অস্ট্রেলিয়ার বেতনের সামনে তুচ্ছ টাইগারদের বেতনের পরিমাণ, পার্থক্য শুনলে চমকে যাবেন

বেতন-ভাতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা বরাবরই অনাগ্রহী। আর তার কারণও রয়েছে বটে। কেননা তাদের আগের বেতন থেকে কিছুটা কম ডলার তাদের পকেটে ভরছে। তারপরেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বেতন স্মিথদের তুলনায় নিহত সামান্যই বটে। পার্থক্যটাও অনেক। নতুন চুক্তিতে অজি ক্রিকেটাররা বছরে গড়ে ১.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার পাবেন। বর্তমান চুক্তিতে সেটা ১.১৬ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা গড়ে সেখানে পান ৩৮ হাজার ৪১৪ ডলার।

গড় হিসাব বাদ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান শীর্ষ ক্রিকেটারদের আয় অনেক বেশি। স্মিথ এবং ওয়ার্নার বোর্ড থেকে পান ১.৮ মিলিয়ন ডলার করে। এই আয় তাদের অন্য আয় থেকে বাইরে। বিশ্বের টি-টুয়েন্টি লিগগুলো থেকে আরও কাড়িকাড়ি অর্থ পান তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ ক্রিকেটার, অর্থাৎ ‘এ+’ ক্যাটাগরিতে যারা আছেন, তারা মাসে পান দুই লাখ টাকা করে। মানে ৩১০০ ডলার, বছরে ৩৮ হাজার ৪১৪ ডলার। স্মিথরা সেখানে ১.৮ মিলিয়ন ডলার!

‘ডি’ ক্যাটাগরিতে যারা আছেন, তারা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি থেকেও কম পান! বিসিবির ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা পান ৬০ হাজার টাকা, অর্থাৎ মাসে ৯৩১ ডলার। বছরে ১১ হাজার ১৭২ ডলার। অস্ট্রেলিয়ার একজন ক্রিকেটার একটি টেস্ট খেলে এরচেয়ে ১৪ হাজার ডলার বেশি পান!

এত কিছুর পরেও পারিশ্রমিক নিয়ে আন্দোলনে নামার একটা যুক্তি আছে স্মিথদের কাছে। তারা মূলত চাইছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটারদেরও লভ্যাংশের ভাগ দিতে হবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তা দিতে নারাজ।

বাংলাদেশেও সব ক্রিকেটারকে বোর্ড থেকে বেতন দেয়া হয় না। যারা কেবল মাত্র ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকেন, তাদেরই বেতন দেয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য ঘোষিত ২৯ জনের দল থেকে মাত্র ১৪ জন বোর্ড থেকে বেতন পান।

বেতন নিয়ে এমন আন্দোলনে নামাকে ‘নৈতিকতার ব্যাপার’ বললেও দেশটির সমর্থকরা খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না।

ডেভিড পিয়ার নামের এক অস্ট্রেলিয়ান সমর্থক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নিয়ে মন্তব্য করতে যেয়ে লিখেছেন, ‘আমি ৫০ বছর ধরে ক্রিকেট দেখছি। ওয়ার্নাররা যা শুরু করেছেন, তা সহ্য করতে পারছি না। ওরা তো কম টাকা পায় না। ওদের এমন আচরণেই এখন আর খেলা দেখি না। ’

এসভি নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘ক্রিকেটাররা সত্যিকার অর্থেই অনেক বেতন পান। আমি মনে করি এসবের কোনো দরকার নেই। ’