সেরা বাঙ্গালি পুরষ্কার নিতে মায়ের হাত ধরে মঞ্চে উঠেছিলেন মাশরাফি

মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা খেলোয়াড় হিসেবে, নেতা হিসেবে, বাঙালি হিসেবে, মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। চলতি বছর কলকাতাভিত্তিক এবিপি মিডিয়া গ্রুপ সেরা বাঙালি খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। শনিবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়কের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

‘সেরা বাঙালি’খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে শুক্রবার বিকেলে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন মাশরাফি। সপরিবারেই কলকাতা গেছেন ম্যাশ। ঢাকায় ফিরবেন ৩ আগস্ট। এই সময়ের মধ্যে মেয়ে হুমায়রা মোর্ত্তজার চোখের চিকিৎসাও করাবেন বলে জানিয়ে গেছেন।

এদিন পুরস্কারের মঞ্চে মেয়ের হাত ধরেই উঠেছিলেন মাশরাফি। প্রথমে তার কীর্তিমান পথ চলার নানা ঘটনা তুলে ধরা হয় একটি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে। সেখানে পালা বদল হতে থাকে শৈশব, কৈশোর,

যুবককালের। উঠে আসে নানা সময়ে তার পথ চলার কথাগুলি।

ক্রিকেট মাঠে মাশরাফির নানা স্মরণীয় মুহূর্ত ভিডিওতে দেখানোর ফাঁকে ফাঁকে বলা হয় ক্যারিয়ারের গল্প। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে উইকেট শিকারিকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় প্রিন্স অব ক্যালকাটা সৌরভ গাঙ্গুলির পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে সবচেয়ে সফল বাঙালি নায়ক হিসেবে।

ক্যাপ্টেন হিসেবে ৩৮টি ম্যাচ জেতা, ২০১৫ এর বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে পৌঁছা, এবছর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমির টিকিট পাওয়া আসে তার নেতৃত্বেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট তার হাত ধরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মোটরবাইক প্রীতির গল্প, চোট জর্জর হয়ে বারবার ফিরে আসার অধ্যায়, আরো নানা স্মৃতির অধ্যায় উঠে আসে ভিডিওতে। শেষে তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। পুরস্কার তুলে দিয়েছেন ভারতীয় নারী ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী।

২০০৭ সালে বাংলাদেশি ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমন ও ভারতীয় ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি হাতে তুলেছিলেন এই খেতাব। ২০১২ সালে খেতাবটি পেয়েছিলেন আরেক টাইগার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সেবার ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিও পুরস্কার হাতে তোলেন।

অন্যদের মধ্যে নোবেলবিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনুসও পুরষ্কারটি হাতে তুলেছিলেন। পাঁচ বছর পর আবারও কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটার কলকাতার মর্যাদাপূর্ণ খেতাব হাতে তুললেন।

মাশরাফি সেরাদেরই একজন। খেলোয়াড় হিসেবে, নেতা হিসেবে, বাঙালি হিসেবেও। মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। সেই অসাধারণত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন কোটি কোটি সমর্থকের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। এবার ভিন্ন একটি মাধ্যমে মিলল আরেকটি সেরার স্বীকৃতি। আনন্দচিত্তেই সেটি গ্রহণ করলেন নড়াইল এক্সপ্রেস।