ওয়ানডেতে ‘চার-ছক্কায়’ রান তোলায় অস্ট্রেলিয়া-ভারত-পাকিস্তান হটিয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানের ছড়াছড়ি দেখে আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন নিয়ম চালু করে। প্রথম দশ ওভারের ব্যাটিং পাওয়ার প্লে বাদ দেয়ার সাথে সর্বোচ্চ দুজন খেলোয়াড় ৩০ গজের বাইরে রাখার সুযোগ নিয়ম করে আইসিসি।

এছাড়াও ইনিংসের শেষ দশ ওভারেরও বোলারদের সুবিধার কথা চিন্তা করে চার জনের জায়গায় পাঁচজন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে রাখার নিয়ম করেছিলো আইসিসি। নতুন এই নিয়মে ফ্রন্ট ফুট নো বল সহ সব ধরনের নো বলেই ফ্রি হিট পাবে ব্যাটসম্যান।

আসলে বল ও ব্যাটের মধ্যে ভারসাম্য আনতেই এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়। গতবছরের জুলাইয়ের ৫ তারিখ থেকে এই নিয়ম চালু হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন নিয়মের পর এখন পর্যন্ত একশর বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে।


পরিসংখ্যানে বুঝা যায়, নতুন নিয়মে ‘ব্যাটিং’ প্রেক্ষাপটে ওয়ানডে ক্রিকেটে উপরের সারিতে আছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ দল। তারপরেই আছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্যরা। সবার নিচে আছে ওয়াল্ড টি-টুয়েন্টি বিশ্বচাম্পিয়ন দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নতুন নিয়মে ইংল্যান্ড দল ওভার প্রতি ৬.৩৯ করে রান তুলেছে। তার পরেই আছে কেন উইলিয়ামসনের কিউইরা। নিউজিল্যান্ড দল ৬.০৫ রান করে তুলেছে ওভার প্রতি।

টাইগাররা রান রেটের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে। ৫.৬৭ রান রেটে নতুন নিয়মে ওয়ানডে খেলে আসছে তামিম-সাকিবরা। আবার ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন নিয়মে বাউন্ডারি হিট্টিংয়ের দিক থেকে উপরে আছে বাংলাদেশ দল।

ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ দল ৫০.৯৫ শতাংশ রান চার ছক্কায় তুলে নিয়েছে। তারপরেই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৯.৬৫ রান বাউন্ডারিতে এসেছে ক্যারিবিয়দের। নিউজিল্যান্ড ৪৮.৯৭, ইংল্যান্ড ৪৮.৯৬ রান তুলেছে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে।

সব মিলিয়ে জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে গড় রানরেট ছিল ৫.২৩। সেটা নতুন নিয়মের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ওভার প্রতি ৬.৩৯ রানে।বাউন্ডারি হিট্টিংয়ে ক্ষেত্রেও বিস্ময়কর পরিবর্তন এসেছে।

জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যা ছিল ৪০ শতাংশ, সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮.৯৮ শতাংশে। তাহলে সত্যিই কি ব্যাটে বলে ভারসাম্য আনার চেষ্টা সফর হয়েছে? যেখানে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা।