অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের জায়গা দখল করে নিলেন টাইগার মিরাজ

প্রথমবারের মত দেশের বাইরের কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে যাচ্ছেন। মিরাজের জন্য অভিজ্ঞতাটা একেবারেই নতুন। তার জাতীয় দল সতীর্থ সাকিবের জন্য অবশ্য বিষয়টা ডালভাত!

বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের নানা প্রান্তে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সিপিএলে খেলতে দেশ ছাড়ার আগে তাই সাকিবের শরণাপন্ন মিরাজ। জানালেন, আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের মন্ত্র শিখিয়ে দিয়েছেন সিনিয়র। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় উড়াল দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মূলত অলরাউন্ডার হলেও কেবল স্পিনার হিসেবেই তাকে চেয়েছে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের জায়গা দখলে নিয়েছেন মিরাজ, এই বাঁহাতি স্পিনার ব্র্যাড হগের জায়গায় ডাক পড়েছে ১৯ বছরের এই তরুণের।

ক্যারিবীয় মাটি স্পিনারদের সাহায্যে হাত বাড়ায় অহরহ। সিপিএলে দুই আসর খেলে সফল হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান। প্রথমবার খেলতে গিয়েই এক ম্যাচে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সেখানকার উইকেট, আবহাওয়া সম্পর্কে বেশি জানা সাকিবেরই। মিরাজ তাই যোগ্য মানুষটির কাছেই পরামর্শ নিয়েছেন।

পোর্ট অব স্পেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাকিবের সেই পরামর্শের কথাই জানিয়ে গেলেন মিরাজ, ‘সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছে, তারা সব সময় আমাকে সাহস দিয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করেছে। সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে।

বলেছে ওখানে উইকেটটা টার্নিং থাকে। ঠিক জায়গায় বোলিং করতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় নিচু হয়, অনেক সময় টার্ন করে। সাকিব ভাই সবসময় আক্রমণাত্মক মুডে থাকার কথা বলেছেন। তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

সিপিএলে ভালো করতে পারলে এধরনের বড় মঞ্চে খেলার আরও সুযোগ আসবে বলেই বিশ্বাস মিরাজের, ‘সিপিএল আমার জন্য দারুণ একটা সুযোগ। ওখানে টি-টুয়েন্টি লিগটা যদি কাজে লাগাতে পারি; আমার জন্য, ক্যারিয়ারে জন্য অনেক ভালো হবে।’

অলরাউন্ডার হলেও এক বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মিরাজ খেলেছেন মাত্র একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। সিপিএল দিয়ে তাই জাতীয় দলের টি-টুয়েন্টি স্কোয়াডে ঢুকে পড়ারও সুযোগ খুঁজছেন এই অলরাউন্ডার, ‘জাতীয় দলে এক বছরে টি-টুয়েন্টি খুব বেশি একটা খেলা হয়নি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বড় বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে মানিয়ে নিতে পারলে দারুণ সুযোগ তৈরি হবে আমার।’

এমনিতে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে মিরাজের অভিজ্ঞতা খুবই কম। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট বলতে গত বছর ঘরের মাঠে বিপিএলে রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলা। যেখানে অধিনায়ক পেয়েছিলেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামিকে।

সেই অভিজ্ঞতাও কাজে দেবে বলে ভাবনা মিরাজের, ‘সর্বশেষ বিপিএলে রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলেছি। যখন যেভাবে পেরেছি অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। বিপিএলের অভিজ্ঞতা এখানে অবশ্যই কাজে দেবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক খেলোয়াড় বিপিএলে খেলেছে। আমি ওদের সম্পর্কে জানি। যেটি একটি সুবিধা।’