অযত্ন-অবহেলায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে কক্সবাজার স্টেডিয়াম

দেড় বছর আগে স্টেডিয়ামটা দেখে চোখ জুড়িয়ে গিয়েছিল। মাঠের পশ্চিম দিকের প্রাচীর পেরোলেই ঝাউবন। ঠিক তার পরই সমুদ্র। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে যেন কক্সবাজারের পুরো সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব! তবে দিনে দিনে ফিকে হয়ে যাচ্ছে এ স্টেডিয়ামের রঙ-রূপ। অযত্ন-অবহেলায় নয়নাভিরাম সবুজ এখন নেই। নতুন কোনো কাজ তো হয়ইনি, পুরনো গ্যালারির পলেস্তারাও খসে পড়ছে। অথচ দেড় বছর আগে এখানে স্পোর্টস কমপ্লেক্স বানানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তৈরি হওয়ার পর ২০১৪ সালের মার্চে মেয়েদের ক্রিকেট দিয়ে এ মাঠের যাত্রা শুরু। এরপর ২০১৪ সালের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ ও বাংলাদেশ ‘এ’ দল আনঅফিসিয়াল টেস্ট ম্যাচও খেলেছিল এখানে। তবে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজর কাড়ে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। এখানে দুটি মাঠ। মূল মাঠের পাশে একাডেমি মাঠও আছে। দুটির সঙ্গে আছে প্র্যাকটিস করার আলাদা জায়গাও। মূল মাঠ এখনও অসম্পূর্ণ। দেড় হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি গ্যালারি করা হয়েছিল। সেখানে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, ম্যাচ অফিসিয়ালদের রুম, প্রেস বক্স ও বিসিবি কর্মকর্তাদের কক্ষ। এগুলো অবশ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় করা। দেড় বছর আগে মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল_ স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর ঘিরে ৪০০ নারেকেল গাছ লাগানো। কিন্তু দেড় বছরে ওই নারেকেলের চারা দেড় ফুটের মতো বড় হয়েছে। অনেক চারা মরেও গেছে। দেড় বছরেও চারাগুলো প্রত্যাশামতো বড় হলো না কেন, এমন প্রশ্নের জবাব ভেন্যু ম্যানেজার এমএ বাহার ও কিউরেটর মুস্তাফিজুর রহমান। তারা দু’জনেই জানালেন, পর্যাপ্ত যত্ন নাকি তারা নিচ্ছেন। কিন্তু অজানা কারণে চারাগুলো বড় হচ্ছে না। তাদের কথাতেই স্পষ্ট অযত্নে গাছগুলো বড় হচ্ছে না।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান হানিফ ভুইয়া বলেছিলেন, তিনি নাকি নিজ হাতে নারকেলের চারাগুলো লাগিয়েছেন। আড়াই বছর পর সেগুলো বড় হলে কমপ্লেক্সের চেহারা পাল্টে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। চারাগুলো গাছ হতে তার বেঁধে দেওয়া সময় আরও এক বছর আছে। কিন্তু এই এক বছরের মধ্যে সেগুলো যে গাছ হচ্ছে না, সেটা ভেন্যু ম্যানেজার-কিউরেটরের কথা থেকেই বোঝা যায়। এখানে দুটি পুকুরও আছে। সেগুলোর ঘাট বাঁধিয়ে আকর্ষণীয় করার কথাও বলেছিলেন হানিফ ভুইয়া। তবে পুকুরের ঘাট এখনও বাঁধানো হয়নি। উল্টো দেখা গেল, বৃষ্টির পানিতে পুকুর উপচে মূল মাঠে চলে এসেছে পানি। মাঠের হাঁটার রাস্তাগুলোরও জঘন্য অবস্থা। টানা বৃষ্টির কারণে এখন অবস্থা একটু খারাপ বলে মনে করছেন ভেন্যু ম্যানেজার।

এর পরও এমন সুন্দর একটি মাঠের বেহাল অবস্থা দেখে বেশ হতাশ কার্নিভাল উপলক্ষে এখানে আসা সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনও বলেছেন, অতি শিগগিরই মাঠটি সংস্কার করা প্রয়োজন। আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটও অবাক মাঠের এমন দুদর্শায়।

সংগ্রহ: সমকাল