অপ্রতিরোধ্য তামিম-আল আমিনের জোড়া শতকের কাছে জিম্বাবুয়ের নতি স্বীকার

সাভারের বিকেএসপিতে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে জিম্বাবুয়ে ছড়ি ঘুরানোর পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা নিজেদের করে নিলেও বাকি দুই সেশন কেবল তানজিদ আর অধিনায়ক আল আমিনের কাছে পেরে উঠতে পারলোনা জিম্বাবুয়ে। এই দুই অপ্রতিরোধ্য ব্যাটসম্যানের শতকের কাছে নতি স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত ড্র’তে শেষ হয়েছে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জিম্বাবুয়ে ২৯১/৭ (৯০)(ডি.)
কাসুজা ৭০, মুম্বা ৫৪*।
শাহাদাত ১৬/৩।

বিসিবি একাদশ ২৮৮/৫ (৫৯.৩)(ডি.)
তানজিদ হাসান তামিম ১২৫*, আল আমিন ১০০*
এনদুলাভু ১১/২।

অপ্রতিরোধ্য তামিম-আল আমিনের জোড়া শতকে ড্র হলো প্রস্তুতি ম্যাচ
চা বিরতির পরই বাঁহাতি তামিম সেঞ্চুরি তুলেছেন ৮৭ বলে। ৫টি ছয় ও ১০টি চারে ইনিংস সাজিয়ে ১০৮ রানে অপরাজিত আছেন। অধিনায়ক আল-আমিনও তুলে নেন শতক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ২১৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ড্র তে শেষ হয় ম্যাচ।

দ্বিতীয় সেশন তানজিদ-আল আমিনের
প্রথম সেশনে পাঁচ উইকেট পড়লেও দ্বিতীয় সেশনটা কেবল নিজেদের করে নিয়েছেন তানজিদ ও আল আমিন। দুজনেই ফিফটির পর এগিয়ে চলেছেন শতকের দিকে। সেঞ্চুরি খুব কাছে থেকে ৮৯ রান নিয়ে চা বিরতিতে গেছেন তানজিদ। আর আল আমিন অপরাজিত আছেন ৭৫ রানে।

তানজিদ-আল আমিনের ফিফটিতে প্রতিরোধ
এরপর ব্যাট করতে এসে ঝড় তুলেন তানজিদ হাসান। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বেশি আক্রমণাত্না হয়ে ওঠেন এই যুবা। একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে ৪০ বলে ৫ ছক্কা ও ২ বাউন্ডারিতে তুলে নেন অর্ধশতক। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়ে ফিফটির তুলে নেন অধিনায়ক আল আমিনও।

প্রথম সেশনেও পাঁচ উইকেটের পতন
ইনিংসের গোড়াপত্তন বাউন্ডারি দিয়ে করলেও মোহাম্মদ নাইম শেখ উইকেটে বেশি সময় কাটাতে পারলেন না। ৭ম ওভারে ২ চারে ১১(১৭) রান করে চার্ল মুম্বার বলে ক্রিস্টোফার পোফুকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নাইম। এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা জয় পরের ওভারে ব্যক্তিগত ১ রানের মাথায় সাজঘরের পথ ধরেন। কিছুটা সময় ব্যাট করে ফিরে যান শাহাতও(২)। প্রথম সেশনের শেষ দিকে লড়াকু ইমনও ফিরে যান। আর আকবর ফিরেন ৩ বল খেলেই।

ফিরে গেলেন ইমন; মধ্যাহ্ন বিরতিতে বিসিবি

মাত্র ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারালেও লড়াই করে যাচ্ছিলেন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন৷ চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক আল আমিনের সাথে ২৯ রানের জুটিও গড়েন তিনি৷ তবে এনডুলভুর দারুণ এক বলে ক্যাচ দিয়ে ব্যাক্তিগত ৩৪ রানে ফিরে যান ইমন এরপর আকবর আলি মাত্র ১ রান করে ফিরে গেলে মহাবিপর্যয়ে পড়ে যায় বিসবি একাদশ৷ এরপ্প্র তানজিদ হাসান ও আল আমিন জুনিয়রের ব্যাটে ভর করে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বিসিবি

শেষ বেলায় হতাশা
১৭৭ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট পতনের পর টিমিসেন মারুমা ও চার্ল মুম্বা বড় জুটি গড়ার আভাস দিচ্ছিলেন। তবে এই জুটিকে ৫০ পূর্ন করতে দেননি আল আমিন জুনিয়র। ৮৯ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ৩৪ রান করা মারুমাকে রিশাদ আহমেদের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। তাতে ভাঙে মারুমা-মুম্বার ৪৯ রানের জুটি। পরবর্তীতে আর কোন উইকেট নিতে পারেনি বোলাররা।

শাহাদতের জোড়া আঘাত
৬ ওভার বাদেই ১৩ রান করা রেজিস চাকাবাকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরালেন শাহাদাত হোসেন দিপু। ১ বল বাদে টিনোটেন্ডা মুতোম্বোজিকেও এলবিডব্লিউ করে ফেরান শাহাদাত। ১৪৬ রানের মাথাতেই ৪র্থ ও ৫ম উইকেট হারিয়ে বিপাকে জিম্বাবুয়ে।

শরিফুল-শাহাদতের পর পর আঘাত
মুজিঙ্গানিয়ামা-আরভিনকে বেশিক্ষণ টিকতে দিলেন না শাহাদত ও শরিফুল। ৪১তম ওভারের পঞ্চম বলে আরভিনকে ব্যক্তিগত ১০ রানে ফেরান শাহাদাত। পরের ওভারেই মুজিঙ্গানিয়ামাকে আকবর আলীর তালুবন্দি করে ব্যক্তিগত ১৭ রানে ফেরান শরিফুল।

ওপেনিং জুটি ভাঙলেন আল আমিন
মধ্যাহ্ন বিরতির পরেই আগেরবার ক্যাচ মিস করা অধিনায়ক আল আমিন জুনিয়রের হাত ধরেই আসলো সাফল্য। ৭৭ বলে ৭ চারে ৪৫ রান করা প্রিন্স মাসভাউরকে আকবর আলির ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফিরিয়েছেন অধিনায়ক আল আমিন জুনিয়র। এদিকে ১০০ বলে ৮ চারে ৫১ রান করে স্বেচ্ছা অবসরে গেছেন কেভিন কাসুজা।

প্রথম সেশন জিম্বাবুয়ের
ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম সেশনটা স্বাগতিক বোলারদের দারুন পরিক্ষা নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরে এবং কেভিন কাসুজা। দলীয় ২৫ রানে শরিফুলের বলে প্রিন্স মাসভাউরে ক্যাচ তুলে দিলেও অধিনায়ক আল আমিন সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন।

এরপর আর কোন ভুল করেনি জিম্বাবুয়ের ওপেনাররা। মধ্যহ্নবিরতিতে কোন উইকেট না হারিয়ে ৯৫ রান তুলেছে তারা। পাঁচ বোলারেও কোন উইকেট এনে দিতে পারেনি স্বাগতিকদের।

বিসিবি একাদশ:
নাঈম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল হাসান জয়, আকবর আলী, আল-আমিন জুনিয়র (অধিনায়ক), ফারদিন হাসান অনি, শরিফুল ইসলাম, সুমন খান, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রিশাদ হোসেন, শাহাদাত হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম।

জিম্বাবুয়ের টেস্ট দল:
সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাভা (উইকেটরক্ষক), ক্রেইগ আরভিন (অধিনায়ক), কেভিন কাসুজা, টিমিসেন মারুমা, প্রিন্স মাসাভরে, ক্রিস্টফার এমপফু, ব্রায়ান মুদজিগানিয়ামা, কার্ল মুম্বা, টিনোটেন্ডা মুতমবাজি, আনিসলে আনডলোভু, ভিক্টর নিয়াউচি, ব্রেন্ডর টেলর, ডোনাল্ট টিরিপানো, চার্লটন টিশুমা।