মাহমুদুল্লাহ রিয়াদঃ খাঁটি এক বোলারের গল্প

২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ৮ তারিখ বিপিএলের ৪র্থ আসরের পর্দা উঠে।
৪র্থ আসরের ২য় দিন অর্থাৎ ৯ই নভেম্বর নতুন দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলনা টাইটান্স এবং রাজশাহী কিংস মুখোমুখি হয়।

খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ্ রিয়াদ এবং রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি।
প্রথমে ব্যাট করতে নামা টাইটান্সরা ততটা সুবিধা করতে পারেনি।
দুই ওপেনার নিকোলাস পুরান ও আব্দুল মজিদের ধীর গতির শুরুতে কিংসদের প্রথম শিকার বনে যান পুরান।

ওয়ান্ডার বয় মিরাজের বলে পুরান
আউট হলে ৪র্থ ওভারে ১৮ রানে ১ম উইকেট হারায় টাইটান্স এবং ব্যাট করতে নামেন ওয়েসেলস।
২২ বলে ১টি ছয় ও ৪টি চারে ৩২ রানে ওয়েসেলস আউট হলে মজিদের সাথে ৪৭ রানের জুটির অবসান ঘটে।

৪র্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট করতে নামেন টাইটান্স অধিনায়ক রিয়াদ।
২৫ বলে ১৫ রান করে মজিদ আউট হন যেখানে রিয়াদের সাথে তাঁর জুটি ২ বলে ০ রানের।
শুভাগত হোম রান আউট হলে ব্যাট করতে নামেন অলক কাপালি।

কাপালি-রিয়াদ জুটি ৩৯ রান সংগ্রহ করে।
রিয়াদ ২১ বলে ১টি ছয় ও ৩টি চারে ৩২ রানে আউট হন ও এরপরের বলেই ১৭ বলে ১১ রানে আউট হন অলক কাপালি এবং বোলার আবুল হাসান রাজুর সুযোগ হয় হ্যাট্রিক করার কিন্তু তা আর হয়নি।
শেষ ওভারে আরিফুল ও শফিউল এর উইকেট শিকার করে ২য় বাংলাদেশী হিসেবে বিপিএলে ৫ উইকেট শিকার করেন রাজু এবং ৪র্থ আসরের প্রথম বোলার হিসেবে গড়েন এই কীর্তি।

শেষের দিকে আরিফুলের ৮ বলে ১৪ রানে ভর করে টাইটান্স নির্ধারিত ওভার শেষে সংগ্রহ করে ১৩৩/৮।
১৩৪ রানের মামুলি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে কিংস প্রথম ধাক্কা খায় ১৮ রানে, সোহানকে নিজের করা ১ম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জুনায়েদ খাঁন।

তারপর স্কোরকার্ডে মাত্র ৬ রান যোগে সাব্বির ও উমর আকমলকে তুলে কিংসের টপ অর্ডারে ধস নামান জুনায়েদ।

মমিনুল-সামিত পাটেল কিছুটা ধাক্কা সামলে জুটি বাঁধেন, ৩৫ রানের সেই জুটির সমাপ্তি ঘটে পাটেলের আউটের মাধ্যমে।
তারপর ব্যাট করতে নামেন কিংস ক্যাপ্টেন স্যামি, মমিনুল ও স্যামি জুটি বাঁধেন অর্ধশতাধিক রানের এবং কিংসের জয় তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল মাত্র।

১৮ বলে ২৩ রান হাতে ৬ উইকেট এবং মাঠে দুই সেট ব্যাটসম্যান এই সমীকরণে বোলিং করতে আসেন শফিউল।
৩টি ছয়ে ২৩ বলে ৩১ রান করা স্যামিকে বোউল্ড করে ৫২ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটান শফিউল।

ঐ ওভারের ৫ম বলে আরেক সেট ব্যাটসম্যান মমিনুল তালুবন্ধী হন উইকেটরক্ষক পুরান এর।
৬টি চারে ৫৭ বলে ৬৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনার মমিনুল।
১৯তম ওভারে জুনায়েদ এর ৪র্থ শিকার বনে যান ফরহাদ রেজা যার ক্রেডিট রিয়াদের অসাধারণ ক্যাচ এবং ৬ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়ায় ৭ রান হাতে তিন উইকেট।

ক্যাপ্টেন রিয়াদ শেষ ওভারে নিজেই বল করতে এগিয়ে আসেন এবং এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ২য় ওভার।
প্রথম দুই বলে তিনি খরচ করেন তিন রান তারপর যা ঘটে তা হয়তো কেউই কল্পনাও করেননি।
আবুল হাসান ও মোহাম্মদ সামিকে পরপর দুই বলে আউট করে ম্যাচকে রোমাঞ্চিত মোড়ে নিয়ে আসেন রিয়াদ।
হ্যাটট্রিক বলে নাজমুল রক্ষা পেলেও শেষ বলে আর রক্ষা হয়নি তাঁর।
নাজমুলকে আউট করে তিন রানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় টাইটান্স, বলতে গেলে কিংসের নিশ্চিত জয় ছিনতাই করা।

ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতে নেন মাহমুদউল্লাহ্ রিয়াদ।
ব্যাট, বল ও অধিনায়কত্বে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর রিয়াদ বলেন- “পুরো ম্যাচে শেষ বল করার পূর্বে আমি চাপে ছিলাম। ভাগ্যের উপর পুরোপুরি নির্ভর ছিলাম এবং নির্দিষ্ট স্থানে বল করার সামর্থ্যের প্রতি নির্ভর ছিলাম। ”

৪র্থ বিপিএলে মাহমুদউল্লাহ্ রিয়াদ হয়েছিলেন সেরা খেলোয়াড় এবং টুর্নামেন্ট শেষে সেরা বিপিএল একাদশের ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন।