ডই অভিভাবক, টাকা পয়সার দিক দিয়ে বলেন। পরিবারের হয়তো পাঁচটা ভাই থাকতে পারে, কিন্তু সবাই তো সমান না। একজন অনেক আয় করে, ধরেন ক্রিকেট বোর্ড। তার দায়িত্ব বাকি পাঁচ ভাইকে এগিয়ে নিয়ে আসা। তাদের অন্য স্পোর্টসের দিকেও তাকাতে হবে, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টনে কিভাবে উন্নতি হবে। ভারতে দেখেন, আইপিএল তৈরী করেছে, সেখান থেকে টাকা আয় করে অনেক পরিমাণে। যারা স্থানীয় খেলোয়াড় ছিলেন, খেলা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে। পেনশনের ব্যবস্থা করেছে। তারা এই কনসেপ্টটা কাজে লাগাচ্ছে অন্য ক্ষেত্রে। আমার মনে হয় আগামী পাঁচ বছরে ভারত অনেক এগিয়ে যাবে, স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিতে। ক্রিকেট কিন্তু তাদেরকে সে পথ দেখিয়ে দিয়েছে।

Colombo, SRI LANKA: Bangladeshi wicketkeeper Khaled Mashud catches a ball during a net practice session at The R. Premadasa Stadium in Colombo, 19 June 2007. A three-match Test series between Bangladesh and Sri Lanka will begin 25 June while the three-match one-day series will get underway on 20 July. AFP PHOTO/Lakruwan WANNIARACHCHI (Photo credit should read LAKRUWAN WANNIARACHCHI/AFP/Getty Images)

এখনকার বাংলাদেশ দল সম্পর্কে কী মনে করেন?

জাতীয় দল এ মুহূর্তে মানসিক দিক থেকে অনেক এগিয়ে আছে। আগে আমরা এই দিকে অনেক পিছিয়ে ছিলাম। এশিয়া কাপে দুই বছরে ৩টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম। ২ বছর পর টেন্ডুলকার, আজহারউদ্দিন, গাঙ্গুলির বিপক্ষে খেলতে পেতাম। ওরা সমুদ্রে সাঁতার কাটলে আমরা পুকুরে সাঁতার কাটতাম। আসলে মানসিকভাবে অনেক পিছিয়ে থাকতাম। আমরা খেলতাম এটা সম্মানজনক রানে যাওয়ার জন্য। ব্যক্তিগত কিছু ভালো রান হতো। এমন না যে টেকনিক্যালি পিছিয়ে ছিলাম। তখনও আকরাম ভাই, নান্নু ভাই, বুলবুল ভাইরা ছিল। বিদ্যুৎ, অপি ছিল। ওরা সলিড টেকনিকাল খেলোয়াড়। এখনও ওরা নামলে রান করে। আমার কাছে মনে হয় ৭০/৮০ ভাগ মানসিক শক্তিই আগায় দেয়। ধরেন আপনি টেকনিক্যালি ভালো, কিন্তু ব্রেট লিকে খেলতে ভয় পান, তাহলে বলে লাভ নাই। তবে আপনার সাহস থাকলে অনেক কিছুই করতে পারবেন।

দেশী ক্রিকেটাররা কি জাতীয় দলে কাজ করার অবস্থায় আছেন?

আমরা এখনও বিদেশী লোকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এভাবে আর কতোদিন। আমাদের গ্রেট যেসব প্লেয়ার আছেন, ধরেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাই, বাইরে কাজ করছে। হাবিবুল বাশার সুমন ১৫ বছর ধরে খেলেছে, তার অভিজ্ঞতা যদি এইচপি বা বয়সভিত্তিক দলকে দিতে না পারে, তাহলে তার ধারণাটার আমরা অপব্যবহার করছি। দল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ১৮ জন থেকে ১৫ জন তো খুব সহজ ব্যাপার। মাশরাফি-তামিম-সাকিব-মুশফিক, এদের তো নির্বাচনের ব্যাপার নেই। নির্বাচক করতে হয় ২-১টি। এর জন্য কোচ অধিনায়ক যথেষ্ট। হ্যাঁ, এটা হতে পারে, সুমন-নান্নুকে নির্বাচকের সঙ্গে উপদেষ্টাও বানিয়ে দিলাম। যদি তাদের ব্রেনটা নিতে না পারি, তাহলে অর্থের অপচয়। হ্যাঁ, কিছু অসাধারণ বিদেশী আসেন। কিন্তু বাকিগুলো সাইনবোর্ড। দেশীরা তো আরও অনেক সময় দিত। বিদেশীরা তো নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কাজ করবে না। কিন্তু দেশীরা তো কাজ করবে, হয়তো সাকিবের সঙ্গে কথা বলার পর ওর মায়ের সঙ্গেও কথা বলবে, মানসিকভাবে তৈরী করবে। ভারতের দিকে দেখেন, তাদের সাপোর্টিং স্টাফ সব দেশী। এতোদিন হায়ার করেছে, ওদের আইডিয়া নিয়েছে, মিশেছে। এখন তো দেয়ার সময়। আমরা এদিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। আমার মনে হয়, ক্রিয়েটিভ লোকের সংখ্যা খুবই কম। ব্যাট বল দিয়ে মারা তো কোচিং না। হাই ক্যাচিং তো একটা ছেলেও পারবে। আমার কাছে মনে হয়, এটা মেন্টালি করতে হবে। ম্যান টু ম্যান কোচিং। দলগত কোচিংয়ে তো ফল নাই।

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে সেই ছক্কা তো কখনোই ভুলবেন না…

আমি না থাকলে অন্য কেউ থাকত। ব্যাটিংয়ের সময় তো অন্য কিছু মনে থাকে না। বিশ্বাস ছিল, জিততে পারব। দেশের জন্য খেলছি, তখন তো আসলে দোয়া ছাড়া কিছুই নাই। তখন তো কতো কিছুই হয়, কেউ এক বলে ছয় নিয়ে জিতে যায়, কেউ এক বলে এক লাগলেও হেরে যায়। ভাগ্যের ব্যাপার। তবে যারা খেলা দেখে, তাদের বেশি টেনশন হয়। যেমন গাড়ি যে চালায় তার কিন্তু টেনশন থাকে না, যারা বসে থাকে, তাদের টেনশন।

টেস্টের একমাত্র সেঞ্চুরির স্মৃতি তো নিশ্চয়ই এখনো সজীব?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন অনেক ভাল দল। সেন্ট লুসিয়াতে আমরা প্রথম ইনিংসে ভাল করেছি, সুমন-রফিক সেঞ্চুরি করলো (৪১৬ রান)। আমরা একটা লিড পেলাম (৬৪ রানের)। তারপর ওরা আক্রমণাত্মক খেললো (২৩ ওভারে ১১৩ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের দ্রুত উইকেট চলে গেছে, দিনও বাকি আছে। তখন ধরেও খেলতে হবে, আবার রানও করতে হবে। নাহলে তারা তাড়া করে জিতে যাবে। কখনও কখনও তো ড্র-ও জয়ের সমান। যদি নিয়াজ মোর্শেদের সঙ্গে দাবায় ড্র করেন, সেটাই আপনার জয়। কারণ তখনও তো আপনি সেই লড়াই করার জায়গায় যান নাই। সেই ড্রটা আমাদের জন্য জয়ের সমান ছিল। প্রথম বাইরে গিয়ে ড্র করেছিলাম আমরা। আমি ভাগ্যবান, সম্ভবত তারেক আজিজ ও তাপস বৈশ্য ছিল টেইলএন্ডার (তারেক করেছিলেন ৭৫ বলে ২৬, তাপস ২২ বলে ১) । আরও ১০-১৫ ওভার খেলতে হবে, নাহলে ধরা খেয়ে যাব। আমি ওদেরকে বলেছিলাম, ‘তুই থাক বাবা।’ তারাও আমাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছিল, ‘পাইলট ভাই আপনি খেলেন, কোনো সমস্যা নাই আমরা আছি।’ কখনও কখনও এমন হয়, কী হবে সেটা জানার উপায় নেই। শুধু নিজের কাজটা করে যেতে হয়।

ঢাকা লিগে স্মরণীয় ইনিংস বললে কোনটি মনে পড়বে?

২৩ বছর খেলেছি, অনেক অনেক ম্যাচ। এটা মনে করা আসলে কঠিন। কিন্তু একটা ইনিংসের কথা বললে বলবো, খুব সম্প্রতি এক বলের একটা ইনিংস। আবাহনী-মোহামেডান খেলা। তো, দুইটা দলই অনেক টাকা খরচ করেছে। মোহামেডানের আত্মসম্মানের ব্যাপার, আবাহনীর সঙ্গে খেলা। ১২ বলে ৩৬ রান প্রয়োজন, আমরা তো হেরেই গেছি প্রায়। ভাগ্যক্রমে আমাদের নাভেদ-উল-হাসান ছিল, পাকিস্তানী, একটা ওভারেই ২৮-এর মতো নিয়ে নিল, সাকিবের বলে। শেষ ওভার রফিকের, নাভেদ মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেছে। শেষ বলে লাগবে চার রান, তিন হলে টাই। আমি ব্যাটিংয়ে নেমেছি। জীবনে আমি রফিকের সঙ্গে নেটে জিততাম না। ধরেন ও বল করছে, আমি ব্যাটিং। আমি যেখানেই মারি, ও বলবে, ‘ওখানে ফিল্ডার আছে!’ থাকে না, সবসময় এমন, হারবে না কখনও। চার কখনও দেবে না। সুইপ করলাম, ও বলবে ফিল্ডার আছে, এক রান।

নন-স্ট্রাইকারকে বললাম, ‘আমি যাই মারি না কেন, তুই শুধু চোখ বন্ধ করে দৌড়াবি। দৌড়েই তিন রান নিব।’ কী যেন নাম ভাই, আরে হিন্দী সিনেমাটা। হ্যাঁ, লগানের মতো। ‘তুই শুধু দৌড়াবি, বাদ বাকি আমি দেখবো।’ ওরা আবার সব ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে তো নিয়েছেই, উইকেটকিপার পর্যন্ত, রফিক বল করছে, তবুও ৩০ গজের ওখানে দাঁড়িয়েছে। গালিতে যে আছে সে পেছনে। থার্ডম্যান নাই। তো আমি প্ল্যান করেছি, রফিক যেটাই করবে, আমি সুইপ মারবো। বলও করেছে, আমি সুইপও মেরেছি, কপাল দেখেন। টপ-এজ লেগে ওই যে কিপার আছে, গালি আছে, ওর মাঝখান দিয়ে যাচ্ছে। আমি ভেবেছি, আল্লাহ, কোথায় যে যাচ্ছে। শুধু দৌড়। আমি দৌড়াচ্ছি, নন-স্ট্রাইকার থেকে যখন ঘুরছি, দেখি বল ওদিকে গেছে। পেছনে নাদিফ চৌধুরী দৌড়াচ্ছে। ওকে দেখি, পাঁচ-সাত গজ দূরে থাকতে স্লাইড মারলো, সেখানেই পড়ে আছে। মানে চার হয়ে গেছে। এটার মজা আলাদা। যতই একশ-দুইশ মারেন, এটা আলাদা ব্যাপার।

মোহামেডান আবার চ্যাম্পিয়নও হয় না তখন অনেকদিন। এখন পর্যন্ত সেটাই শেষবার তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া, এরপর আর চ্যাম্পিয়নও হয়নাই।

উইকেটের পেছন থেকে কার বোলিং সেরা মনে হয়েছে?

আসলে অনেকেই আছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন। প্রথমে আমি দেখেছি শান্তকে। ও অনেক জোরে বল করত। তখন দলে ১১ জন নির্ধারণ করার সময় সবার আগে আসতো ওর নাম। যেটা কয়দিন আগে মাশরাফির ছিল। শান্তর পর আসবে মাশরাফির নাম। শান্ত অনেক এগ্রেসিভ ছিল। বল তো করব ভালো জায়গায়, পাশাপাশি ব্যাটসম্যানকে মারব এমন একটা ভাব ছিল। এছাড়াও আরও অনেকেই ছিল। মঞ্জু নতুন বল ভালো কনট্রোল করতে পারতো।

স্পিনার রফিক এবং মনি ভাই আমার দেখা সেরা। হয়তো এখন আমরা ওইভাবে সম্মান দেইনা, তবে ওই মুহূর্তে তাদের দলে কন্ট্রিবিউশন অনেক ছিল। হয়তো ওইভাবে উইকেট পেত না তবে টেস্ট ম্যাচে এক প্রান্তে ৩০/৩৫ ওভার করে গেছে। তখন টেস্টে ড্র করাই অনেক কিছু ছিল। এখন রফিকের জন্ম হলে টি-টোয়েন্টির সেরা খেলোয়াড় হতো। ও যেভাবে ব্যাটিং করত আর বল করত! এখনও রফিক বল করলে খেলতে পারিনা। ওর জন্মটা একটু আগে হয়ে গেছে। আকিব জাভেদ বা স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের মতো।

ক্রাইসিস ম্যানের সেই তকমা কেমনভাবে দেখেন?

আমার শুরু সময়ে আমি অনেক শট খেলতাম। রাজশাহীতে যখন খেলতাম, ওপেনিং-ওয়ান ডাউনে খেলেছি। টেস্টের শুরুর দিকে হয়তো উইকেটে চলে গেছে দ্রুত, সবার কথা, পাইলট উইকেটে থাকো। আমি আবার বল ছাড়তে পারতাম ভাল। সম্মানজনক একটা জায়গায় যেভাবে যাওয়া যায়, সেভাবে খেলতে খেলতে স্লো হয়ে গেছি। যদি তখন কোনো সিনিয়র বা ম্যানেজমেন্ট আমাকে বলতো, না ছাড়ার দরকার নাই, মারার বলটা মারো। অনেক্ষণ ছাড়তে ছাড়তে, একটা ভাল ডেলিভারি হয়ে গেল, আউট হয়ে গেলাম। কী হলো, ১০০ বলে ২০ করলাম, ৪০ বলে ৫ করলাম। । এখন তো টেস্ট ওয়ানডের মতো হয়ে গেছে। ওয়ার্নারদের দেখেন। এতে ফিল্ডিং দলের ওপর চাপ পড়ে। আমি যদি বল ছেড়ে যাই, বোলার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে, ইচ্ছামতো বল করার। অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। বোলার ভুল করলেই মারতে হবে।

ক্যারিয়ারটা আরেকটু লম্বা হতে পারত কিনা!

কোনো আক্ষেপ নাই। আল্লাহ যে এখানে নিয়ে এসেছে, এটাই অনেক। হয়তো জাতীয় দলে খেলেছি, কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, আল্লাহ আমাকে দুইটি সুস্থ হাত পা দিয়েছেন, করে খাওয়ার মতো। এর বেশী আর কী চাব! আমাকে তো আর যাই হোক ভিক্ষা করে খেতে হয়নি, কাজ করার সামর্থ্য দিয়েছে। এর বেশী চাওয়ার নেই।

তবে একটা কথা, আপনি সিনিয়র বাদ দেবেন, একটা জুনিয়রকে তৈরী করবেন, আপনি সিনিয়রকে সরাসরি বলে দেন, তোমার কাছে এরকম চাচ্ছি, নাহলে ওই জুনিয়রটাকে নেব। আর সিনিয়রকে একটু সময় দিতে হবে, সুযোগ দিতে হবে। তিন মাস ছয় মাস আগে অবসর নিলে সমস্যা নাই, কিন্তু রিটায়ার না করেই চলে যাবে, এটা ঠিক না। রাজ্জাক যেমন, বাদ পড়ে গেল। এটা দুঃখজনক। চাকরি করলেও তো আপনি আশা করবেন, আপনার মালিক আপনাকে ভালভাবে বিদায় দেবেন। যে নতুন একটা লোক পেয়েছি, তুমি এখন যাও।

আমাদের সময় এমন ছিল, এখনও আছে (আগের সিস্টেম)। কিন্তু আমি মনে করি, এটা হওয়া উচিৎ না। কারণ, প্লেয়ার-ম্যানেজমেন্ট ভাই-ভাই হওয়া উচিৎ। সে যেন সবসময় এই পরিবারটাকে ফিল করে। যে না, তোমাকে যোদ্ধা হিসেবেই বিদায় দিয়েছি। যেমন মাশরাফিকে নিয়ে অনেক কথা আছে না! তাকে তো একটা হিন্ট দিয়ে দিলেই পারে, এতো পাবলিকলি বলার কী আছে। তাকে রাখবে না বা বাদ দেবে। এটা তো মাশরাফির সঙ্গে কথা বললেই পারে। সে তো চিরজীবন খেলবে না, এটা স্থায়ী না। সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু, এটা পাবলিকলি হওয়া উচিত না। দিনশেষে হয়তো মাশরাফিকে বলা হলো, তাকে আর চাচ্ছি না। কিংবা মাশরাফি বললো, ফিজিক্যালি আর হচ্ছে না। এটা ভাই-ভাইয়ের মতো হতে হবে, মিউচুয়ালি হতে হবে।