শুভ জন্মদিন খালেদ মাহমুদ সুজন

যদি বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত একজন ব্যাক্তির নাম বলা হয় তাহলে হয়ত সকলের প্রথমেই পাওয়া যাবে তার নাম । ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে তার বোলিং নৈপুণ্যে বিশ্বাবাসীকে তাক লাগিয়ে পেয়েছিলাম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় । আবার ২০০৩ সালে আমরা দেখেছি তার সেই কষ্টের কান্না । কখনও তাকে পেয়েছি সেরা হিসেবে আবার মুদ্রার ওপিঠে দেখেছি বিশৃঙ্খল জীবনযাত্রা , নানা সমালোচনা । তিনি আর কেউ নয় তিনি আমাদের প্রিয় খালেদ মাহমুদ সুজন ।

আজ ২৬ জুলাই সেই প্রিয় ব্যাক্তির জন্মদিন । “শুভ জন্মদিন” খালেদ মাহমুদ সুজন । শুভ হোক তার সামনের প্রতিদিন ।

১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই ঢাকায় জন্ম হয় খালেদ মাহমুদ সুজনের । ক্রিকেটে তিনি ডানহাতি অল-রাউন্ডার ছিলেন । সাবেক এই ক্রিকেটার মিডিয়াম পেস করার দরুন “গতিদানব” নামে পরিচিত হন । বলে রাখা ভালো সে সময় ফাস্ট বোলার তেমন একটা ছিল নাহ । তার প্রিয় সতীর্থরা তাকে “ব্যাঙ্গা” নামে ডাকতো । সাবেক এই ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু হয় ১০ জানুয়ারি,১৯৯৮ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে । সর্বমোট খেলেছেন ৭৭ টি ম্যাচ । যার মধ্যে আহামরি কোন রেকর্ড না থাকলেও তার সেরা বিধ্বংসী বোলিং এ ৬১ রানে জয় পায় ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে ফেভারেট পাকিস্তানের সাথে ।

খালেদ মাহমুদ সুজন সে ম্যাচে ৩৬ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন । তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারটি ছিল হারারেতে ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে । সেই সিরিজের ৫ম ওয়ানডেতে ১৪ রানে নেন ৪ উইকেট । মূলত তিনি ছিলেন একজন বোলিং অল-রাউন্ডার । তাই তার ক্যারিয়ারের সর্বমোট রান সংখ্যা ৭২ ইনিংসে মাত্র ৯৯১ যাতে রয়েছে একটি মাত্র অর্ধ-শতক । ২০০১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে মাত্র ৩৮ বলে পান এই অর্ধ-শতক ।

তার টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেন বাংলাদেশ দল টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরের বছর ৮ই নভেম্বর,২০০১ সালে । তিনি খেলেছেন মোট খেলেছেন ১২ টি টেস্ট । তিনি টেস্টে সর্বমোট রান করেন ২৬৬ । যার মাঝে সর্বোচ্চ রান ছিল ৪৫ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেমিলটনে । এছাড়াও তিনি বল হাতে টেস্ট শিকার করেন ১৩টি উইকেট যেখানে তার সেরা বোলিং ফিগার ৩৭ রানে ৪ উইকেট পাকিস্তানের বিপক্ষে মুলতানে । সেই টেস্ট ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে বেদনাদায়ক । কারন এই মুলতান টেস্টেই বাংলাদেশ পেতে পারতো প্রথম টেস্ট জয় । পিচে পানি দেয়ার অভিযোগ করা হয় পাকিস্তানের উপর । শেষমেশ সেই টেস্ট হারে বাংলাদেশ মাত্র ১ উইকেটে । সেইদিন খালেদ মাহমুদ সুজনের কান্না দেখেছিল বিশ্ববাসী ।

নানান অভিযোগে ও তার ব্যার্থ ক্যাপ্টেনসির জন্য ২০০৪ সালে তাকে ক্যাপ্টেন পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় কিছুটা হতাশা , রাগ , অভিমান থেকেই হয়ত সে ২০০৬ সালে ৮ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন নিজ দেশের মাটিতে ।
তিনি বাংলাদেশের ঘরোয়া লীগেও দাপটের সাথে খেলেছেন ঢাকা ডিভিশন ও ঢাকা মেট্রোপলিস এর হয়ে ।
অবসরের পর তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের হয়ে কাজ করতে তাই বিভিন্ন সময় তাকে আমরা জাতীয়দলের সাথে দেখেছি কখনও ম্যানেজার হিসেবে , কখনও সিলেক্টর , কখনও সহকারি কোচ হিসেবে । তবে জাতীয় দলে তিনি প্রায়শই আলোচনা সমালোচনার মুখে পরেন ।
কোচ হওা টা তার স্বপ্ন ছিল বলে তিনি বিপিএল এ ঢাকা ডিনামাইটস কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন এবং দলের জয়ে অংশিদার হন । এছাড়াও তিনি বর্তমানে ঢাকা কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ।
মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ যেমন আছে তেমনি ভালো খারাপ নিয়েই মানুষ ।
আজকের এই দিনে তাটা জন্মদিনে , আনন্দঘন মুহূর্তে এই মানুষটির জন্য রইল শুভ কামনা ।

“ শুভ জন্মদিন গতিদানব ” স্পোর্টসজোন টোয়েন্টি ফোরের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।