মাহমুদুল্লাহ কে নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

জাতীয় দলে ১০ বছর পূর্তি হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। এ নিয়ে শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটা হয়তো এলো ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছ থেকে। মাহমুদউল্লাহ মানে মাশরাফির চোখে সবার চেয়ে আলাদা।

সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিকে লেখা এক কলামে এ কথা জানিয়েছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রিয়াদ অন্য রকম একটা চরিত্র। বিশেষ কিছু কারণে ও সবার চেয়ে আলাদা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দল থেকে বাদ পড়লে সবারই খারাপ লাগে। রিয়াদেরও মন খারাপ হতে দেখেছি। কিন্তু কখনোই এটা শুনিনি যে নিজের বাদ পড়ার জন্য ও অন্যকে দায়ী করছে। বরং নিজেকে দোষ

দিয়েছে। আরো বেশি কষ্ট করে ঠিকই জাতীয় দলে ফিরেছে। এ মানসিকতাই কিন্তু ওকে বারবার ফিরিয়ে এনেছে দলে। ১০টা বছর লড়াই করে এত দূর উঠে আসার জন্য রিয়াদকে অভিনন্দন।’

ব্যাটিং পজিশনের ক্ষেত্রে মাহমুদউল্লাহ সবচেয়ে বেশি সাফল্যে পেয়েছেন তিন নম্বরে। কিন্তু দলের প্রয়োজনে যখন যেখানে দরকার সেখানেই ব্যাট হাতে নিয়েছেন। মাশরাফির চোখে এই কারণেও অনন্য তিনি।

মাশরাফি লিখেছেন, ‘আরেকটা বড় কারণে ওকে আমি সাধুবাদ দেব। সব ব্যাটসম্যানেরই পছন্দের একটা পজিশন থাকে। বড় খেলোয়াড়দের পছন্দ গুরুত্বও পায় দলে। কিন্তু রিয়াদের সে রকম কিছু নেই। দল যখন যেখানে ব্যাটিং করতে বলেছে, সে করে গেছে। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কোনো ফরম্যাটেই রিয়াদের নির্দিষ্ট ব্যাটিং পজিশন নেই। তবু কখনো অনুযোগ করেনি ছেলেটা। ক্যারিয়ার শুরু করেছিল লোয়ার অর্ডারে। এখন বেশির ভাগ সময় ওপরে খেলে। তবে আমার বিশ্বাস, শুরু থেকে নির্দিষ্ট একটা জায়গায় খেললে রিয়াদের ব্যাটিং গড় আরো ভালো অবস্থায় থাকত। আমি যে কথাটা বললাম, এটা কিন্তু রিয়াদ নিজে কখনো বলেনি। দলের অন্তপ্রাণ মানুষ যাকে বলে।’

২০০৭ সালে জাতীয় দলে অভিষেক করা ব্যাটিং অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ১৪৫ ওয়ানডে, ৫৮ টি-টোয়েন্টি ৩৩ টেস্ট খেলেছেন। রান তুলেছেন যথাক্রমে ৩১৫৫, ৮১০ ও ১৮০৯। উইকেট ৭০, ২২ ও ৩৯।