মারকুটে তিন নম্বর পজিশনের জন্য যে ব্যাটসম্যান পাচ্ছে বিসিবি!

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় বিষয় হল “নাম্বার থ্রি পজিশন”। কারণ, সাবেক ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার এবং আফতাব আহমেদের পর তিন নাম্বারে কেউই সেট হতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সাব্বির ১৫ ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটা ফিফটি করেছেন, সবচেয়ে বড় বিষয় তিন নাম্বারে খেলার জন্য যথেষ্ঠ ধৈর্য্য তার নেই। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ভালো একটা সুযোগ দিয়েছিলো।

তিন নাম্বারে যারা খেলেন তাদের শট খেলতে জানতে হয় কারন অনেক সময় দ্রুত উইকেটে নামা লাগে তখন ৩০ গজের সার্কেল ব্যবহার করতে হয়, সেজন্য শট খেলতে হয়। যেহেতু সাব্বির শট খেলতে পারে সেহেতু তাকে দিয়ে চেষ্টা করানো ভুল ছিলোনা যদি সে পজিশনটার গুরুত্ব বুঝতে পারতো। ইংরেজীতে একটা কথা আছে “One Shot too Many” সাব্বিরের সমস্যা সেটাই।

একই শট বারবার খেলার চেষ্টা করা, বলের লাইন না বুঝে এবং অতিরিক্ত শট নেয়া। সাব্বির একটা গোল্ডেন অপারচুনিটি মিস করেছেন।

দেশে সত্যি বলতে কোন বিশেষজ্ঞ তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান নেই। সাব্বিরকে সম্ভবত সেজন্য তিন নাম্বার বিশেষজ্ঞ বানাতে চেয়েছিলো ম্যানেজমেন্ট। আপনি তিন নাম্বারে কার কথা বলবেন? এনামুল হক, শাহরিয়ার নাফিস, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস এরা সবাই ওপেনার, কেউ তিন নাম্বারের বিশেষজ্ঞ না। আমি অবাক হই ঘরোয়া ক্রিকেট বা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কি কোন তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান তৈরী হয়নি আমাদের? কেন ওপেনারদের দিয়েই চেষ্টা করাতে হয় আমাদের?

মমিনুল হক একজন তিন নাম্বার বিশেষজ্ঞ কিন্তু তিনি টেস্ট বিশেষজ্ঞ বিসিবির মতে। যদিও আমি সেটা মনেকরি না। ইমার্জিং কাপে খেলানোর পর ভেবেছিলাম হয়তো মিমিকে আবার ওয়ানডের জন্য বিবেচনা করা হবে। এখন ওয়ানডেতে সমস্যার সমাধানে ৩ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে উঠে আসছেন কোন টাইগার?

আর একটা সমাধান হতে পারে মোসাদ্দেক হোসেন। মোসাদ্দেকের লম্বা ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে এই ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ নাই। আমি মোসাদ্দেকের ব্যাপারে খুবই আশাবাদি। তবে মোসাদ্দেকের যত বড় এবং ভালো ইনিংস শুনেছি সবই মিডিল অর্ডারে। মোসাদ্দেক যদি সার্কেল সুন্দর করে ব্যবহার করতে পারেন এবং নতুন বলে তার কোন সমস্যা না থাকে তাহলে তাকেও সুযোগ দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে আগে একটা বা দুটা “এ” দলের সফরে বাজিয়ে দেখা উচিৎ।

তবে আপাতত সমাধান বলতে আমার চোখে ইমরুল কায়েস, অভিজ্ঞতা, সাম্প্রতিক খেলার ধরন সব মিলিয়ে আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইমরুলকে টানা দুই তিন সিরিজ সুযোগ দেয়া উচিৎ। অন্তত দশ ম্যাচ টানা খেলালে ইমরুল অবশ্যই ভালো করবেন আমার বিশ্বাস। ইমরুলের ভাগ্য খারাপ, দুই ম্যাচ পরপর বসিয়ে দেয়া হয়। এভাবে একজন ব্যাটসম্যান কখনোই তার সেরাটা দিতে পারেনা। তাছাড়া ইমরুল তার খেলায় অনেক উন্নতি করেছেন, শট খেলার রেঞ্জ বাড়িয়েছেন, টাইমিং ভালো করেছেন। এমনকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুই ম্যাচেও আউট হবার আগ পর্যন্ত ইমরুলের ফুট মুভমেন্ট অনেক ভালো ছিলো।

হুম হয়তো শট সিলেকশন ভালো হয়নি আউট হওয়া শট দুটাতে। ইমরুল ছাড়া খুব ভালো বিকল্প কি আছে? এনামুল অনেক দিন বাইরে, সেখানে স্কোয়াডে থাকা ইমরুলকে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলানোর আগে বিজয়কে সুযোগ দেয়াটা ইমরুলের প্রতি অবিচার। লিটন দাসের উপর দীর্ঘমেয়াদে চোখ রাখাই যায় তবে অভিজ্ঞতা বিচারে ইমরুল আগে সুযোগ পায় অবশ্যই। আর শাহরিয়ার নাফিস এখন নির্বাচকদের রাডারের বাইরে, হতে পারে সেটা বয়সের কারনে, হতে পারে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে সেজন্য অথবা অন্যকোন কারন। সব মিলিয়েই তাই আমার মত ইমরুলকে তিন নাম্বারের জন্য বিবেচনা করে টানা খেলানো হোক।

আর দীর্ঘমেয়াদে তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান হিসেবে একজন প্লেয়ারকে গড়ে তোলা যায়, তিনি হচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউজিল্যান্ড সফরের সময়ই তার বিষয়ে ধারাভাষ্যকরদের বিশেষকরে সাইমন ডুয়েলের মন্তব্য শুনেছিলাম, তার টেকনিক, শট খেলার ধরন সব কিছুই দারুন। আর আমি নিজে বিপিএলে তার একটা ফিফটি দেখেছি স্টেডিয়ামে বসে, আমার কাছে ভালো লেগেছে।

যদি সঠিক পরিকল্পনা করে সামনে আগানো যায় তাহলে পাঁচ ছয় বছর পর শান্ত হয়তো তিন নাম্বারের জন্য পারফেক্ট একজন ব্যাটসম্যান হবেন।