সর্বকালের সেরা উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান ‘অ্যাডাম গিলক্রিস্টের’ গল্প

অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার একজন গুরুত্বপূর্ন সদস্য, ওয়াসিম আকরাম যাকে সবচেয়ে বিপদ জনক ব্যাটসম্যান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তিনিই হলের অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। গিলক্রিস্ট, সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের উইকেট কিপারের দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, একজন সৎ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বে যে গুটি কয়েক ক্রিকেটার নিজেকে ঘৃণার ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল গিলক্রিস্ট তাদের মধ্যে অন্যতম।

২০০৩ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমি ফাইনালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ব্যাট করছিল গিলক্রিস্ট। অরবিন্দ সিলভার বলে উইকেটের পিছনে সাঙ্গাকারার গ্লাভসে ধরা পড়ল বল। কিন্তু আম্পায়ার নিরব রইলেন, কিন্তু গিলক্রিস্ট পিচ ছেড়ে হাঁটা দিল প্যাভিলিয়নের দিকে। কারন বলটি তার ব্যাট স্পর্শ করেছিল। অবাক হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বকে চমকে দেয় গিলক্রিস্ট। এজন্য সবাই তাকে দ্যা ওয়াকার নামে ডাকে।

প্রাথমিক জীবন :
অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত প্রদেশ নিউ সাউথ ওয়েলসে ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই তারকা ক্রিকেটার। তার ডাক নাম ছিল গিলি ও চার্চ। অস্ট্রেলিয়ার কোন ক্রিকেটার হঠাৎ করে দলে সুযোগ পায় না। তাকে নানা পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করে তবেই দলে স্থান করে নিতে হয়। ১৯৮৯ সালে স্কলারশিপ পেয়ে গিলক্রিস্ট ওল্ড অ্যাক্টোনিয়ান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ধারাবাহিকতা রাখে। ফল শ্রুতিতে ১৯৯১ সালে, অস্ট্রেলিয়ান যুব দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরের সুযোগ পায়। উক্ত সফরে গিলক্রিস্ট একটি শতক ও অর্ধশতক করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। পাশাপাশি উইকেটের পিছনেও দারুন সময় কাটাচ্ছিল। তার ব্যাটিং স্টাইলের বৈচিত্র্য সবাইকে আকৃষ্ট করে। পরের বছর যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমীতে। সেখানে গিলি বিভিন্ন সফরকারী দলের সাথে খেলার সুযোগ পেত। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে নিজ প্রদেশ নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে খেলার। প্রথম মৌসুমে এভারেজ পারফম্যান্স ছিল তার। ৩০ গড়ে করেছিলেন ২৭৪ রান। পরের বছরও তেমন ভাল করতে পারেনি গিলি। তার পরবর্তী মৌসুমে গিলি দল চেইঞ্জ করে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে নামেন। এই মৌসুমে তিনি ৫৫ টি ডিসমিসাল করেছিল যা উইকেট কিপার হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছিল ৩৯৮ রান।

তার পরের মৌসুমে নিজেকে পুরাপুরি মেলে ধরে গিলি। ব্যাট হাতে ৫০.৫২ গড়ে ৮৩৫ রান ও উইকেটের পিছনে ৫৮ টি ডিসমিসাল করে। মিডিয়াতে গিলিকে নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়। একই বছর ইংল্যান্ড সফরে ৭০ গড়ে করেন ৪৯০ রান করে জাতীয় দলে খেলার জন্য বার্তা পৌঁছে দেয় গিলি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট:
তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান উইকেট কিপার ইয়ান হিলির কারনে দলে সুযোগ পাচ্ছিল না গিলক্রিস্ট। কারন নির্বাচকদের আস্থার পাত্র ছিল হিলি। অবশেষে, ইয়ান হিলির ইনজুরিতে পড়লে ১৯৯৬ সালের ২৫ অক্টোবর দক্ষিন আফ্রিকার সাথে অভিষেক ঘটে সর্বকালের সেরা উইকেট কিপারের। কিন্তু শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি গিলির। প্রথম ম্যাচে ১৮ পরের ম্যাচে ০ রান করে দল থেকে ছিটকে পড়ে। আবার সুযোগ মিলে ইয়ান হিলি যখন নিষিদ্ধ হলে, এবারও নিজেকে মেলে ধরতে প্রথমদিকে ব্যর্থ হয় গিলক্রিস্ট। প্রথম ম্যাচে ১ রান করে আউট হয়, দ্বিতীয় ম্যাচে নামার সুযোগ পায় নি। মূলত উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার কারণে তাকে লো আর অর্ডারের শুরুতে নামতে হত। কিন্তু পরের ম্যাচে আর ভুল করে নি গিলি, তার অনবদ্য ৭৭ রান দলের জয়ে ভূমিকা রাখে।

গিলক্রিস্ট যেহেতু আক্রমন করে খেলতে পছন্দ করে তাই তার জন্য শেষের দিকে ব্যাট করা বেশ অসুবিধাজনক ছিল। কিন্তু দলে নিয়মিত না হবার কারণে নির্বাচকরা তাকে সেই সুযোগ দিতে পারে নি। কিন্তু এর জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি গিলিকে। ১৯৯৮ সালের ২৩ শে জানুয়ারীতে ইনিংস শুরু করার দায়িত্ব পান গিলক্রিস্ট। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলে পরের ম্যাচে দারুণ শতক হাকিয়ে নিজের সক্ষমতার জানান দেয়। নির্বাচকের আস্থা ফিরে আসে তার উপর। সেখান থেকেই নিয়মিত ইনিংস শুরুর দায়িত্ব পাকাপোক্ত করে গিলক্রিস্ট। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শকের দারুন উদ্দীপনের সূচনা করত। এরপর থেকে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নিয়মিত রান করে যাচ্ছিল গিলক্রিস্ট। একই সাথে উইকেটের পিছনেও দারুণ সময় কাটাচ্ছিল গিলি।

বিশ্বকাপ ১৯৯৯, অভিষেক ঘটে গিলক্রিস্টের। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩৯ বলে ৬৩ ও ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৬ বলে ৫৪ রানের কার্যকরী দুটি ইনিংস খেলে গিলক্রিস্ট। প্রথম বিশ্বকাপেই চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে গিলি। তার সবচেয়ে বড় পাওয়া তার দলের অন্যান্য তারকা সদস্যরা। অপরাজেয় একটি দলের সদস্য হিসেবে গিলি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করত। গিলক্রিস্ট নিজেই এক সাক্ষাতকারে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিল।

টেস্টে অভিষেক হবার জন্য সব ক্রিকেটারকেই কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। গিলিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ১৯৯৯ সালের ৫ নভেম্বর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে অভিষেক ঘটে তার। অভিষেকেই ৮৮ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে দারুন ভূমিকা রাখে গিলি। দ্বিতীয় ইনিংসে তাকে ব্যাট করতে নামতে হয় নি। অস্ট্রেলিয়া দশ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাড়ায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়াকে ৩৬৯ রানের টার্গেট দিলে অস্ট্রেলিয়া ১২৬ রানেই পাচ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ব্যাটিং নামে গিলক্রিস্ট, শুরু করে তান্ডব। তার অতি মানবীয় ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের দাড় প্রান্তে নিয়ে যায়। ১৬৪ বলে ১৩ চার আর ১ ছক্কায় করের ১৩৯ রান। পাকিস্তানের বোলিং লাইন আপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের রাজত্ব কায়েম করেছিল গিলক্রিস্ট। টেস্টে গিলক্রিস্ট ধারাবাহিক ভাবেই পারফম্যান্স বজায় রাখে। ওয়ানডে তে শুরুতে ব্যাটিং করলেও টেস্টে সাত নাম্বার পজিশনে নিয়মিত ব্যাট করতেন।

বিশেষ করে ২০০৫ সালে ফতুল্লায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ফলো অনে পড়তে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে তার মহা মূল্যবান ১৪৪ রানের ইনিংস শুধু অস্ট্রেলিয়াকে রক্ষাই করে নি বরং জয় এনে দিয়েছে। আশা জাগিয়েও জয় বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ৯৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদেই পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

টি-২০ ফরমেটেও সমান ভাবে সাফল্যের দেখা পেয়েছে গিলক্রিস্ট। মূলত তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইলই তাকে আলাদা সুবিধা প্রদান করত। টি-২০ তে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪১! যদিও ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে খুব কম ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-২০ লীগে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সর্বকালের সেরা উইকেট কিপার:
ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতেন গতি দানব হবে, কিন্তু জীবনের রূপকথার গল্পে তিনি হয়ে গেলেন সর্বকালের সেরা উইকেট কিপার। বাবা মার সাথে বাল্যকালে শপিং করতে গিয়ে এক জোড়া গ্লাভসে তার চোখ আটকে যায়। জিদ চেপে যায় গিলির, গ্লাভস জোড়া তার চাই ই চাই। বাধ্য হয়ে সেই গ্লাভস তাকে কিনে দিতে হল গিলির বাবাকে। সেই গ্লাভস পড়া ছেলেটি একদিন বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা গ্লাভস ম্যান ভনে যায়।

উইকেট কিপিং, ক্রিকেটের অত্যন্ত কষ্টকর একটি পজিশন। যেখানে অমনোযোগী হবার কোন সুযোগ নেই। পুরো ম্যাচ জুড়েই সতর্ক থাকতে হয় তাকে। শুধু সতর্ক থাকলেই চলবে না, করতে হবে স্টাম্পিং, রান আউটের মত বিষয় গুলোতে তাকে অবদান রাখতে হয়। ক্রিকেট ইতিহাসের শুরু দিকে উইকেট কিপারদের জন্য আলাদা স্থান ছিল কিন্তু বর্তমান আধুনিক ক্রিকেটে কিপিং করলেই চলে না সাথে প্রয়োজন ভালো ব্যাটিং দক্ষতা। গিলক্রিস্ট দুই গুণের ই অধিকারী ছিল।

গিলক্রিস্ট উইকেটের পিছনে ছিল বাজ পাখির মত। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সব গতি দানবদের একাই সামাল দিতেন দক্ষতার সহিত। তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে করেছেন ৮৮৮ টি ডিসমিসাল! যা অত্যন্ত ঈর্ষনীয় একটি সাফল্য। শ্রীলংকার সাবেক উইকেট কিপার ও কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা, গিলক্রিস্ট সম্পর্কে বলেছিল, “একজন উইকেট কিপার হিসেবে সে ছিল অপতিরোধ্য, বর্তমান সময়ের উইকেট কিপারদের জন্য যা অনুকরণীয়”।

ব্যক্তিগত জীবনে গিলক্রিস্ট, তার স্কুল জীবনের প্রেমিকা মেলিনডাকে বিয়ে করেন। স্কুল জীবন থেকেই প্রণয় তারপর বিয়ে করেন তারা। গিলি দম্পতির তিন ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ক্রিকেট জীবনের বাইরে গিলক্রিস্ট তার পরিবারকে সব সময়ই সময় দেবার চেষ্টা করত। এক সাক্ষাতকারে সে বলেছিল সন্তানের সময় দেবার জন্যই সে তার ক্যারিয়ার দ্রুত শেষ করতে চায়।

গিলক্রিস্টের অর্জন ও পুরস্কার :
এক দিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে গিলক্রিস্ট, ২৮৭ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৫৫ টি অর্ধশতক ও ১৬ টি শতকের সাহায্যে, ৩৫.৮৯ গড়ে করেছেন ৯৬১৯ রান। তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল ১৭২ রান। অপরদিকে, টেস্ট ক্যারিয়ারে গিলক্রিস্ট ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৯৬ টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ৪৭.৬০ গড়ে করছেন ৫৫৭০ রান। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। রয়েছে ৫৭ বলে দ্রুততম শতকের রেকর্ডও। টেস্টে তার অর্ধ শতকের সংখ্যা ২৬ টি, আর শতকের সংখ্যা ১৭ টি। টেস্টে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ২০৪* রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র ১৩ টি টি-২০ ম্যাচে ১৪৭ স্ট্রাইক রেটে ২৭২ রান, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৮ রান। তাছাড়া উইকেটের পিছনে রয়েছে ৮৮৮ টি ডিসমিসালের রেকর্ড।

প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ১০০ টি ছক্কা মারার বিরল রেকর্ড গড়ে গিলক্রিস্ট।

একজন উইকেট কিপার হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ ১৭ টি শতকের মালিক।

স্যার ভিভ রির্চাসন ও মিজবাহ উল হকের পর দ্বিতীয় দ্রুততম টেস্ট শতকের মালিক, যেটা করেছিল মাত্র ৫৭ বলে।

কুমার সাঙ্গাকারার পর ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডিসমিসাল ও শতকের মালিক। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ৬ টেস্ট ও ১৫ ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছে গিলক্রিস্ট।

প্রথম উইকেট কিপার হিসেবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ৫০+ ডিসমিসালের মালিক গিলি।

২০০৩ বিশ্বকাপে একাই ২৩ টি ডিসমিসালের রেকর্ডটিও গিলির দখলে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে দ্রুততম শতক ও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের (১৩৯) মালিক গিলক্রিস্ট।

শুধু তাই নয় একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে পরপর তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫০+ রান করার একক রেকর্ডটিও গিলির অনন্য অর্জন। সেই সাথে টানা তিনটি বিশ্বকাপ জয়ী একমাত্র উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানটির নামও গিলক্রিস্ট।

এক যুগের ক্যারিয়ারে গিলক্রিস্টের যা অর্জন, তা অন্য কোন উইকেট কিপারের পক্ষে সম্ভব হয় নি। একবার স্টিভ ওয়াহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার নেতৃত্ব থাকা অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটার কে?

স্টিভ ওয়াহ শেন ওয়ার্ন, গ্রেন মেগ্রা মত তারকাদের বাদ দিয়ে যার নামটি বলেছিল, সে হল অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তিনি বলেছিলেন, তার মত এত দ্রুত কেউ ম্যাচের দৃশ্য পট পরিবর্তন করতে পারে না। শুধু তাই নয় এক বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায়ও গিলিকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখেন তিনি।

★★★গিলক্রিস্ট ২০০২ সালে উইজডেন বর্ষ সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়। পরপর দুই বছর (২০০৩ & ২০০৪) অস্ট্রেলিয়ার সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়।

★★★একই বছর অর্জন করেন এলেন বোর্ডার মেডেল।

★★★২০০৪ সালে জায়গা করে নেয় Richie Benaud’s Greatest XI এবং নির্বাচিত হয় বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলার জন্য।

★★★২০০৪-০৫ সালে বোলারদের ভোটে সেরা ভয়ংকর ব্যাটসম্যানের তকমা অর্জন করে।

★★★২০০৭ সালে, espncricinfo জরিপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা একাদশের ওপেনিং ব্যাটসম্যান ও উইকেট কিপার নির্বাচিত হয়।

★★★২০১২ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ২০১৩ সালে আইসিসির মর্যাদা পূর্ণ Hall Of Fame এ স্থান পায় গিলক্রিস্ট।

গিলক্রিস্টের অবসর জীবন:
ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করা অস্ট্রেলিয়ার, জাত ক্রিকেটার হিসেবে নিজের সর্বোচ্চটা দেবার চেষ্টা করেছেন গিলা। ব্যাট আর গ্লাভস হাতে অনন্য ছিল পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে। শাসন করেছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের, উইকেটের পিছনে থেকে বাজ পাখির মত দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানেন গিলক্রিস্ট। একই বছরের শুরুতে ইতি টানেন টেস্ট ক্রিকেট থেকে। তার অ সময়ে অবসর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ায় শূন্যতা সৃষ্টি করে, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধও তাকে ফিরাতে পারে নি ক্রিকেটে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে অবসরের পর খেলেছেন বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লীগে। ডেকেন চার্জাসের হয়ে আইপিএল শিরোপাও জিতেছেন গিলি। জীবনের সর্বশেষ ম্যাচে, হরভজনের উইকেটটি ছিল তার পুরো ক্যারিয়ারের একমাত্র উইকেট! বির্তক থাকতে পারে, সর্বকালের সেরা উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নিয়ে, তবে সকল সমালোচনার আলোকে বলা যায় গিলক্রিস্টের অর্জনই তাকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখে নিঃসন্দেহে।

[লেখাটি সংগ্রহিত: উজ্জ্বল আহমেদ/ইতিবৃত্ত]