আকবরের ক্রিকেট মস্তিষ্ক বড় বড় কোচদেরকেও হার মানায়!

বিশ্বকাপ ফাইনালে বাংলাদেশকে জিতিয়ে ‘আকবর দ্য গ্রেট’ উপাধি পাওয়া অধিনায়ক আকবর আলী নিজের গড়ে উঠার প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে এসেছিলেন আজ (১৮ ফেব্রুয়ারী)। সেখানে সকলের ভালোবাসায় আবারো শিক্ত হন তিনি।

সকাল বেলা তেমন সুযোগ না হলেও প্রথম সেশনের বাদেই লাঞ্চ বিরতির সময় বিকেএসপির প্রধান ক্রিকেট কোচ মাসুদ হাসান এগিয়ে গেলেন আকবরের দিকে। জড়িয়ে নিলেন বুকে। কোচ-শিষ্যের মাঝে কথা হল কিছুক্ষণ। পরে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মাসুদ হাসান ব্যক্ত করলেন আকবরের সঙ্গে তার রসায়ন। কথায় কথায় বেরিয়ে এলো বিকেএসপি ও জুনিয়র টাইগারদের অধিনায়কের রহস্যময় ক্রিকেট মস্তিষ্কের কথা।

বিশ্বজয়ী আকবরের মূল্যয়ন করতে গিয়ে মাসুদ হাসান বলেন, আকবর তো আকবরই। এখানে অন্যান্য কোচরাও রয়েছে। আমার বিভাগে যারা রয়েছে সকলেই তাকে আদর করে। আমি তাদের প্রধান হওয়ায় একটু বেশিই যোগাযোগ থাকে বা সব নজরে রাখতে হয়। ওর মাঝে কিছু ব্যতিক্রম তো আছেই।

ওদের ব্যাচের যে সাতটা ছেলে ছিল, তাদের মধ্যে আকবর ছিল খুবই ধীরস্থির। চঞ্চল প্রকৃতির নয়। দেখতাম সববিষয় গ্রহণ করার দারুণ ক্ষমতা ওর মধ্যে। ক্রিকেট নিয়ে খুব চিন্তা করে। যখন খেলার সময়, তখন শুধু খেলা নিয়েই চিন্তা করে। যখন অন্য বিষয়, অন্য বিষয়। অনুশীলন সেশনে উপভোগ করার ব্যাপারটা অসাধারণ। বিভিন্ন পার্টি আয়োজন করা, এসব ওর মধ্যে ছিল।

এরকম আয়োজন করা মানে হল সবার মাঝ থেকে কিছু একটা আদায় করে নেয়া। তখন বুঝেছি যে ভালো যোগ্যতা অধিনায়কের দায়িত্ব নেয়ার। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আদায় করে নেয়ার ব্যাপারটা আমরা কোচ হিসেবে করছি। সে জিনিসটা ও বের করতে পেরেছে। ওর মধ্যে এই তাগিদটা আছে সতীর্থ খেলোয়াড়দের থেকে ভালো কিছু আদায় করে নিতে হবে।

বিষয়টা বুঝতে পারা কাকে, কখন, কীভাবে খেলাতে হবে। কোথায় ফিল্ডার নিতে হবে। কখন কাকে ব্যাটিং-বোলিং করাতে হবে। বয়সভিত্তিক পর্যায়েই একটা ছেলের এরকম বলতে পারা তো বিরাট কিছু। ম্যাচ নিয়ে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বললে দেখতাম আমি যা চিন্তা করেছি একবারে কাছাকাছি বা তারচেয়ে বেশি কিছুটা। আমি তো কোচ হিসেবে চিন্তা করি সামগ্রিক ট্রেনিং কনসেপ্ট যা রয়েছে তা কীভাবে প্রতিফলন ঘটাব। কাজে লাগাব। আকবরও একইরকম চিন্তা করে রেখেছে। সে তো ওরকম কোচদের মতো প্রশিক্ষিত না।

তারপরও যখন পেরেছে তখন বুঝেছি ওর প্রতিভা সম্পর্কে। সহজাতভাবেই ওর গেমসেন্স অনেক প্রখর। আমার সঙ্গে কাজ করেছে, যেটা বুঝতে পেরেছি তার মধ্যে এমন অনেককিছু আছে যা আমিও ভাবি না। আমি চিন্তা করেছি ওদের সবাইকে কীভাবে ট্রেন-আপ করা যায়। আর ও চিন্তা করেছে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে। তখনই বুঝতে পারি, সে অসাধারণ। সাকিব আল হাসান যখন এখানে ছাত্র ছিল, তখনও তাদের গ্রুপের কোচ ছিলাম আমি। গ্রুপ ম্যাচ বা নিজেদের মধ্যে ম্যাচগুলা করতাম তখন বলতাম ট্রেনিংয়ে টেকনিক্যালি এ কাজগুলা করব। প্রচলিত ভাষায় বলে না, ‘ক’ বললে কলকাতা বুঝে যায়। অনেককে হয়তো বারবার যেটা বলা লাগত তেমনটা ওকে(আকবর) বলা লাগেনি।