‘বিপিএল’ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নাকি বিদেশি প্রিমিয়ার লিগ?

‘ফেয়ার গেম অ্যান্ড উইন’ হলো রংপুর রাইডার্সের মালিক সোহানা স্পোর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানের চাওয়া। কিন্তু সেই চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার মেলবন্ধন কতটা ঘটবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয়।

‘ফেয়ার’ তো নয়ই, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর শুরুর মাস তিনেক আগেই ঘটতে শুরু করে দিয়েছে‘আনফেয়ার’ কিছু কিছু ব্যাপারও। এর অন্যতম প্রতি ম্যাচে অনুমোদিত বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা। গত আসরেও একেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলাতে পারত। কিন্তু এবার সংখ্যাটি বাড়িয়ে পাঁচজন করার মরিয়া চেষ্টা চলছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের খবর হলো আট ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে হওয়া ভোটাভুটিতে পাঁচজন খেলানোর বিপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত থাকার পরেও বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় অগ্রগতি বহুদূর। যত দূর খবর ভোটে হেরে যাওয়ার পরও পাঁচজন খেলাতে বদ্ধপরিকর পক্ষটি বিপক্ষে ভোট দেওয়া দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টায় তারা সফল হলে বিপিএল আর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থাকবে না, এই আসরকে রীতিমতো বিদেশি প্রিমিয়ার লিগই বানিয়ে ছাড়া হবে মনে হচ্ছে!

বাংলাদেশের টুর্নামেন্টে দেশি খেলোয়াড়ের খেলার সুযোগ কমিয়ে বিদেশিদের বাড়তি কর্মসংস্থান হলে ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত তা-ই দাঁড়াবে। তা ছাড়া বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাবদ প্রতি বিপিএলে বিশাল অঙ্কের অর্থও দেশের বাইরে চলে যায়। প্রত্যেক ম্যাচে এবার সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলাতে পারার ব্যাপারটি অনুমোদন পেয়ে গেলে দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থের অঙ্কটা আরো বাড়বে নিঃসন্দেহে। কারণ সে ক্ষেত্রে দলগুলো‘ব্যাকআপ’ হিসেবে অন্তত আরো কয়েকজন বিদেশিকে অন্তর্ভুক্ত করে রাখতে চাইবে। সংশ্লিষ্ট অনেকে এটিকেও ভালো চোখে দেখতে পারছেন না। তবে সিংহভাগের কাছেই পুরো ব্যাপারটির উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হলেও তোড়জোড় থেমে নেই।

জানা গেছে, ভোটাভুটিতে পাঁচজন খেলানোর বিপক্ষে মত দিয়েছে পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজি আর তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি পক্ষে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেকের কথায়ও সেটি স্পষ্ট, ‘আমরা চারজন খেলানোর পক্ষেই জোরালোভাবে মত দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে আরো চার ফ্র্যাঞ্চাইজিও একই মত দিয়েছে। এখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কী করে, সেটিই দেখার। ’

গভর্নিং কাউন্সিল যা করছে, সেটি দৃশ্যমান না হলেও গোপন নেই। বিদেশি খেলোয়াড়ের সংগ্রহ এবার আরো ভালো হওয়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসই মূলত পাঁচজন খেলানোর অনুমোদন চায়। এই দলটির মালিক বেক্সিমকো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান এবং পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

অতীতেও বিপিএল ঢাকা ডায়নামাইটস বান্ধব করার নানা অভিযোগ থাকায় এবারও আঙুল ওই দলটির দিকেই। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভোটে হারার পরও আরো দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দলে ভিড়িয়ে পাঁচজন বিদেশি খেলানো অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা সাফল্যের পথে। তাই বিপিএলের বিদেশি প্রিমিয়ার লিগ হয়ে যাওয়াটাও প্রায় পথের শেষে!

সুত্র: কালের কন্ঠ