ফুতুল্লা স্টেডিয়ামের কোন ভবিষ্যত আছে কি?

অনেক আগেই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের স্বীকৃতি পেয়েছে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। তবে, টানা বৃষ্টি হলেই এই স্টেডিয়ামটিকে চেনার উপায় থাকেনা। টানা বৃষ্টিতে ডুবে যায় ফতুল্লা স্টেডিয়াম এবং এর আশপাশের এলাকা।

অথচ ওই মাঠেই নির্ধারিত হয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া দলের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। এই কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে স্টেডিয়াম। ফলে ম্যাচটি এই মাঠে হওয়া নিয়েই এখন সঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান হানিফ ভুইয়া। তিনি জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামের এমন দুর্দশা থেকে উত্তরণের জন্য ক্রীড়া পরিষদকে তাগিদ দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না তারা।
হানিফ ভুইয়ার ভাষ্যমতে, ‘সম্ভব নয়, তা আমরা বলছি না। তবে এটা বলতেই হচ্ছে যে কোথায় গিয়ে যেন কাজটা এগোচ্ছে না। আমরা এনএসসির (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) সঙ্গে অনেকবার মিটিং করেছি। বিসিবি চিঠিও দিয়েছে বহুবার। কিন্তু সেই পর্যায়ের কোনো অগ্রগতি নেই। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে, নয়তো কঠিন হয়ে যাবে।’

মাঠের এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন অনেক কঠিন বলে মনে করেন বিসবির এই কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, বিসিবি কেবল মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে। মাঠের পরিপূর্ণ ভার বিসিবির হাতে থাকলে এখনি বলতেন ম্যাচ আয়োজন সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে হানিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘বিসিবির মাঠ কমিটির প্রধান হিসেবে বলছি, এখন ফতুল্লার পরিস্থিতি যা তাতে ম্যাচ আয়োজন খুব কঠিন হয়ে যাবে। যদিও ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে। তার পরও এটা খুব চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। এখানে এনএসসির একটা বড় ভূমিকা আছে। মাঠটি আমাদের নয়, আমরা কেবল এর রক্ষণাবেক্ষণ করি। যে কারণে আমরা ওইভাবে কাজ করতে পারি না। এই মাঠ বিসিবির হাতে থাকলে এখনই বলে দিতাম, ওখানে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব।’
মাঠের যে পরিস্থিতি তাতে ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মাঠে বড় ধরণের কাজ করতে হবে। বিসিবি সভাপতির সাথে নতুন ক্রীড়া সচিবের বৈঠক হলেও এই স্টেডিয়ামের ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধাণ।
‘নতুন ক্রীড়াসচিব বোর্ড সভাপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তখন বোর্ড সভাপতি পুরো বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। আমরা তো চেষ্টা করেই যাচ্ছি, গত ছয় মাস ধরে টানা চেষ্টা চলছে কিন্তু কাজ এগোচ্ছে না। কেন এগোচ্ছে না, জানি না। উনারা (এনএসসি) বলছেন, এখানে অনেক বড় কাজ করতে হবে।’
সমস্যাটা মাঠে পানি জমা নিয়ে হলেও, সমস্যার মূলে রয়েছে মাঠের বাইরের বাজে ড্রেনেজ পক্রিয়া। যার ফলে বাইরের পানি খুব সহজেই মাঠের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। এই কাজ বিসিবির দ্বারা সম্ভব নয় বলেও বলে মনে করেন বিসিবির এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেছেন, ‘মাঠ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে বাইরে থেকে পানি ঢুকে যাচ্ছে। এমনকি সুয়ারেজের লাইন উপচে পানি ঢুকে যাচ্ছে। এটা বিসিবির একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়। এমনও দেখা গেছে বাইরের পানি স্টেডিয়ামের পিচ পর্যন্ত চলে গেছে। এটা আসলেও তো দুঃখজনক ঘটনা।’
এই সমস্যার সমাধানে বিসবির কিছু করার নেই বলেও জানিয়েছেন গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান। মাঠ বিসিবির হাতে থাকলে কাজের অগ্রগতি দেখাতেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘এটার মালিকানা যাদের কাছে আছে, তারা বলতে পারবে। যদি আমাদের কাছে থাকত, আমরা দেখিয়ে দিতাম। বিসিবি কিন্তু ফতুল্লা নিয়ে ভাবছে। আন্তর্জাতিক এই ভেন্যু নিয়ে যদি নেতিবাচক খবর আসে, সেটি আমাদের সবার জন্যই দুঃখজনক ব্যাপার হবে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ হলে এই ভেন্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠবে হয়তো। সে ক্ষেত্রে বোর্ড বলতে পারবে এই মাঠের ভবিষ্যৎ কী!’