বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে মুশফিক

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক এবং টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

শনিবার বেলা দেড়টার দিকে মুক্তামনিকে দেখতে হাসপাতালে যান মুশফিক। এ সময় তিনি মুক্তামনির পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। মুশফিককে দেখে দারুণ খুশি হয় মুক্তামনি।

মুক্তামণিকে মুশফিক বলেন, ‘চিন্তা কোরো না, তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে। সবাই তোমার পাশে আছে, দোয়া করছে।’

মুক্তামণিও মুশফিককে ঠিকই চিনতে পারে। সে জানায়, টেলিভিশনে মুশফিককে অনেক দেখেছে। এখন কাছ থেকে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে মুক্তামনির চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এ সময় মুশফিকের সঙ্গে তিনিও ছিলেন।

মুশফিক তাকে বলেছেন, তিনি (মুশফিক) এ ধরনের রোগীদের পাশে থাকতে চান। কিন্তু সব সময় সুযোগ হয় না। তাই কোনো কোনো সময় লোক মারফত খোঁজখবর নেন, সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মুক্তামনি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনের মেয়ে।

ঢাকায় অবস্থানরত শিশু মুক্তার মা আয়েশা খাতুন জানান, ডা. সামন্তলাল তাদের মেয়ের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে তার রক্তশূন্য দেহে রক্ত দেয়া হচ্ছে। এছাড়া উন্নত মানের খাবার খাইয়ে তাকে সুস্থ করে তুলবার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। এখন মেয়ের রোগমুক্তি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন মুক্তামনির মা।

প্রসঙ্গত, ১২ বছরের শিশু মুক্তামনির দেহে জন্মের দেড় বছর পর একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। তার আক্রান্ত ডানহাত এখন ছোট আকারের গাছের গুড়ির রূপ নিয়ে প্রচণ্ড ভারি হয়ে উঠেছে। এ রোগ তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।