একেই বলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার

বিজ্ঞাপনচিত্রে জুটি হয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তাঁর স্ত্রী উম্মে আল হাসান শিশির। এতে স্ত্রীর জন্য কালা ভুনা রান্না করেন সাকিব। বিজ্ঞাপনচিত্রটির পেছনের কথা জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর
বিজ্ঞাপনচিত্রটির গল্প লিখেছেন এশিয়াটিক লিমিটেডের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ফাহিম রেজা পিয়াল। আইডিয়াটা কিভাবে করলেন? “আমাদের ক্রিয়েটিভ স্পেস ছিল ‘ইন্টারনেটের মাঠে খেলবে সবাই’। মানে সবাই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করবে।

শুরুতেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল, গল্পে শুধু সাকিব-শিশির থাকবেন না। দেশজুড়ে তাঁদের ভক্তদেরও নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি বাংলালিংকের নেটওয়ার্কও এস্টাবলিশ হবে। যেহেতু গল্পটি সাকিব ও শিশিরের মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরতে হবে সে জন্য তাঁদের খুনসুটির বিষয়টি প্রথম ভাবনায় আসে। সেই ভাবনা থেকেই বৃষ্টির দিনে স্ত্রী শিশিরের কালা ভুনা খাওয়ার আবদার। আর সাকিবের কালা ভুনা রান্নার চ্যালেঞ্জ”—বললেন পিয়াল।
নির্মাণের দায়িত্ব পান
লাফিং এলিফেন্ট প্রোডাকশন হাউসের সাকিব ফাহাদ। আগেও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র বানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু শিশিরকে নিয়ে এবারই প্রথম। শুটিংয়ের জন্য জিন্দাপার্কে সেট ফেলা হয়। সারা দিনের জন্য শিডিউল নেওয়া ছিল সাকিব-শিশিরের। কিন্তু তাঁরা স্পটে আসতেই বিকেল হয়ে যায়। যে কারণে এক দিনের কাজ করতে হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

বিজ্ঞাপনচিত্রে জুটি হয়েছেন এই দম্পতি। তবে এবারেরটায় অভিনয় একটু বেশি। সাকিবের অভিনয় নিয়ে কোনো সংশয়ই নেই নির্মাতার। বরং বিশ্বের নম্বর ওয়ান অলরাউন্ডার অভিনয়ে এলেও যে নম্বর ওয়ানই হতেন সেই কথাও বলেছেন তাঁকে।

বিপত্তিটা শিশিরকে নিয়েই। অভিনয়ে বারবারই ভুল করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সাকিব থাকতে চিন্তা কী! শিশিরের সাহায্যে এগিয়ে আসেন নিজেই। পিয়াল জানান, “যখনই শিশিরের দৃশ্য ‘ওকে’ হচ্ছিল না, সাকিব নিজে থেকেই শিশিরকে অভিনয় করে দেখিয়ে দিয়েছেন। এই না হলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার!”
সাকিবের কালা ভুনা চেখে দেখতে গিয়েও মজার ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান ফাহাদ—‘শুটিংয়ের জন্য আগে থেকেই এক বাটি কালা ভুনা এনে রাখা হয়েছিল। গল্পের শেষে শিশিরের কালা ভুনা খেয়ে দেখার শটটি বেশ কয়েকবার নিতে হয়। আর প্রতিবার শিশির বাটি থেকে এক পিস করে খাবার কারণে বাটি খালি হয়ে যাচ্ছিল। ’

বিজ্ঞাপনচিত্রের স্পটে মা-বাবার শুটিংয়ে ছিল আলাইনাও। তবে মা-বাবার কাজের সময় একটুও ডিস্টার্ব করেনি। সারাক্ষণ চুপটি করেই ছিল বলে জানান চিত্রগ্রাহক শেখ রাজিবুল ইসলাম। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দুপুর বেলায় কালা ভুনা খাচ্ছেন শিশির কিন্তু দৃশ্যটা ধারণ করা হয় রাতে।

নির্মাতা ফাহাদ বলেন, ‘সময়ের অভাবে দিনের আলোয় দৃশ্যটা নিতে পারিনি, তবে এখনো কেউ ধরতে পারেনি যে দৃশ্যটা রাতে শুট করা!’ জিন্দাপার্ক ছাড়াও মানিকগঞ্জ ও ঢাকার আরো বেশ কয়েকটি লোকেশনে শুটিং হয়েছে। সময় লেগেছে তিন দিন। এবারই প্রথম এই বিজ্ঞাপনচিত্রে ভয়েস দিয়েছেন শিশির। এর সব কাজ বাংলাদেশে হলেও কেবল মিউজিকের কাজটা হয় দেশের বাইরে।